শুক্রবার   ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬   আশ্বিন ৯ ১৪৩৩   ১২ রবিউস সানি ১৪৪৮

সেই মার্কিন এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানের যন্ত্রাংশ জব্দ করল চীন

সাপ্তাহিক আজকাল

প্রকাশিত : ০১:৩৫ এএম, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ শুক্রবার

অস্ট্রেলিয়া থেকে যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছানোর কথা থাকলেও রহস্যজনকভাবে হংকংয়ে গিয়ে ঠেকেছে মার্কিন প্রযুক্তির এফ-৩৫ স্টেলথ যুদ্ধবিমানের অত্যন্ত সংবেদনশীল কিছু যন্ত্রাংশ। পরবর্তীতে সেগুলোকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে নিয়েছে চীন। মার্কিন প্রশাসনের একাধিক দায়িত্বশীল সূত্রের বরাতে জানা গেছে, চীনা কর্তৃপক্ষ যন্ত্রাংশগুলো তাদের নিয়ন্ত্রণে নিলেও এখন পর্যন্ত তা ফেরত দেয়নি।

ঘটনার সূত্রপাত গত মে মাসের শেষভাগে। অস্ট্রেলীয় সামরিক বাহিনীর একটি এফ-৩৫ বিমানের ককপিটের ক্যানোপি এবং ওয়েপনস-বে ডোর পরীক্ষা ও মেরামতের জন্য বাণিজ্যিক কুরিয়ার সংস্থা ‘ইউপিএস’-এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের দিকে পাঠানো হয়। লকহিড মার্টিনের তৈরি এই দুটি যন্ত্রাংশেই রাডার-শোষণকারী বিশেষ উপাদানের প্রলেপ রয়েছে, যা বিমানটির অদৃশ্য থাকার সক্ষমতার জন্য অত্যন্ত জরুরি। তবে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার পথে চালানটি বহনকারী বিমানটি প্রথমে দক্ষিণ কোরিয়ায় অবতরণ করে এবং সেখান থেকে এটি অলৌকিকভাবে হংকংয়ের দিকে মোড় নেয়। বিমানটি কেন তার পথ পরিবর্তন করল এবং এই ঘটনা ইচ্ছাকৃত নাকি ভুলবশত ঘটেছে, তা এখনো অস্পষ্ট। ওয়াশিংটনের চীনা দূতাবাসও এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি।

ঘটনাটির খবর এমন এক সময়ে সামনে এসেছে যখন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং যুক্তরাষ্ট্রে রাষ্ট্রীয় সফরে রয়েছেন এবং ট্রাম্প প্রশাসন তাকে আতিথ্য দিচ্ছে। এই বৈপরীত্যের তীব্র সমালোচনা করে মার্কিন ডেমোক্র্যাট সিনেটর এলিসা স্লটকিন জানিয়েছেন, চীনারা সবসময় মার্কিন সামরিক সরঞ্জামের সংবেদনশীল তথ্য হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চালায়। বর্তমানে মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের পররাষ্ট্র বিষয়ক কমিটি ও আর্মড সার্ভিসেস কমিটিসহ একাধিক সংসদীয় প্যানেল বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে।

পেন্টাগন জানিয়েছে, তারা যন্ত্রাংশগুলো উদ্ধারের জোরালো চেষ্টা চালাচ্ছে এবং কীভাবে এই চালানটি হংকংয়ে পৌঁছাল তা নিয়ে শিল্প অংশীদারদের সাথে একযোগে তদন্ত করা হচ্ছে। এদিকে ট্রান্সপোর্ট কুরিয়ার সংস্থা ইউপিএস আইনি বাধ্যবাধকতা থেকে বিষয়টি মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরকে জানিয়েছে। বিমানের নির্মাতা প্রতিষ্ঠান লকহিড মার্টিন জানিয়েছে, মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের বেঁধে দেওয়া পরিবহনের নিয়ম মেনেই সংস্থা নির্বাচন করা হয়েছিল। মার্কিন সিনেটের রুদ্ধদ্বার শুনানিতে প্রতিরক্ষা দপ্তরের কর্মকর্তারা চীন যন্ত্রাংশগুলো ফেরত দেবে বলে আশা প্রকাশ করলেও বেইজিংয়ের পক্ষ থেকে এখনো তা হস্তান্তরের কোনো লক্ষ্মণ দেখা যাচ্ছে না।

সূত্র: ব্লুমবার্গ