ইজরাইলকে ৪০ হাজার বিধ্বংসী বোমা দিচ্ছেন ট্রাম্প
সাপ্তাহিক আজকাল
প্রকাশিত : ০৭:৫৭ পিএম, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ শুক্রবার
ইজরাইলের প্রতি আমেরিকান জনগনের ক্রমাগত সর্মথন হ্রাসের মধ্যেই সাম্প্রতিককালের সবচেয়ে বড় আকারের অস্ত্রের চালান বিক্রির অনুমোদন দিলেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। এই অস্ত্রের মূল্য ২.৮ বিলিয়ন ডলার। এতে রয়েছে ৪০ হাজার ভারী বোমা। এর প্রতিটির ওজন ১ টন। এগুলোর বিস্ফোরণ সীমা অত্যন্ত বিস্তৃত হওয়ায় ব্যাপক বেসামরিক ক্ষয়ক্ষতি হয়। অতীতে গাজা ও লেবাননে ইসরায়েলের এসব বোমা ব্যবহারের বিষয়টি আন্তর্জাতিক মহলে ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। নতুন করে কেনা ৪০ হাজার বোমা ইরানেও ব্যবহার করতে পারে ইজরাইল। এই বাড়তি ধ্বংসাত্মক ক্ষমতা ইসরায়েলকে আরও বেপরোয়া করে তুলতে পারে। এসব বোমা ১,০০০ ফুটেরও বেশি দূরত্বে প্রাণঘাতী হতে পারে এবং এটি ৫০ ফুট গভীর পর্যন্ত গর্ত তৈরি করতে সক্ষম।
ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় বিশাল আকারের এসব বোমা ফেলার জন্য মানবাধিকার গোষ্ঠী ও কয়েকটি বিদেশি সরকার ইসরায়েলের নিন্দা জানিয়েছে। অনেক সময় কেবল একজন ব্যক্তিকে লক্ষ্য করে চালানো হামলায়ও ডজন ডজন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছে।
এই চালানে যুক্তরাষ্ট্রের ২,০০০ পাউন্ড ওজনের ‘এমকে-৮৪’ এবং ‘বিএলইউ-১১৭’ মডেলের ২০ হাজার করে বোমা অন্তর্ভুক্ত থাকবে। এছাড়া ইসরায়েলকে ২০ হাজার ‘বাঙ্কার-বাস্টিং’ (ভূগর্ভস্থ বা সুরক্ষিত স্থাপনা ধ্বংসকারী) ‘আই-২০০০’ পেনিট্রেটর ওয়ারহেডও সরবরাহ করা হবে; এগুলো মাটি, পাথর বা কংক্রিটের মতো বাইরের আবরণ ভেদ করার পর কিছুটা সময় নিয়ে বিস্ফোরিত হয়। এই পরিকল্পনার কথা এর আগে ‘দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট’ জানিয়েছিল।
এক মার্কিন কর্মকর্তা ‘দ্য ওয়াশিংটন পোস্টকে জানান, অনানুষ্ঠানিক অনুমোদনের জন্য পররাষ্ট্র দপ্তর সম্প্রতি প্রস্তাবিত চুক্তিটি কংগ্রেসের দুটি কমিটির কাছে পাঠিয়েছে।
সাধারণত এই ধরনের গোলাবারুদ উৎপাদন ও সরবরাহে কয়েক মাস বা বছর সময় লাগে, তবে প্রক্রিয়াটি দ্রুত করার উপায়ও রয়েছে। ২০২৪ সালের মাঝামাঝি সময়ে, ঘনবসতিপূর্ণ বেসামরিক এলাকায় ব্যবহারের আশঙ্কায় বাইডেন প্রশাসন ইসরায়েলে ২,০০০ পাউন্ড ওজনের বোমা পাঠানো স্থগিত করেছিল। তবে গত জানুয়ারিতে দায়িত্ব গ্রহণের কয়েক দিনের মধ্যেই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই চালানটি পাঠানোর অনুমতি দেন।
কংগ্রেস এই অস্ত্র বিক্রির অনুমোদনে আপত্তি জানালেও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জরুরি ক্ষমতা প্রয়োগ করে বিক্রয় প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে পারেন। সেক্ষেত্রে প্রশাসন কংগ্রেসের অনানুষ্ঠানিক অনুমোদন নেওয়ার বিষয়টি এড়িয়ে সরাসরি বিক্রয়ের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিতেও সক্ষম।
সেক্ষেত্রে, চুক্তিটি আটকে দেওয়ার জন্য প্রতিনিধি পরিষদ (হাউস) এবং সিনেট উভয় কক্ষেই একটি প্রস্তাব পাস করতে হবে। বাস্তবে তা আটকানোর সম্ভাবনাও নেই। কারণ কংগ্রেসের উভয় কক্ষই রিপাবলিক্যানদের দখলে।
এত বিশাল পরিমাণ বিধ্বংসী গোলাবারুদের প্যাকেজে পররাষ্ট্র দপ্তরের অনুমোদন দেওয়াটা ইসরায়েলের প্রতি ট্রাম্পের অব্যাহত জোরালো সমর্থনেরই প্রতিফলন। অথচ গাজা, লেবানন ও ইরানে ইসরায়েলের সামরিক অভিযান নিয়ে দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মতপার্থক্য বা বিবাদ রয়েছে। আগামী সপ্তাহে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে বিশ্বনেতাদের বার্ষিক সমাবেশে ভাষণ দেওয়ার জন্য নেতানিয়াহুর নিউ ইয়র্কে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।
এ বিষয়ে মন্তব্যের অনুরোধে পররাষ্ট্র দপ্তর তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সাড়া দেয়নি। প্রস্তাবিত এই চুক্তিটি কংগ্রেসে ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে তীব্র বিরোধিতার মুখে পড়বে বলে নিশ্চিত। কারণ, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানে বিপুল সংখ্যক বেসামরিক নাগরিকের প্রাণহানির ঘটনায় তাদের কেউ কেউ ইসরায়েলকে যুক্তরাষ্ট্রের সব ধরনের সহায়তা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন।
তবে ট্রাম্পের প্রথাগত সমর্থকদের মধ্যেও ইসরায়েলের প্রতি ক্ষোভ বেড়েছে। ফক্স নিউজের সাবেক উপস্থাপক টাকার কার্লসন সোশ্যাল মিডিয়ায় এক তীব্র সমালোচনামূলক বার্তা দিয়েছেন; সেখানে তিনি গাজায় ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরায়েলের চালানো কর্মকাণ্ডকে ‘গণহত্যা’ হিসেবে অভিহিত করে এর কঠোর নিন্দা জানিয়েছেন।
কার্লসন আরও বলেন, এই বাড়তি ধ্বংসাত্মক ক্ষমতা ইসরায়েলকে আরও বেপরোয়া করে তুলবে এবং ফেব্রুয়ারি মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ উদ্যোগে ইরানের বিরুদ্ধে শুরু হওয়া সংঘাতকে আরও উসকে দেবে। কার্লসন এই সামরিক অভিযানের ঘোর বিরোধী এবং ট্রাম্পকে এটি অনুমোদন করতে রাজি করানোর জন্য তিনি নেতানিয়াহুকে দায়ী করেন। কার্লসন লিখেছেন, “আপনি যদি ইরান-সংক্রান্ত যুদ্ধকে অনির্দিষ্টকালের জন্য দীর্ঘায়িত করতে চাইতেন, তবে ঠিক এই কাজটিই করতেন।”
(তথ্যসূত্র-রয়টার্স)
