সাহিত্যে নোবেল পেলেন কানাডার অ্যান কারসন
আজকাল রিপোর্ট
সাপ্তাহিক আজকাল
প্রকাশিত : ০৭:১৭ এএম, ১০ অক্টোবর ২০২৬ শনিবার
কানাডার সাহিত্যিক অ্যান কারসন এ বছর সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন। নোবেল কমিটির পক্ষ থেকে তাঁকে ফোন করে এ সম্মাননার কথা জানানো হয়। বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সময় বিকেল ৫টায় তার নাম ঘোষণা করে নোবেল কমিটি। ৭৬ বছর বয়সী অ্যান কারসন কবিতা ও গদ্যের মিশ্রণে তৈরি তার ব্যতিক্রমী লেখার জন্য পরিচিত। সমকালীন গল্পের সঙ্গে প্রাচীন পুরাণের সমন্বয়ও তার লেখার অন্যতম বৈশিষ্ট্য। জীবনে সবচেয়ে সাফল্যের খবরটি তিনি যখন পান তখন আইসল্যান্ডে নিজের বাসায় ঝাড়ুু দিচ্ছিলেন।
তাঁর উল্লেখযোগ্য কাজের মধ্যে রয়েছে ১৯৯৮ সালে প্রকাশিত পদ্য উপন্যাস ‘অটোবায়োগ্রাফি অব রেড’। এতে গ্রিক পুরাণের বীর হেরাক্লিসকে নিয়ে লেখা একটি কবিতার নতুন রূপ দেওয়া হয়েছে এবং সমকামী এক তরুণের বেড়ে ওঠার গল্প তুলে ধরা হয়েছে। নোবেল কমিটির চেয়ারম্যান অ্যান্ডার্স ওলসন অ্যান কার্সনের সাহিত্যকর্মের প্রশংসা করে বলেন, তাঁর লেখার মাধ্যমে কবিতা, প্রাচীন সাহিত্য, আধুনিক সাহিত্য এবং বিভিন্ন শিল্পমাধ্যমের মধ্যে নতুন ধরনের সম্পর্ক তৈরি হয়েছে। তাঁর সৃষ্টিশীলতা সাহিত্যের প্রচলিত সীমারেখাকে আরও বিস্তৃত করেছে।
শব্দের উৎপত্তি অ্যান কার্সনের সাহিত্যচর্চার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তিনি নিজেই শব্দের উৎপত্তিকে তাঁর কাজের সূচনাবিন্দু হিসেবে উল্লেখ করেছেন। একটি শব্দ কীভাবে সময়ের সঙ্গে অর্থ পরিবর্তন করে এবং মানুষের চিন্তা ও অভিজ্ঞতার সঙ্গে নতুন অর্থ তৈরি করে, তাঁর লেখায় সেই অনুসন্ধান বারবার উঠে এসেছে।
সাহিত্য সমালোচকদের কাছেও অ্যান কার্সনের কাজ বিশেষভাবে আলোচিত। কবিতা, অনুবাদ, প্রাচীন সাহিত্য ও সমকালীন চিন্তাকে একসঙ্গে ব্যবহার করে তিনি যে স্বতন্ত্র সাহিত্যভাষা তৈরি করেছেন, এবারের নোবেল পুরস্কারের মাধ্যমে তারই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি মিলল।
অ্যান কার্সনের এই পুরস্কারের মধ্য দিয়ে কানাডার সাহিত্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনায় এসেছে। দীর্ঘ সময় ধরে কবিতা, অনুবাদ ও শিক্ষাদানের পাশাপাশি সাহিত্য নিয়ে তাঁর নিরীক্ষাধর্মী কাজ এবারের সম্মানের অন্যতম ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। আগামী ১০ ডিসেম্বর আলফ্রেড নোবেলের মৃত্যুবার্ষিকীতে সুইডেনের রাজধানী স্টকহোমে আনুষ্ঠানিকভাবে নোবেল পুরস্কার প্রদান করা হবে। অনুষ্ঠানে সুইডেনের রাজা ষোড়শ কার্ল গুস্তাফ বিজয়ীদের হাতে নোবেল পদক ও সনদ তুলে দেবেন। পরে স্টকহোম সিটি হলে নোবেল বিজয়ীদের সম্মানে ঐতিহ্যবাহী ভোজের আয়োজন করা হবে।
