ব্রংকসে এগিয়ে সেলিম-আলী: ব্রুকলিনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই
মনোয়ারুল ইসলাম
সাপ্তাহিক আজকাল
প্রকাশিত : ০৬:৪৯ এএম, ১০ অক্টোবর ২০২৬ শনিবার
বাংলাদেশ সোসইটির নির্বাচন জমে উঠেছে। আগামী ২৫ অক্টোবর সিটির ৫টি কেন্দ্রে একযোগে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। কেন্দ্রগুলো হচ্ছে উডসাইড, জামাইকা, ব্রুকলিন (চার্চ ম্যাকডোনাল্ডস), ওজনপার্ক ও ব্রংকসের পার্ক চেষ্টার। নির্বাচনে সেলিম-আলী ও কুনু-ফিরোজ প্যানেল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। এর বাইরে এককভাবে সাধারন সম্পাদক পদে নির্বাচন করছেন রাব্বী সৈয়দ। সাপ্তাহিক আজকাল কেন্দ্রভিত্তিক নির্বাচন নিয়ে আলোচনা ও জরিপের ভিত্তিতে রিপোর্ট করছে। এ সংখ্যায় ব্রংকস ও ব্রুকলিন নিয়ে রিপোর্ট প্রকাশ করা হলো। আগামী সপ্তাহে প্রকাশিত হবে ওজনপার্ক ও জামাইকা নিয়ে
বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচন ঘিরে প্রতিদিন ব্রংকসের পার্কচেষ্টারে বসছে ভোটারের মেলা। তা ফাইভ স্টার রেষ্টুরেন্ট, হাসান চাইনিজ, নিরব রেষ্টুরেন্ট, মান্নান বেকারি কিংবা আল আকাসায়। জটলা কিংবা আড্ডা। সর্বত্রই নির্বাচনী আলোচনা। চুলছেড়া বিশ্লেষন চলছে। কোন প্যানেল জিতবে ২৫ অক্টোবরের নির্বাচনে। সেলিম-আলী নাকি কুনু-ফিরোজ। সাধারন ভোটাররা বলছেন, এবার একক নিরংকুশভাবে কোন প্যানেল জিততে নাও পারে। কিছু পদে ২ প্যানেলের ভাগাভাগি হবে। তবে তা নির্ভর করছে ভোটের দিন কোন প্যানেল তার সর্মথকদের বেশি পরিমানে ভোট কেন্দ্রে আনতে পারেন। তবে ব্রংকসে এগিয়ে সেলিম-আলী প্যানেল। ব্যবধানটি কত হবে তা ভোটের দিনই দেখা যাবে।
ব্রংকস কেন্দ্রে মোট ভোটার প্রায় ৭ হাজার। ভোট বানানোর বিবেচনায় ব্রংকসে এগিয়ে সেলিম- আলী প্যানেল। সেলিমের অনুসারিদের দাবি অনুসারে তারা ভোট তুলেছেন প্রায় ৫ হাজার। তাদের দাবির প্রেক্ষিতে বলা যায়, কুনু-ফিরোজ প্যানেলের ভোট ২ হাজার। কিন্তু পার্কচেষ্টারে হাঁটতে গিয়ে দেখা যায় ভিন্ন চিত্র। ২ প্যানেলেরই প্রচারণা চলছে সমান্তরালে। বোঝার উপায় নাই কোন প্যানেল এগিয়ে। মজার ব্যাপার হচ্ছে, সেলিম-আলী প্যানেলের হয়ে গত নির্বাচনে যারা কাজ করেছেন, তাদের অনেকেই এখন কুনু-ফিরোজ প্যানেলে। স্থানীয় সিলেটবাসীরা সার্প ২ ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছেন। তাদেরই ২ সন্তান সেলিম ও কুনু উভয়েই সভাপতি পদপ্রার্থী। ভোটাররা বলছেন, তারা ২ জন আবার ব্যবসায়িক পার্টনারও। তারপরও ২ নৌকায় পা তাদের। গত নির্বাচনে এই আজমল হোসেন কুনুই ছিলেন সেলিম-আলী প্যানেলের পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান। এবার মুখোমুখি লড়ছেন সেলিমের বিরুদ্ধেই। এতে ব্রিবত সিলেটের ভোটাররা।
