‘সাংবাদিকতার পথ কখনোই মসৃণ নয়’
রুদ্র মাসুদ, অতিথি প্রতিবেদক
সাপ্তাহিক আজকাল
প্রকাশিত : ১২:৪৫ এএম, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ শনিবার
নিউইয়র্ক বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের আড্ডা
সাংবাদিকতার পথ কখনো মসৃণ ছিলোনা। সরকার সবসময়ই গণমাধ্যমের কন্ঠরোধে আইনকে ব্যবহার করে। এজন্যই বিভিন্ন সময়ে নিবর্তনমুলক আইনের বিরুদ্ধে আন্দোলন করতে হয়েছে সাংবাদিকদের। বাংলাদেশে প্রস্তাবিত সাইবার সিকিউরিটি এ্যাক্ট প্রণয়নের প্রতিক্রিয়ায় এমন কথা বলেছেন সাংবাদিকরা। বিপরীত দিকে আইনের সমর্থনে যুক্তি দিয়ে বলা হয়েছে অপসাংবাদিকতা রোধে সাইবার সিকিউরিটি এ্যাক্ট প্রয়োজন। তবে, এই আইনের অপব্যবহার যাতে না হয় সেটি নিশ্চিত করতে হবে।
মঙ্গলবার রাতে নিউইর্কের জ্যাকসন হাইটসে নিউইয়র্ক বাংলাদেশ প্র্রেসক্লাবের আয়োজনে বাংলাদেশ থেকে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সংবাদ কভার করতে আসার সাংবাদিক ও নিউইয়র্কে কর্মরত সাংবাদিকদের আড্ডায় এমন মতামত ব্যাক্ত করেন সাংবাদিকরা।
নিউইয়র্ক বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের সভাপতি মনোয়ারুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং সেক্রেটারি মমিনুল ইসলাম মজুমদারের সঞ্চালনায় আড্ডা রেষ্টুরেন্টের হল রুমে অনুষ্ঠিত আড্ডায় মূখ্য আলোচক ছিলেন বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা-বাসসের এমডি ও ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের মহাসচিব কাদের গণি চৌধুরী।
আড্ডায় নিউইয়র্কে বসবাসরত সাংবাদিকদেও মধ্যে প্রবীন সাংবাদিক সাংবাদিক মনজুর আহমেদ, মইনুদ্দিন নাসের, নিইয়র্ক বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ডা. ওয়াজেদ এ খান, উপদেষ্টা আনোয়ার হোসাইন মঞ্জু, তাসের মাহমুদ, প্রথম আলো নর্থ আমেরিকার সম্পাদক ইব্রাহিম চৌধুরী খোকন, কুইন্স ডেমোক্র্যাটিক পার্টির ডিস্ট্রিক্ট লিডার এট লার্জ এটর্ণি মঈন চৌধুরী, এটিএন বাংলা টেলিভিশনের ব্যুরো প্রধান ও বাংলাদেশ সোসাইটির সাবেক সাধারন সম্পাদক ফখরুল আলম, সিনিয়র সাংবাদিক কাজী শামসুল হক, কেরামত উল্লাহ বিপ্লব, এটিএন’র ব্যুরো প্রধান ফরিদ আলম, সুলতানা রহমান, সাপ্তাহিক প্রবাস সম্পাদক মোহাম্মদ সাইয়িদ, সিনিয়র সাংবাদিক এবিএম সালেহ উদ্দীন দৈনিক প্রথম আলোর যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি তোফাজ্জল লিটন, জনকন্ঠের জসিম আহমেদ, একুশে টিভির সাবেক চীফ রিপোর্টার মাহাথির খান ফারুকী, মানব জমিনের প্রতিনিধি সিদ্দিকুর রহমান সুমন, সাংবাদিক আবুল