শনিবার   ১০ অক্টোবর ২০২৬   আশ্বিন ২৪ ১৪৩৩   ২৭ রবিউস সানি ১৪৪৮

মাফ করবেন খোকন

কমিউনিটির মুখোশ উন্মোচন

আজকাল রিােপর্ট

সাপ্তাহিক আজকাল

প্রকাশিত : ০৬:৫১ এএম, ১০ অক্টোবর ২০২৬ শনিবার


 
নিখোঁজের ৫ দিন পর মিললো কাজি আজিজুল হক খোকনের (৫৭) মরদেহ। দৈন্যতা প্রকাশ পেল বাংলাদেশি কমিউনিটির। নেতৃত্বের সমন্বয়হীনতার স্বাক্ষর হয়ে থাকবে। শনিবারই মারা গেলেন খোকন। রাস্তায় পড়েছিল দেহ। পথচারিরা পুলিশ খবর দেয়। জামাইকা হাসপাতালে নিলে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়। ব্রুকলিনে মর্গে পাঠানো হয়। ৫ দিন পড়ে থাকলো লাশ। সবই রেকর্ডেড। অথচ সোমবার খোকনের রাজনৈতিক অনুসারি ও বন্ধু মহল বললেন, সব হাসপাতাল ও প্রিসিংকটে খোজ নেয়া হয়েছে। তার কোন হদিস নেই। বুধবার খোকনকে খুজেঁ বের করতে আওয়ামী ঘরণার নেতৃবৃন্দ জ্যাকসন হাইটসে বৈঠকে বসেন। বক্তাদের অধিকাংশই আশংকা প্রকাশ করেন, তাকে আইস পুলিশ ধরে নিয়ে যেতে পারে। আর বাস্তব চিত্রটা ছিল তারা হাসপাতাল কিংবা থানায় খোঁজটা পর্যন্ত নেননি। অথচ সেই সভায় কত পরিকল্পনা। কমিটি গঠন। কত কি? একজন মানুষ নিখোঁজ হবার ৫ দিন পর লাশ পাওয়া কমিউনিটিকে লজ্জায় ফেলে দিয়েছে। 
নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসে গেলেই দেখা মিলতো এই খোকনের। খামারবাড়ি গ্রোসারী ও নবান্ন রেষ্টুরেন্ট সংলগ্ন অবকাস স্টোরে কাজ করতেন তিনি। রাজনীতির সাথেও জড়িত ছিলেন। যুক্তরাষ্ট্র শ্রমিক লীগের সভাপতি । গত ৫ দিন নিখোঁজ থাকার পর তার লাশ পাওয়া যায় মর্গে। ৫ দিন পর আওয়ামী লীগ সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমান বুধবার জামাইকা হাসপাতালে টেলিফোন করলে খোকনের সন্ধান মেলে। আজ শুক্রবার বাদ জুম্মা তার নামাজে জ্যাকসন হাইটসের ডাইভারসিটি প্লাজায় অনুষ্ঠিত হবে। সন্ধ্যায় মরহুমের লাশ মাগুড়ায় পাঠানো হবে। 
বাংলাদেশ সোসাইটির উদ্যোগ
বাংলাদেশ সোসাইটি মরহুমের ফিউনারেল খরচ ও বাংলাদেশে প্রেরণের খরচ বহন করছে। যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমান প্রতিবেদককে বলেন, সোসাইটি খোকনের জন্য এগিয়ে এসেছে। এ জন্য ধন্যবাদ। আমরা দলীয়ভাবে কিছু অর্থ সংগ্রহ করে দেশে তার পরিবারের কাছে পাঠানোর চিন্তা করছি।

 