ব্রংকসে সেলিম-আলী প্যানেলের হয়ে কাজ করছেন মাহবুব আলম,রেজা আব্দুল্লাহ, আব্দুল হাসিব হাসনু, শামীম আহমেদ, রবিউজ্জামান, মমিনুল ইসলাম,আব্দুর রব ধলা মিয়া,লোকমান হোসেন লুকু ও রোকন হাকিম সহ অনেকে।
কুনু-ফিরোজ পরিষদের পক্ষে প্রচারনা চালাচ্ছেন জগলুল আহমেদ চৌধুরী, সোলায়মান ইসলাম, গোল্ডেন প্যালেসের মালিক বেলাল হোসেন, জামিল আনসারি, গউস উদ্দীন, জাকির চৌধুরী সিপিএ, সোলায়মান ভূঁইয়া ও মাইন উদ্দিন নটু সহ অনেকেই। গোল্ডেন প্যালেসের বেজমেন্টে কুনু-ফিরোজ পরিষদের অফিসও উদ্বোধন করা হয়েছে। এই প্যানেলের একজন সমন্বয়ক সোলায়মান ইসলাম ভোট বানানের দৌড়ে ব্রংকসে তাদের পিছিয়ে থাকার কথা অকপটে স্বীকার করেন। তবে তিনি বলেন, গতবারের ভোটার তালিকা দেখে গনহারে সেলিম ভাইরা ভোট বানিয়েছে। এর অনেক ভোটই তাদের ট্রাকে নেই। হদিসও নেই। তারা বেশি ভোট বানানোর দাবি করলেও বাস্তবে তত নয়। সোলায়মান ইসলাম বলেন, আমরা ভোট করেছি গুনে গুনে। প্রত্যেকের সাথে আমাদের যোগাযোগ আছে। আমাদের ভোটারদের কেন্দ্রে নিতে পারলেই ফলাফল পাল্টে যাবে। মানুষ পরিবর্তন দেখতে চায়। তা দেখার জন্যই তারা ভোট কেন্দ্রে যাবেন। কে ভোট বানালো তা অনেকাংশেই কাজ করবে না।
সেলিম-আলী প্যানেলের পরিচালনা কমিটির কেন্দ্রীয় নেতা রোকন হাকিম প্রতিবেদককে বলেন, গেল নির্বাচনে ব্রংকসে সেলিম-আলী প্যানেল ১২০০ ভোটের ব্যবধানে জয়লাভ করেছিল। এবার এ ধরনের ব্যবধানই হবে বলে আমার বিশ্বাস। সেলিম-আলী প্যানেল ভোট সংখ্যার বিবেচনায় ব্রংকসে অনেক এগিয়ে আছে। ব্রংকসে বাংলাদেশি কমিউনিটির অধিকাংশ মানুষই সেলিম-আলীকে বেছে নিবে বলে আমার বিশ্বাস।
কুনু-ফিরোজ প্যানেলের সাধারন সম্পাদক পদপ্রার্থী ফিরোজ আহমেদের হোম টাউন ব্রুকলিন। তার আঙ্গিনায় কি কৌশল সেলিম-আলী প্যানেলের। গত নির্বাচনে তারা রুহুল-মিন্টু প্যানেলের বিপরীতে বড় ব্যবধানে হেরে ছিলেন ব্রুকলিন কেন্দ্রে। সেখানে তখন বড় ফ্যাক্টর ছিল সেক্রেটারি প্রার্থী জাহিদ মিন্টু। তিনি হচ্ছেন নোয়াখালির সন্তান। নোয়াখালি অঞ্চলের বিপুল পরিমান মানুষ ব্রুকলিনে বাস করে। এবার সেলিম-আলীর বিপরীত প্যানেলে মিন্টু নেই। সে কারনে সেখানে এবার ভালো করার আশাবাদী সেলিমরা। ফিরোজ আহমেদের কয়েক যুগ বসবাস সেখানে । সন্দ্বীপের অধিকাংশ মানুষ ব্রুকলিনে বাস করেন। সন্দ্বীপ সোসাইটির সভাপতিও ফিরোজ। আঞ্চলিকতার বিচারে জাহিদ মিন্টুর মতো ফিরোজও ভালো করতে চাইবেন। ব্রুকলিন কেন্দ্রে মোট ভোট সাড়ে ৫ হাজার। ফিরোজ আহমেদ এককভাবে ভোট করেছেন আড়াই হাজারের মতো। তবে তার সব ভোট এই কেন্দ্রের নয়। ৭ শতাধিক ভোট ছড়িয়ে ছিটিয়ে। ব্রুকলিন কেন্দ্রের বড় স্টকহোল্ডার নোয়াখালি, সন্দ্বীপ ও চট্রগ্রামের লোকজন। নোয়াখালির ভোটাররা এবার ২ ভাগে বিভক্ত। রব মিয়া কাজ করছেন কুন-ু ফিরোজের সাথে। আছেন সৈয়দ আজাদ,মির্জা হোসেন, জাকির এইচ চৌধুরী,মফিজুর রহমান ও রহমত উল্লাহ সহ অনেকে। নোয়াখালি সমিতির সাধারন