ট্রাম্প চাইলেন অঙ্গরাজ্য বানাতে
আজকাল রিপোর্ট
সাপ্তাহিক আজকাল
প্রকাশিত : ০৮:০৪ পিএম, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ শুক্রবার
- কানাডা পেলো ইইউ’এর সদস্যের প্রস্তাব
আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চাইলেন কানাডাকে ৫১তম অঙ্গরাজ্য বানাতে। কানাডাকে ইউরোপীয়ান ইউনিয়ন (ইইউ) এর সহযোগী (এসোসিয়েট ) সদস্য হবার প্রস্তাব দিয়ে বসলো। ভাগ্যের নির্মম পরিহাস, ট্রাম্প যাকে নিয়ে স্বপ্ন দেখেন সেটাই বিপক্ষে চলে যায়। ইউএস- কানাডার ‘লেক অন্টারিওকে’ বানাতে চাইলেন লেক আমেরিকা’। প্রত্যাখাত হলেন বন্ধুদেশ কানাডার কাছে। গ্রীনল্যান্ডকে দখল করতে চাইলেন। হিতে বিপরীত হলো। ‘স্ট্রেইট অব হরমুজকে দখল করে বানাতে চাইলেন স্ট্রেই অব আমেরিকা। তা নিয়ে তো যুদ্ধ চলছেই। তিনি পানামা খাল দখলের স্বপ্ন ছাড়েননি। দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় এসে সময়টি ভালো যাচ্ছে না তার। আগামী মধ্যবর্তী নির্বাচনেও কংগ্রেসে হারতে বসেছে তার দল রিপাবলিক্যান পার্টি। তার ব্যর্থতার জন্যই। এদিকে বুধবার রাতে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলার সময় কানাডার প্রতি ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) পদক্ষেপের বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
শনির দশা যাকে বলে। নিউইয়র্ক টাইমসের এক নিবন্ধে বলা হয়েছে, ট্রাম্প কানাডাকে ৫১তম অঙ্গরাজ্য হিসেবে চেয়েছিলেন। শেষ পর্যন্ত তিনি দেশটিকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের দিকে ঠেলে দিয়েছেন। দ্বিতীয় মেয়াদের শুরুর দিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কানাডাকে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে এতটাই নিবিড়ভাবে যুক্ত করতে চেয়েছিলেন যে, তিনি দেশটিকে ৫১তম অঙ্গরাজ্য বানানোর উদ্যোগও নিয়েছিলেন। কিন্তু বাস্তবে তিনি কানাডাকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের দিকে ঠেলে দিয়েছেন। এর আগে তিনি মাসের পর মাস কানাডিয়ানদের ক্ষুব্ধ করেছেন। দেশটির প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে উপহাস করেছেন এবং এক নিরন্তর বাণিজ্য যুদ্ধ চালিয়েছেন।
বুধবার ইউরোপীয় ইউনিয়ন কর্তৃক কানাডাকে ‘সহযোগী সদস্য’ হওয়ার আমন্ত্রণ জানানো ট্রাম্পের কূটনৈতিক কৌশলেরই একটি পরোক্ষ ফলাফল। তাঁর এই কৌশলে প্রায়শই এমন সব দেশকে হুমকির মুখে ফেলা হয়। এসব দেশ একসময় আমেরিকার ঘনিষ্ঠতম মিত্র হিসেবে বিবেচিত হতো।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের এই পদক্ষেপটি যদি শেষ পর্যন্ত বাস্তব প্রভাবের চেয়ে প্রতীকীই যদি হয় তবুও এটি প্রমাণ করে যে ট্রাম্প কীভাবে বিশ্বজুড়ে বিদ্যমান সম্পর্কগুলোকে এমনভাবে ওলটপালট করে দিচ্ছেন। যা কিনা আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা কঠিন হবে।
আটলান্টিক কাউন্সিলের ‘ইউরোপ সেন্টার’-এর উপ-পরিচালক জেমস ব্যাচিক বলেন, “কানাডা ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের এই পদক্ষেপকে ট্রাম্পের কার্যকলাপ ও বাগাড়ম্বরের সরাসরি ফলাফল হিসেবেই দেখা উচিত। কানাডাকে ৫১তম অঙ্গরাজ্য বানানোর কথা বলা কিংবা গ্রিনল্যান্ডকে নিয়ে হুমকি দেওয়া-বিষয়গুলো অত্যন্ত বিতর্কিত এবং ব্রাসেলসে এখনো তা মনে রাখা হয়েছে। এগুলো উভয় পক্ষের জন্যই একটি বার্তা । যুক্তরাষ্ট্র হয়তো আর আগের মতো সেই নির্ভরযোগ্য মিত্র নেই।”
প্রতিটি ক্ষেত্রেই কানাডার প্রতি ট্রাম্পের কঠোর ও দমনমূলক আচরণ বুমেরাং হয়েছে বলে মনে হয়। তাঁর বাণিজ্য যুদ্ধ ‘সুইং স্টেট’ বা দোদুল্যমান অঙ্গরাজ্যগুলোর চাপে থাকা রিপাবলিকানদের জন্য সমস্যা তৈরি করেছিল এবং সিনেটে রিপাবলিকানদের নিয়ন্ত্রণকে ঝুঁকির মুখে ফেলেছিল। এছাড়া কানাডার নেতাদের প্রতি তাঁর বৈরী মনোভাব দেশটির ধুঁকতে থাকা লিবারেল পার্টিকে-যারা ট্রাম্পের মিত্র নয়-নির্বাচনী বিজয়ের পথে এগিয়ে যেতে সহায়তা করেছিল।
বুধবার রাতে ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, “কানাডা অত্যন্ত বাজে এক বাণিজ্যিক অংশীদার। না, আমি তেমনটা মনে করি না। ইউরোপের এমন পদক্ষেপ কার্যকর হলে আমি ইউরোপের ওপর কঠোর শুল্ক আরোপ করব অথবা অনেক পণ্যের ক্ষেত্রে তাদের সাথে বাণিজ্য বন্ধ করে দেব। অত্যন্ত ভারী শুল্ক আরোপ করব। এমনটা ঘটার সম্ভাবনাও রয়েছে।”
ভেনেজুয়েলার নেতাকে ক্ষমতাচ্যুত করার মার্কিন অভিযানের পর আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠা ট্রাম্প এ বছর পশ্চিমা গোলার্ধের অন্যান্য দেশের দিকে নজর দিয়েছেন। তিনি কিউবার ওপর ব্যাপক অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি করেছেন । দেশটিকে ‘বন্ধুত্বপূর্ণভাবে অধিগ্রহণ’-এর প্রস্তাব দিয়েছেন। এছাড়া তিনি পানামা খাল দখল এবং ডেনমার্কের কাছ থেকে উত্তর আমেরিকার দ্বীপ গ্রিনল্যান্ড নিজের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার হুমকিও দিয়েছেন।