কাশেম, এটিএন এর কানু দত্ত, বাংলাদেশ থেকে আগত সাংবাদিকদের মধ্যে সিনিয়র সাংবাদিক কেরামত উল্লাহ বিপ্লব, ডিকাবের সাবেক সভাপতি আরিফুল ইসলাম মামুন, এনটিভির বিশেষ প্রতিনিধি হাসান মাহমুদ, ঢাকা মেইলের বিশেষ প্রতিনিধি বোরহান উদ্দিন, যমুনা টিভির চীফ রিপোর্টার সাইফুদ্দিন রবিন, আরটিভির সিনিয়র রিপোর্টার মাইদুর রহমান রুবেল, কালবেলার চীফ রিপোর্টার সফিকুল ইসলাম, এটিএন বাংলার চীফ রিপোর্টার মইনুল আহসান, ৭১ টিভির সিনিয়র রিপোর্টার সফিকুল হক, এখন টিভির স্টাফ রিপোর্টার সাব্বির রোজ, স্টার নিউজের স্টাফ রিপোর্টার সিফাত শাহরিয়ার, চ্যানেল ২৪ এর সিনিয়র রিপোর্টার ও শাহনেওয়াজ বাবলুসহ শতাধিক সাংবাদিক যোগ দেন।
বাসস’র এমডি কাদের গণি চৌধুরী বলেন, গত ১৭ বছর আমাদের গণমাধ্যমগুলো সত্য তুলে ধরতে পারেনি। সাদাকে সাদা, কালোকে কালো বলেনি অথবা বলতে পারেনি। যার ফলে ফ্যাসিবাদী শাসন অনেক দীর্ঘ হয়েছিলো। সাংবাদিকরা যদি তাঁদের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করতে পারতেন তাহলে ফ্যাসিবাদ এভাবে চেপে বসতে পারতো না।
তিনি বলেন সাংবাদিকতার পথ কখনোই মসৃণ ছিলো না। তবে, এখন অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় কথা বলতে পারছেন। আবার এই সুযোগে অপসাংবাদিকতা এবং অপতথ্য ছড়ানো হচ্ছে। এআই ব্যবহার করে নারীদের নিয়ে অশ্লীল ও অপতথ্য ছড়ানো হচ্ছে। মোবাইল একটি নিয়ে মাঠে নেমেই সাংবাদিক পরিচয়ে হলুদ সাংবাদিকতা, অপসাংবাদিকতা ছড়ানো হচ্ছে। এই অবস্থা নিয়ন্ত্রনে সাইবার সিটিকিউরিটি এ্যাক্ট প্রয়োজন। এই আইনের যথেচ্ছা ব্যাবহার করে গণমাধ্যমের কন্ঠরোধ কিংবা সাংবাদিকদের দমন করা যাবেনা।
তিনি সাংবাদিক হত্যার বিচার দাবি করে বলেন, বিনা কারনে কোন সাংবাদিককে চাকরিচ্যুত করা যাবেনা। যৌক্তিক কারণে চাকরি থেকে অব্যাহতি দিলে সকল পাওনা পরিশোধ করতে হবে। সাংবাদিকরা ঐক্যবদ্ধ হলে সাদাকে সাদা, কালোকে কালো বলতে পারবো। সরকার-মালিকরা চাইলেই সাংবাদিকদের কন্ঠরোধ করতে পারবে না।
নিউইয়র্ক বাংলাদেশ প্রেসক্লাব প্রতিবছরই এ ধরনের সাংবাদিক আড্ডার আয়োজন করে।আলোচনায় অংশ নেন নিউইয়র্কের পরিচিত মুখ ও মুলধারার রাজনীতিবিদ এটর্ণি মঈন চৌধুরী।
সভাপতির বক্তব্যে মনোয়ারুল ইসলাম প্রতিবছরের ন্যায় এবারেও সাংবাদিকরদের আডডায় উপস্থিত থাকার জন্য সবাইকে ধন্যবাদ জানান। তিনি নিউইয়র্ক-বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের নিজস্ব অফিসে বাংলাদেশ থেকে আগত সাংবাদিকদের আমন্ত্রন জানান। যেখানে পেশাগত দায়িত্ব পালনে সহায়ক সকল সুযোগ-সুবিধা রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।।
