ভুলে ছবি প্রকাশ, দেখা গেল গাজার ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ
সাপ্তাহিক আজকাল
প্রকাশিত : ০১:০৬ এএম, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ রোববার
তথ্য ও দৃশ্য নিয়ন্ত্রণের কঠোরতার মধ্যেই ইসরায়েলের সরকারি মানচিত্র সেবা সংস্থা ভুলে গাজার উচ্চ রেজল্যুশনের স্যাটেলাইট ছবি প্রকাশ করেছে। এতে গাজার উত্তরাঞ্চলের ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের পাশাপাশি ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর অন্তত ১১টি স্থাপনার ছবিও দেখা গেছে। খবর মিডল ইস্ট আইয়ের।
সোমবার ‘@Stinky915846091’ নামের একটি এক্স অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে বিষয়টি নজরে আসে। অ্যাকাউন্টটি ওপেন সোর্স গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ এবং গাজা উপত্যকার বিভিন্ন ঘটনার অবস্থান শনাক্ত করার কাজে সক্রিয়।
এরপর ইসরায়েল সরকারের সরকারি মানচিত্র সেবা ‘গভম্যাপ’-এ আবারও গাজার পুরো এলাকা ঝাপসা করে দেওয়া হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গভম্যাপে দীর্ঘদিন ধরে পুরো গাজা উপত্যকার পাশাপাশি ইসরায়েল ও অধিকৃত পশ্চিম তীরের সামরিক ঘাঁটি এবং অন্যান্য সংবেদনশীল স্থাপনার ছবি ঝাপসা রাখা হয়। ফলে অল্প সময়ের জন্য ঝাপসামুক্ত ছবি প্রকাশ পাওয়া অস্বাভাবিক ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ঝাপসামুক্ত ছবিগুলোতে গাজার উত্তরাঞ্চলের বেইত লাহিয়া ও বেইত হানুন শহরের কিছু অংশ দেখা যায়। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে চলা ইসরায়েলি সামরিক অভিযানে এসব এলাকা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ছবিগুলো ২০২৫ সালের বলে ধারণা করা হচ্ছে। ফলে বর্তমানে ওই সামরিক স্থাপনাগুলোর পরিস্থিতি একই রকম রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত নয়। তবে ছবিতে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের পাশাপাশি ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রিত বাফার জোনের ভেতরে অন্তত ১১টি সামরিক স্থাপনা দেখা গেছে।
আরেক এক্স ব্যবহারকারী ‘@Nrg8000’ এসব ছবির ব্যাকআপ নিয়ে ‘সোয়ার অ্যাটলাস’-এ প্রকাশ করেছেন।
তবে ছবিগুলো স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি মিডল ইস্ট আই। যদিও গাজায় ইসরায়েলি সামরিক উপস্থিতি এবং যুদ্ধবিধ্বস্ত অঞ্চলটির ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ নিয়ে প্রকাশিত আগের বিভিন্ন প্রতিবেদনের সঙ্গে ছবিগুলোর তথ্য সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যমটি।
গাজার একেবারে উত্তরাঞ্চলের শহর বেইত হানুনে ইসরায়েলি হামলায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের ছবি দেখা গেছে। পুরো এলাকার অনেক ব্লক ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শহরটির অধিকাংশ বাসিন্দাকে উচ্ছেদ করে এলাকাটিকে সামরিক অঞ্চলে পরিণত করেছে ইসরায়েল।
গাজা সিটির শুজাইয়া এলাকাতেও একই ধরনের ধ্বংসযজ্ঞের চিত্র দেখা যায়। অধিকাংশ ভবন ও সড়ক ধ্বংস হয়ে গেছে এবং এলাকাটিতে জনজীবনের প্রায় কোনো চিহ্নই দেখা যায় না।
গাজা সিটির জেইতুন এলাকার দক্ষিণ-পূর্বে কারনি ক্রসিং এলাকায় ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর ব্যাপক উপস্থিতিও ছবিতে ধরা পড়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গাজার আরও গভীরে হামলা চালানোর জন্য এলাকাটিকে অগ্রবর্তী সামরিক ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করেছে ইসরায়েল।
পূর্ব জাবালিয়ায় ইসরায়েলি সেনাদের অবস্থানও দেখা গেছে। ছবিতে মাটির তৈরি প্রতিরোধক দিয়ে ঘেরা একটি এলাকায় বিপুলসংখ্যক সামরিক যান মোতায়েন থাকতে দেখা যায়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় ইসরায়েলি হামলায় বিপুল প্রাণহানি ও অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। স্বাধীন বিভিন্ন মূল্যায়নে বলা হয়েছে, উপত্যকার ৮০ শতাংশের বেশি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে। এর মধ্যে বাড়িঘর, স্কুল, হাসপাতাল ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো রয়েছে।
সূত্র : মিডল ইস্ট আই
