সেন্টার ফর এনআররি ব্র্যান্ডিং বাংলাদেশ সম্মেলন অনুষ্ঠিত
আজকাল রিপোর্ট
সাপ্তাহিক আজকাল
প্রকাশিত : ১২:৫৫ এএম, ৩ অক্টোবর ২০২৬ শনিবার
গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘সেন্টার ফর এনআরবি’ বাংলাদেশ ভিত্তিক একটি বেসরকারী প্রতিষ্ঠান। বর্হিবিশ্বে বাংলাদেশকে ব্র্যান্ডিং করতে বা তুলে ধরতে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছে সংগঠনটি। এজন্য বাংলাদেশ ও বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আয়োজন করে চলেছে সভা-সেমিনার।
এরই অংশ হিসেবে প্রায় প্রতিবছর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন চলাকালে বাংলাদেশ সরকারের প্রতিনিধি সহ যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসীদেরকে নিয়ে সাইড লাইনে একটি সেমিনারের আয়োজন করে থাকে সেন্টার ফর এনআরবি। এবারো ৮১তম জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ অধিবেশনের সাইডলাইন এমন একটি সেমিনারের আয়োজন করা হয় গত ২৭ সেপ্টেম্বর রোববার বিকেলে লাগোয়ার্ডিয়াস্থ ডাবলট্রি হিলটন হোটেলে। ‘সিভিল সোসাইটি এনগেজমেন্ট ফর ব্র্যান্ডিং বাংলাদেশ’ শীর্ষক আন্তর্জাতিক এক আলোচনা সভায় বিদেশে বাংলাদেশকে তুলে ধরতে বেসরকারি খাত ও তরুণ প্রজন্মকে যুক্ত করার উপর গুরুত্ব দিয়ে বাংলাদেশের ইতিবাচক ভাবমূর্তি প্রতিষ্ঠা ও ব্র্যান্ডিংয়ের জন্য জোর দিয়েছেন বক্তাগণ।
অনুষ্ঠানে অর্থনীতিবিদ ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর আহসান এইচ মনসুরসহ বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক, প্রবাসী বাংলাদেশি এবং আন্তর্জাতিক ব্যবসায়ী নেতারা বক্তব্য দেন। মূল আলোচনায় অর্থনীতিবিদ আহসান এইচ মনসুর বলেন, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে প্রবাসীদের, বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মকে যুক্ত করা এখন অত্যন্ত জরুরি। তরুণরা তাদের দক্ষতা, মেধা ও সক্ষমতা দিয়ে দেশকে পরিবর্তন করে দিতে পারে। অতিথি বক্তা হিসেবে লন্ডনের ওয়ার্দিং কাউন্সিলের ডেপুটি মেয়র হেনা চৌধুরী লন্ডনসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত প্রবাসীদের দেশের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে আরও বেশি সম্পৃক্ত করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
সভাপতির বক্তব্যে সেন্টার ফর এনআরবির চেয়ারপারসন এম এস সেকিল চৌধুরী বলেন, “প্রতি বছর জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনের সময় সারা বিশ্বের মানুষের চোখ থাকে নিউইয়র্কে। এ সময়ে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হলে তা সহজেই বিশ্ববাসীর নজরে আসে। সেন্টার ফর এনআরবি একটি বেসরকারি অলাভজনক গবেষণা প্রতিষ্ঠান হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে এই বিশ্বমঞ্চে ‘ব্র্যান্ডিং বাংলাদেশ’ কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে ।” তিনি আরও বলেন, “শুধু সরকারি কাজ দিয়ে একটি দেশকে বিশ্বদরবারে তুলে ধরা সম্ভব নয়; বেসরকারি খাত ও ব্যক্তি উদ্যোগকে এগিয়ে আসতে হবে। এনআরবি সেন্টার কেবল জাতিসংঘেই নয়, প্রতি বছর বিশ্বের বিভিন্ন দেশে গিয়ে এমন আয়োজনের মাধ্যমে বিদেশি অংশীজন ও প্রবাসীদের সম্পৃক্ত করার চেষ্টা করছে ।”
নতুন প্রজন্মের ভূমিকার কথা তুলে ধরে সেকিল চৌধুরী বলেন, “সরকারকে আমরা সবসময় বলি, নতুন প্রজন্মকে ব্র্যান্ডিং প্রক্রিয়ায় ব্যাপকভাবে যুক্ত করতে হবে। কারণ তাদের হাতে আধুনিক প্রযুক্তি ও অফুরন্ত কর্মশক্তি রয়েছে। সরকার যেন দেশে ও প্রবাসে থাকা এই তরুণ প্রজন্মের সাথে যোগাযোগ আরও বাড়ায়। আনন্দের বিষয় হলো, বর্তমানে রাজনীতি ও রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন ব্যবস্থাপনায় প্রবাসীদের অংশগ্রহণ আগের চেয়ে বাড়ছে। এনআরবিদের পক্ষে নিরবচ্ছিন্নভাবে কথা বলতে পারার কারণেই আজ তারা নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ে যুক্ত হচ্ছেন।”
সম্মেলনে অংশ নেওয়া বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত প্রবাসী বাংলাদেশিরাও দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে নিজেদের অবস্থান থেকে কাজ করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। তারা বলেন, প্রবাসী বাংলাদেশিরা শুধু অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি রেমিট্যান্সই পাঠাচ্ছেন না, বরং নিজ নিজ কর্মক্ষেত্রে মেধার স্বাক্ষর রেখে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাচ্ছেন। নাগরিক সমাজের সক্রিয় ভূমিকা ও সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই বিশ্বমঞ্চে একটি ইতিবাচক ও স্বনির্ভর বাংলাদেশের বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া সম্ভব। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, নার আমেরিকার গ্লোবাল চেয়ারম্যান ইয়োশি ইকোতা, সাপ্তাহিক বাংলাদেশ সম্পাদক ডাঃ ওয়াজেদ খান, পরিবেশবিদ ইনা ইসলাম, অর্থনীতিবিদ ডক্টর শওকত আলী, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী পল খান, ইমাম শেখ জুনায়েদ, এডভোকেট নাসির চৌধুরী , ডাঃ জুন্নন চৌধুরী, মুনার আরমান চৌধুরী, কন্ঠশিল্পী শুভ্র দেব, লিগ অব আমেরিকার শাহিদা শিকদার হাই, রওশান হক, রিয়েলিটর নাদির খান, কমিউনিটি নেতা আব্দুর রহিম, অপটিমিষ্ট এর চেয়ারম্যান শামিম আহমদ, সৈয়দা ফাওজিয়া মুন্নী, জেএমসির নির্বাহী সদস্য জুলকার হায়দার, সৈয়দ আতিক, আব্দুস সহিদ ও নিউ ইয়র্ক ইলেকশন বোর্ডের কর্মকর্তা মাসুদ মাসুম ।
