মস্কোতে ইউক্রেনের ‘নজিরবিহীন’ ড্রোন হামলা, নিহত ২
সাপ্তাহিক আজকাল
প্রকাশিত : ০১:৩১ এএম, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ সোমবার
রাশিয়ার রাজধানী মস্কো ও আশপাশের অঞ্চলে ইউক্রেনের ব্যাপক ড্রোন হামলায় অন্তত দুজন নিহত ও ছয়জন আহত হয়েছেন। হামলায় আবাসিক ভবন, একটি গুদাম ও তেল শোধনাগারের স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) টেলিগ্রামে দেওয়া এক পোস্টে ভোরোবিয়ভ জানান, মস্কো অঞ্চলের সোফিনো এলাকায় একটি তিনতলা আবাসিক ভবনে ড্রোন আঘাত হানলে ৪৪ বছর বয়সী এক নারী নিহত হন। এ ঘটনায় আরও পাঁচজন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে দুই শিশু রয়েছে।
মস্কো অঞ্চলের গভর্নর জানান, হামলায় ২৪৯টি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে। সোফিনো এলাকায় একটি তিনতলা আবাসিক ভবনে ড্রোন আঘাত হানলে ৪৪ বছর বয়সী এক নারী নিহত হন। আহত হন আরও পাঁচজন, যাদের মধ্যে দুই শিশু রয়েছে।
ওরেখোভো-জুয়েভো জেলায় একটি ব্যক্তিগত বাড়িতে ড্রোন আঘাত হানার পর এক বয়স্ক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন বলেও জানান গভর্নর।
মস্কোর মেয়র সের্গেই সোবিয়ানিন জানান, রাজধানীর একটি বুলেভার্ডের কাছে একটি ভবনে ড্রোন আঘাত হেনেছে। একটি তেল শোধনাগারের স্থাপনাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তার দাবি, মস্কোমুখী ৪৫০টি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে এবং হামলাটিকে তিনি ‘নজিরবিহীন’ বলে উল্লেখ করেন।
হামলার পর মস্কোর শেরেমেতিয়েভো ও ভনুকোভো বিমানবন্দরে সাময়িক বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। রোববার সকালে বিধিনিষেধ তুলে নেওয়া হলেও কিছু ফ্লাইটে বিলম্ব হতে পারে বলে সতর্ক করা হয়।
অন্যদিকে, শনিবার রুশ হামলায় ইউক্রেনের কিয়েভ ও সুমি অঞ্চলে আটজন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন দেশটির কর্মকর্তারা। নিহতদের মধ্যে তিন শিশুও রয়েছে।
কিয়েভ অঞ্চলের ফাস্তিভ শহরে এক মা ও তার দুই শিশু নিহত হয়েছে। ভিশহোরোদে পৃথক হামলায় আহত আরেক শিশু পরে হাসপাতালে মারা যায়। সুমি অঞ্চলে একটি গাড়িতে রুশ ড্রোন আঘাত হানলে চারজন নিহত হন।
সাম্প্রতিক সময়ে রাশিয়া ও ইউক্রেন পরস্পরের বিরুদ্ধে হামলা জোরদার করেছে। এসব হামলার লক্ষ্যবস্তুতে রয়েছে জ্বালানি অবকাঠামো, পরিবহন ব্যবস্থা ও গুরুত্বপূর্ণ লজিস্টিক কেন্দ্র।
এদিকে শুক্রবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রাশিয়ার অর্থনীতিকে লক্ষ্য করে একটি নিষেধাজ্ঞা বিলে স্বাক্ষর করেন। এতে রাশিয়ার তেল ও গ্যাসের বড় ক্রেতা দেশগুলোর ওপর সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্টকে। রাশিয়ার জ্বালানির বড় ক্রেতাদের মধ্যে চীন ও ভারত রয়েছে।
২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান শুরু করে রাশিয়া।
