ভাষার উচ্চারণ নিয়ে বিতর্ক, রাশমিকার কড়া জবাব
সাপ্তাহিক আজকাল
প্রকাশিত : ০১:২৬ এএম, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ সোমবার
দক্ষিণী সিনেমা দিয়ে ক্যারিয়ার শুরু করে বর্তমানে ভারতের অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেত্রী হিসেবে নিজের জায়গা করে নিয়েছেন রাশমিকা মান্দানা। তামিল, তেলুগু, কন্নড় থেকে শুরু করে হিন্দি একাধিক ভাষার সিনেমায় সমানতালে কাজ করে দর্শকদের কাছে নিজের গ্রহণযোগ্যতা তৈরি করেছেন তিনি। তবে ভিন্ন ভিন্ন ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করতে গিয়ে বারবারই তাকে মুখোমুখি হতে হয়েছে ভাষা, উচ্চারণ ও ‘অ্যাকসেন্ট’ নিয়ে নানা ধরনের সমালোচনার।
এবার সেই সমালোচনা নিয়েই সরাসরি মুখ খুলেছেন রাশমিকা। সোজাসাপ্টা ভাষায় জানিয়েছেন, তিনি হয়তো কোনো একটি ভাষায় শতভাগ পারদর্শী নন, কিন্তু ভাষার প্রতি ভালোবাসা, গল্পের প্রতি টান এবং দর্শকদের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের ইচ্ছাই তাকে এক ভাষার সীমানা পেরিয়ে অন্য ভাষার সিনেমায় কাজ করার সাহস দিয়েছে।
সম্প্রতি ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ‘হিন্দুস্তান টাইমস’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নিজের আঞ্চলিক পরিচয়, মাতৃভাষা এবং বিভিন্ন ভাষায় কাজ করার অভিজ্ঞতা নিয়ে কথা বলেন এই অভিনেত্রী।
রাশমিকা জানান, তিনি মূলত কোডাভা সম্প্রদায়ের মানুষ এবং তাদের নিজস্ব ভাষা ‘কোডাভা তাক্ক’। তবে এই ভাষার নিজস্ব কোনো চলচ্চিত্রশিল্প বা সিনেমা ইন্ডাস্ট্রি না থাকায় ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই তাকে অন্য ভাষার সিনেমার জগতেই নিজের জায়গা তৈরি করতে হয়েছে।
অভিনেত্রীর ভাষায়, “আমি মূলত কোডাভা সম্প্রদায়ের মানুষ, আর আমাদের ভাষা ‘কোডাভা তাক্ক’। কিন্তু আফসোসের বিষয় হলো, আমার মাতৃভাষার কোনো নিজস্ব চলচ্চিত্র শিল্প বা ইন্ডাস্ট্রি নেই। তাই ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই ভাষা আমার কাছে কখনো বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি। আমি প্রতিটি ভাষাকেই নিজের ভেবে গ্রহণ করেছি।”
ক্যারিয়ারের শুরুতে তেলুগু সিনেমায় কাজ করার পেছনেও অনুরাগীদের ভূমিকার কথা উল্লেখ করেন রাশমিকা। তিনি বলেন, তার ভক্তরাই প্রথম তাকে তেলুগু সিনেমায় কাজ করার পরামর্শ দিয়েছিলেন। পরবর্তীতে হিন্দি সিনেমায় পা রাখার ক্ষেত্রেও একইভাবে দর্শকদের ভালোবাসা ও সমর্থন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
রাশমিকার কথায়, “আমার অনুরাগীরা যাদের আমি নিজের পরিবার মনে করি তারা প্রথম আমাকে তেলুগু সিনেমায় কাজের পরামর্শ দিয়েছিল। হিন্দিতে পা রাখার গল্পটাও ঠিক একই রকম। এভাবেই আমার ক্যারিয়ারের মূল ধারাটি তৈরি হয়েছে।”
তবে বিভিন্ন ভাষায় কথা বলা কিংবা অভিনয়ের সময় তার উচ্চারণ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায়ই আলোচনা-সমালোচনা হয়। বিশেষ করে পর্দায় সংলাপ বলা এবং সাক্ষাৎকারে কথা বলার ধরন নিয়ে নেটিজেনদের নানা মন্তব্যের মুখে পড়তে হয়েছে তাকে।
এ বিষয়ে অবশ্য এখন আর খুব একটা বিচলিত নন রাশমিকা। বরং সমালোচনার বিষয়টিকে নিজের ক্যারিয়ারেরই একটি অংশ হিসেবে দেখছেন তিনি। তার বক্তব্যে স্পষ্ট, সব ভাষায় সমান দক্ষতা অর্জন করা সম্ভব না হলেও প্রতিটি ভাষা ও সংস্কৃতিকে সম্মান করার চেষ্টা করেন তিনি।
নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে গিয়ে রাশমিকা বলেন, “আমি সব বিষয়ের কিছুটা জানি, কিন্তু কোনোটারই পুরোপুরি পণ্ডিত নই। যতক্ষণ না কোনো নির্দিষ্ট ভাষায় করা প্রশ্নের উত্তর আমি দিতে পারছি, ততক্ষণ পর্যন্ত ঠিক আছে। এভাবেই আমি বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের দর্শকদের প্রতি আমার শ্রদ্ধা জানানোর চেষ্টা করি।”
অর্থাৎ, উচ্চারণে সামান্য ভুল বা ভিন্ন ধরনের টান থাকলেও সেটিকে নিজের সীমাবদ্ধতা হিসেবে না দেখে বিভিন্ন ভাষা ও সংস্কৃতির সঙ্গে যুক্ত হওয়ার একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া হিসেবেই দেখছেন অভিনেত্রী।
এদিকে ভাষা ও উচ্চারণ নিয়ে রাশমিকার বক্তব্য ঘিরে আলোচনা চললেও তার কাজের তালিকা দিন দিন আরও বড় হচ্ছে। একের পর এক নতুন সিনেমায় চুক্তিবদ্ধ হচ্ছেন তিনি। সামনে তাকে দেখা যাবে ‘রণবালী’ সিনেমায়। এই ছবিতে তার বিপরীতে অভিনয় করছেন বিজয় দেবরাকোন্ডা।
জানা গেছে, ‘রণবালী’ সিনেমাটি আগামী ১৬ অক্টোবর প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে। ফলে ভাষা নিয়ে বিতর্কের পাশাপাশি রাশমিকার নতুন সিনেমা নিয়েও দর্শকদের মধ্যে তৈরি হয়েছে আগ্রহ।