ইরান যুদ্ধে নিহত সেনা পরিবারগুলোর ট্রাম্পের আমন্ত্রনে না

ইরান যুদ্ধে নিহত সৈন্যদের পরিবারগুলোর ট্রাম্পকে না বললেন। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ‘গোল্ডস্টার’ পরিবারগুলোর অধিকাংশই ট্রাম্পের আমন্ত্রনে সাড়া দেননি। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প মঙ্গলবার মঙ্গলবার হোয়াইট হাউসে যুক্তরাষ্ট্রের অতীতের বিভিন্ন সংঘাতের ঘটনায় নিহত সেনাদের পরিবারবর্গের (যাদের 'গোল্ড স্টার ফ্যামিলিস' বলা হয়) সাথে এক অনুষ্ঠানে যোগ দেন। সেখানে কুয়েতের শুয়াইবা বন্দরে ১ মার্চ ইরানের হামলায় নিহত ৬ সৈন্যের পরিবারের স্বজনদেরও আমন্ত্রন জানিয়েছিলেন। ৬ সেনা পরিবারের মধ্যে মাত্র একজন সৈন্যের পরিবার তার আমন্ত্রনে সাড়া দিয়ে হোয়াইট হাউজে গিয়েছিল। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধে নিহত সৈন্যদের পরিবারের সদস্যদের  সান্ত্বনা জানান। সেখানে নিহত সেনাদের স্মরণে মোমবাতি প্রজ্বলন করা হয়।

ইরান যুদ্ধের সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলায় নিহত ছয় সেনার পরিবারের মধ্যে ৪ পরিবারই এই অনুষ্ঠানে যোগ দেয়নি। ওই হামলায় বেঁচে যাওয়া সেনারা প্রশ্ন তুলেছেন যে, কেন তাদের এমন একটি স্থানে মোতায়েন করা হয়েছিল যেখানে পর্যাপ্ত আকাশ-সুরক্ষা ব্যবস্থা ছিল না এবং যা সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচিত হতো।

মিশেল টিটজেনস ও অন্যান্য স্বজনরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, তাদের প্রিয়জনদের সুরক্ষায় যথেষ্ট পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল কি না-সে বিষয়ে সেনাবাহিনী এখনও কোনো জবাব দেয়নি। তবে টিটজেনস ও তাঁর কিশোর বয়সী ছেলে নেব্রাস্কার বেলভিউ থেকে এই অনুষ্ঠানে যোগ দিতে এসেছিলেন। কুয়েতে ইরানি ড্রোন হামলায় নিহত মাস্টার সার্জেন্ট নোয়াহ টিটজেনসের (যিনি আরও পাঁচজন আর্মি রিজার্ভ সেনার সাথে প্রাণ হারিয়েছিলেন) স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতেই তাঁরা সেখানে গিয়েছিলেন।
নিহত মেজর কোডি খোর্ক’র মা ডোনা বুরহানস নিজেকে দাবি করেছেন ট্রাম্পের সর্মথক হিসেবে। কিন্তু বারবার শোকের স্মৃতিকে মনে করা কষ্টদায়ক বিধায় তিনি অনুষ্ঠানে যোগ দেননি।

টিটজেনস বলেন, "শুরুতে আমি যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম কারণ আমার ছেলে যেতে চেয়েছিল। তবে পরে আমিও দেখতে চেয়েছিলাম অনুষ্ঠানটি আসলে কী নিয়ে। তাছাড়া আমার স্বামীর স্মৃতির প্রতি সমর্থন জানাতেও আমি যেতে চেয়েছিলাম।"

তিনি জানান, তাঁরা হোয়াইট হাউসের কয়েকটি কক্ষ ঘুরে দেখেন এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পের সাথে ছবি তোলেন। টিটজেনস বলেন, প্রেসিডেন্ট তাঁদের বলেছিলেন যে, তাঁর যদি ওই কিশোরের মতো ঘন কোঁকড়ানো চুল থাকত, তবে তিনি খুশি হতেন।

টিটজেনস বলেন, এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠান "আমার প্রশ্নের উত্তর পাওয়ার বিষয়ে আমার মনোভাব বদলায়নি"। তবে তিনি যোগ করেন যে, হোয়াইট হাউসের এক ব্যক্তির সাথে তাঁর কথা হয়েছে যিনি সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন।

সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহে পালিত 'গোল্ড স্টার মাদারস অ্যান্ড ফ্যামিলিস ডে' (নিহত সেনাদের মা ও পরিবারের প্রতি সম্মান জানানোর দিবস) উপলক্ষে হোয়াইট হাউজে এই বার্ষিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, এবারের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে ভিয়েতনাম যুদ্ধ থেকে শুরু করে বিভিন্ন সংঘাতের ঘটনায় নিহত প্রায় ৪০ জন সেনার প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়েছে।