সম্পাদক মাঈনুদ্দিন পিন্টু সহ নাজমুল হাসান মানিক,তাজুল ইসলাম ও খোকন মোশাররফ সেলিম-আলী পরিষদের সাথে জড়িত। সভাপতি জাহিদ মিন্টু কৌশলী ভূমিকা নিয়েছেন। কোন পক্ষকেই সর্মথন জানাননি। তারা ভোট করেছেন প্রায় ১৫ শ’র মতো। এই উপজেলার ৫ জন প্রার্থী রয়েছেন সেলিম-আলী প্যানেল থেকে। তারা হলেন হারুন চেয়ারম্যান,এএসএম মঈন উদ্দীন বাবলু, জাহাঙ্গীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী, আব্দুল মান্নান ও আব্দুল মালেক খান। নোয়াখালির অপর একটি গ্রুপও সেলিম-আলী প্যানেলের পক্ষে সরাসরি কাজ করছেন। এ অংশের নেতৃত্ব দিচ্ছেন নাঈম টুটুল, হারুন চেয়ারম্যান ও জাহাঙ্গীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী। তারা ভোট তুলেছেন ১ হাজারের ওপরে। তবে ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য হওয়ায় নির্বাচনী মাঠে নামতে পারছেন না টুটুল। এ বিবেচনায় সেলিম-আলী প্যানেল নোয়াখালি এলাকার বেশি ভোট পাবেন বলে ধারণা করছেন অনেকে। তবে কুনু-ফিরোজ প্যানেলের সর্মথকরা কবর কেনা নিয়ে নোয়াখালি সমিতির সাথে সেলিম-আলীর পূরনো দ্বন্দ্বকে কাজে লাগাতে চাইছেন। নোয়াখালি থেকে কুনু-ফিরোজ প্যানেলে নির্বাচন করছেন ২ জন। তারা হলেন মঈন উদ্দীন নুটু ও মোরশেদ আলম। নুটু থাকেন ব্রংকসে। আর মোরশেদ ওজনপার্কে।
সন্দ্বীপ এলাকার ভোট পাল্লায় এগিয়ে আছেন ফিরোজ। তবে স্থানীয় গ্রুপ রাজনীতির একটি বড় অংশও কাজ করছেন ফিরোজের বিরুদ্ধে। সন্দ্বীপ সোসাইটির নেতৃত্বের লড়াইয়ে তারা ফিরোজের বিপক্ষে। তাদের মধ্যে রয়েছেন আজহারুল হক, ইকবাল হোসেন, মিয়া কাদের,হেলাল উদ্দীন, আব্দুল হান্নান পান্না ও এমলাক হোসেন ফয়সল।
চট্রগ্রাম সমিতি সোসাইটির নির্বাচনে ২ ভাগে বিভক্ত। কাজি আজম, মোহাম্মদ হানিফ,আবু তাহের ও মনির হোসেন সহ অনেক সিনিয়র নেতা কুনু-ফিরোজ প্যানেলের দিকে। আজম ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য হওয়ায় প্রকাশ্যে আসতে পারছেন না। অন্যদিকে মাকসুদ এইচ চৌধুরী, মাসুদ সিরাজী, মোক্তাদির বিল্লাহ, আইয়ুব আনসারী, আলী আকবার বাপ্পী, আহসান হাবিব, মোহম্মদ নুরু ও ইকবাল হোসেন সহ অনেক্ইে সেলিম-আলী প্যানেলের পরিচালনায় নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তাদের নেতৃত্বাধীন চট্রগ্রাম সমিতির সদস্যদের অনেকেই এই প্যানেলে। অন্যদিকে তাহের-আরিফের নেতৃত্বধীন অনেক নেতা কুনু-ফিরোজকে সর্মথন দিচ্ছেন। মাকসুদ এইচ চৌধুরী প্রতিবেদককে বলেন, ব্রুকলিন কেন্দ্রে হাড্ডাহাডি লড়াই হবে। জয়ের সম্ভানা আমাদের বেশি। তবে, কুনু-ফিরোজের সর্মথকরা তা মানতে রাজি নয়। তাদের বক্তব্য হচ্ছে, হোম টাউনের প্রভাব থাকবেই। আমরাই জিতবো ব্রুকলিনে। কাজি আজম বলেন, আমি একটি প্যানেলকে সর্মথন করলেও ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য হওয়ায় মুখ খুলতে পারছি না।
