জাতিসংঘে তারেকের ৯৬ ঘন্টার সফর
আজকাল রিােপর্ট
সাপ্তাহিক আজকাল
প্রকাশিত : ১১:০১ এএম, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ শুক্রবার
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ৯৬ ঘন্টার সফরে নিউইয়র্ক আসছেন। জাতিসংঘের ৮১তম সাধারন অধিবেশনে যোগদানই এ আগমনের প্রধান উদ্দেশ্য। আসছেন ২১ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় । দেশের উদ্দেশ্যে নিউইয়র্ক ত্যাগ করবেন ২৫ সেপ্টেম্বর রাতেই। ৯ দিনের সফর নেমে আসে ৪ দিনে। অতি ছোটকায় একটি প্রতিনিধি দল তার সাথে থাকছেন। তা ব্যক্তিগত স্টাফ ,পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কয়েকজন কূটনীতিক ও সিকিউরিটির কর্মকর্তা। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সেক্রেটারি সালেহ শিবলী প্রতিবেদককে বলেন, প্রধানমন্ত্রী ২২-থেকে ২৫ সেপ্টেম্বর একাধিক কর্মসূচিতে অংশ নেবেন। এর মধ্যে ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘে ভাষণ দিবেন। ২৫ সেপ্টেম্বর দেশের উদ্দেশ্যে রওনা দেবেন। গুরুত্বপূর্ন কোন কর্মসূচি না থাকলে নিউইয়র্কে বসে থাকার কোন কারণ থাকতে পারে না।
মাত্র ৪ দিনের সফর নিয়ে বেশ আলোচনা হচ্ছে নিউইয়র্কে। বিস্ময়তো বটেই। অতীতে প্রধানমন্ত্রীরা জাতিসংঘ সফরে এসে বনভোজনের মতো উৎসবে মেতে উঠতেন। বহরে আসতেন দেড় শতাধিক নেতা, কর্মচারি, ব্যবসায়ী ও পাইকপেয়াদা। বোন, ভাগ্নে, ছেলে,মেয়ে, নাতি-নাতনী ও আত্মীয়স্বজনদের নিয়ে মিনি বনভোজনে মেতে উঠতো। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতিসংঘ সফরে এসে গ্রান্ড হায়াত হোটেলেতো বাসাবাড়ি বানিয়ে ফেলতেন। ৯ বার জন্মদিনই পালন করেছেন। এমনও সফর রয়েছে, তিনি টানা ২১ দিন নিউইয়র্কে অবস্থান করেছেন। ঢাকা থেকে স্পেশাল বিমান এনে প্রায় ১ মাস জেএফকে বিমানবন্দরে বসিয়ে রাখা হযেছিল। এতে এভিয়েশন ডিপার্টমেন্টকে কয়েক লাখ ডলার দিতে হয়েছিল পার্কিং ফি হিসেবেই।
তারেক রহমানের কেন এই কৃচ্ছতা। কেনইবা মাত্র ৪ দিনের সফর। অনেকে বলেছেন, নাগরিক সংবর্ধনার নামে ডোনেশন নেবার খবর ছিল ঢাকায়। কমিউনিটিতে ছিল আলোচনাও। এতে ক্ষুব্ধ তারেক সংবর্ধনার আয়োজন বন্ধের নির্দেশ দেন। বাংলাদেশের সরকার প্রধানদের ইতিহাসে এতও সংক্ষিপ্ত সফর কোন সরকার প্রধান করেননি। তার মূল সফর ছিল ২১ সেপ্টেম্বর থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। সফর করার কথা ছিল সানফ্রানসিসকো। তাও বাতিল করেছেন। দায়িত্বশীল সূত্রগুলো প্রতিবেদকে বলেছেন, ছোট প্রতিনিধিদল নিয়ে আসার পেছনে তার কৃচ্ছতাসাধনের বহিঃপ্রকাশ।
প্রধানমন্ত্রীর নাগরিক সংবর্ধনা বাতিল হলো কেন?
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সংবর্ধনা নেবেন কিংবা তাকে সংবর্ধনা দেয়া হবে এমন কোন সিদ্ধান্তই ছিল না। তবে সংবর্ধনার সম্ভাবনা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, নিউইয়র্কস্থ বাংলাদেশ কনস্যুলেট, জাতিসংঘস্থ বাংলাদেশ মিশন, ওয়াশিংটনস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস ও যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির নেতাকর্মিরা আলোচনা করছিলেন। যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির সাবেক সিনিয়র সহসভাপতি ও কেন্ত্রীয় কমিটির সদস্য গিয়াস আহমেদ সংবর্ধনার প্রাক আলোচনা করতে ঢাকায় গিয়েছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে তাকে বারবার বলা হয়েছে, রাষ্ট্রের লাখ লাখ ডলার খরচ করে প্রধানমন্ত্রী সংবর্ধনা নিতে আগ্রহী নন। তিনি দলীয় নেতাকর্মিদের উদ্যোগে সংবর্ধনার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। তিনি নিউইয়র্কে ফিরে দলীয় উদ্যোগে সংবর্ধণা হবে বলে সাংবাদিকদের জানান। ম্যানহাটনের ম্যারিয়ট মারকুইস হোটেলে সংবর্ধনার জন্য বুকিংও দিয়েছিলেন। বুকিং ছিল ২৫ সেপ্টেম্বরের জন্য।
প্রধানমন্ত্রীর সানফ্রানসিসকো সফর বাতিল হবার পর দৃশ্যপট পাল্টে যায়। তারেক রহমান ২৪ সেপ্টেম্বর ভাষণ দিয়েই ২৫ তারিখ দেশে ফিরতে চান। ভেস্তে যায় নাগরিক সংবর্ধনার আয়োজন। বুধবার গিয়াস আহমেদের দৃষ্টি আর্কষন করলে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী ২৫ সেপ্টেম্বর দেশে ফিরে যাচ্ছেন। এমতাবস্থায় সংবর্ধনা সম্ভব নয়। তবে ২৫ তারিখ বিকেলে তিনি স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীদের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন। যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির সাবেক সাধারন সম্পাক জিল্লুর রহমান প্রতিবেদককে বলেন, প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে আমরা বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নিয়েছি। তবে সংবর্ধণা হচ্ছে না। ১৯ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রীর সফর নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে আমরা কর্মসূচিগুলো তুলে ধরবো।