২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ১৯ জন সেনা নিহত এবং ৮০০ এরও বেশি সেনা আহত হয়েছেন। টিটজেনস জানান, সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি মেজর জেফরি আর. ও’ব্রায়েন এবং পিএফসি ইসাবেলা গঞ্জালেজের পরিবারের সদস্যদেরও দেখেছিলেন। মেজর ও’ব্রায়েন পোর্ট শুয়াইবায় নিহত হয়েছিলেন এবং পিএফসি গঞ্জালেজ ১৭ জুলাই জর্ডানের মুওয়াফফাক সালতি বিমান ঘাঁটিতে ইরানি হামলায় প্রাণ হারিয়েছিলেন।

১লা মার্চের হামলায় ঠিক কী ঘটেছিল, সে বিষয়ে পরিবারগুলো এখনও উত্তরের অপেক্ষায় রয়েছে। কুয়েতের ওই হামলার বিষয়ে পেন্টাগনের কাছ থেকে পর্যাপ্ত তথ্য না পাওয়ায় ‘গোল্ড স্টার’ পরিবারগুলো (যাদের স্বজনরা যুদ্ধে প্রাণ হারিয়েছেন) হতাশা প্রকাশ করেছে।
 হোয়াইট হাউজের আমন্ত্রনে সাড়া দেননি জোই আমোর। তার ৩৯ বছর বয়সী স্ত্রী মাস্টার সার্জেন্ট নিকোল এম. আমোর নিহতদের মধ্যে ছিলেন। সোমবার ফেসবুকে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, “হামলার আগে কী ঘটেছিল, কী তথ্য পাওয়া গিয়েছিল, কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল এবং ছয়জন মার্কিন সেনার প্রাণ হারানোর ঠিক আগের মুহূর্তগুলোতে কী ঘটেছিল-তা নিয়ে নানা প্রশ্ন রয়েছে। আমি আর চুপচাপ জানতে চাইব না। আজ আমি আমেরিকান জনগণের কাছে আহ্বান জানাচ্ছি, তারা যেন এই ছয়টি পরিবারের পাশে দাঁড়ান এবং স্বচ্ছতার দাবি জানান।”

হামলায় আহত মার্কিন সেনারা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি)-কে জানিয়েছেন যে, সম্ভাব্য হুমকি নিয়ে তাঁরা যে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন তা আমলে নেওয়া হয়নি। এছাড়া হামলার পরবর্তী সপ্তাহগুলোতে সামরিক চিকিৎসা ব্যবস্থা তাঁদের যথাযথ সেবা দিতে ব্যর্থ হয়েছে বলেও তাঁরা অভিযোগ করেন। ১লা মার্চের হামলার বিষয়ে এপি-র প্রতিবেদনটি ১৩ জন সেনার সাক্ষাৎকারের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে।

পোর্ট শুয়াইবা হামলার বিষয়ে এপি-র প্রতিবেদনের ওপর কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে সেনাবাহিনী। তারা জানিয়েছে, হামলায় নিহতদের পরিবারকে তদন্তের ফলাফল সম্পর্কে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি (যদিও তদন্তটি জুন মাসেই সম্পন্ন হয়েছে)। সেনাবাহিনী আরও জানিয়েছে যে, তদন্তের ফলাফল প্রকাশের আগে তারা সংবেদনশীল তথ্যগুলো বাদ দেওয়ার কাজ করছে। পেন্টাগনও এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।

আইওয়া-ভিত্তিক সংগঠন ‘স্যালুট টু দ্য ফলেন’ এর প্রতিষ্ঠাতা এবং সেনাবাহিনীর সাবেক সার্জেন্ট জন থম্পসন বলেন, যুদ্ধে নিহত সেনাদের সম্মান জানানো রাজনীতির ঊর্ধ্বে। বেশ কয়েকটি পরিবার তাঁকে বলেছে, অনুষ্ঠানটি সম্পর্কে তারা পর্যাপ্ত সময় হাতে রেখে বা আগেভাগে কোনো নোটিশ না পাওয়ায় সেখানে উপস্থিত হতে পারেনি। অন্তত দুটি পরিবার জানিয়েছে যে তারা কোনো আমন্ত্রণপত্র পায়নি। (তথ্যসূত্র-এপি,এবিসি ৮ নিউজ বোস্টন হেরাল্ড)।