আ’লীগ নেতাদের নিয়ে হাসিনার বৈঠকে আপত্তি দিল্লীর
মাসুদ করিম, ঢাকা থেকে
সাপ্তাহিক আজকাল
প্রকাশিত : ০৮:১৪ পিএম, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ শুক্রবার
দিল্লীতে শেখ হাসিনার সঙ্গে তার দলের জ্যেষ্ঠ নেতাদের বৈঠকের অনুমতি দেয়নি ভারত। স্থানীয় সময় শুক্রবার আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে এই বৈঠক হওয়ার কথা ছিলো। এতে দলটির প্রেসিডিয়ামের সদস্যবৃন্দ এবং কেন্দ্রীয় কমিটির সকল নেতৃবৃন্দ উপস্থিত থাকার কথা ছিল। তার বাইরে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং সাবেক শিক্ষামন্ত্রী নওফেলেরও বৈঠকে উপস্থিত থাকার কথা ছিলো। বৈঠক উপলক্ষে বিশ্বের বিভিন্ন স্থান এবং ভারতের বিভিন্ন জায়গা থেকে ৪০ জন দিল্লিতে এসে জড়ো হয়েছিলেন। ভারত সরকার একথা জানার পর ৪০ জনকে নিয়ে এমন বৈঠক করার অনুমতি দেয়নি। অন্য একটি সূত্র জানিয়েছে, সর্বশেষ আ.লীগের ২২ জনকে নিয়ে ওই বৈঠকটি শুক্রবার অনুষ্ঠিত হবার সম্ভাবনা রয়েছে। এই ২২ জন কারা হবেন তা শেখ হাসিনা ঠিক করবেন বলে জানা গেছে। ভারত সরকার ২২ জনকে অনুমতি দিলে বৈঠকটি হবার সম্ভাবনা রয়েছে আজ শুক্রবার। বৈঠকে রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে সরাসরি বৈঠক করার সুযোগ ছিল। ডিসেস্বরে শেখ হাসিনার ঘোষিত দেশে ফেরা নিয়েও প্রস্তুতি পর্যালোচনার বিষয় ছিল।
দিল্লী থেকে একটি বিশ্বস্থ সূত্র ‘আজকাল’কে জানায়, অনিবার্য কারণে এই বৈঠক বাতিল করেছে ভারতের বর্তমান সরকার। ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালের দফতর থেকে শেখ হাসিনার বৈঠকের অনুমতি বাতিল করা হয়। ভারতে নির্বাসিত অবস্থায় থাকাকালে শেখ হাসিনার বিভিন্ন ধরনের রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন নিয়ে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বিতর্ক হচ্ছে। গত ৫ই আগস্ট গণঅভ্যূত্থানের বার্ষিকীতে শেখ হাসিনা দিল্লির ফরেন করেসপনডেন্টস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে অডিওর মাধ্যমে বক্তব্য রাখেন। এই নিয়ে দুই প্রতিবেশি দেশের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছিলো। কারণ শেখ হাসিনাকে ভারতের মাটিতে ওই সংবাদ সম্মেলন করার অনুমতি দেওয়া হয়েছিলো বাংলাদেশের অনুরোধকে উপেক্ষা করে। শেখ হাসিনা এমন একটি সংবাদ সম্মেলন করবেন বলে ঘোষণা দেবার পর পরই ঢাকায় ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীকে আমন্ত্রণ জানিয়ে ওই সংবাদ সম্মেলন করার অনুমতি বাতিল করার অনুরোধ করেন প্রধানমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ হুমায়ুন কবির। অনুরোধ রাখেননি ভারত। ওই সময়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফরের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিলো। এই সফরকে সফল করতে দুই দেশের কর্মকর্তা ব্যাপক প্র¯‘তি নিয়েছিলো। তখনই শেখ হাসিনা সংবাদ সম্মেলন করেন। বাংলাদেশ তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে। তারেক রহমানের সফর স্থগিত গত করা হয়।
শেখ হাসিনাকে নিয়ে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে একটা টানাপোড়েন চলছে। বৃহস্পতিবার ঢাকায় প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। বৈঠকে মাহদী আমিন ভারতের প্রতি অনুরোধ করেন যে, তারা যেন শেখ হাসিনাকে উস্কানি দিয়ে বাংলাদেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির সুযোগ না দেয়।
শেখ হাসিনা বাংলাদেশে ২০২৪ সালের গণঅভ্যূত্থানে বাংলাদেশ থেকে বিতাড়িত হন। ওই প্রেক্ষাপটে তিনি ভারতে আশ্রয় নেন। ইতিমধ্যে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদন্ড দেয়া হয়। বাংলাদেশ সরকার শেখ হাসিনাকে ফেরত চেয়েছে ভারতের কাছে। ভারত বলেছে, বিষয়টি আইনগত বিধায় আইনে পড়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
