মমেকে আগুনের পর ৬ মৃত্যু নিয়ে ধোঁয়াশা
সাপ্তাহিক আজকাল
প্রকাশিত : ০৭:২২ এএম, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ মঙ্গলবার
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালে আগুন লাগার পর ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে—এমন তথ্য ছড়িয়ে পড়লেও এ নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। প্রশাসনের দাবি, আগুনের পর পদদলিত হয়ে ছয়জনের মৃত্যুর কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবে স্বজনদের দাবি, আগুনের পর আতঙ্কে সিঁড়িতে হুড়োহুড়ির সময় পড়ে অন্তত দুজনের মৃত্যু হয়েছে।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৫টা ৫৫ মিনিটের দিকে হাসপাতালের নতুন ভবনের অষ্টম তলায় লিফটের কন্ট্রোল রুমে আগুন লাগে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ১০টি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রায় আধা ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। আগুনের ঘটনায় রোগী ও স্বজনদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লে অনেকে সিঁড়ি দিয়ে দ্রুত নিচে নামার চেষ্টা করেন।
আগুনের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছয়জনের পদদলিত হয়ে মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ে। তবে মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে ময়মনসিংহের বিভাগীয় কমিশনার এস এম হুমায়ূন কবীর বলেন, হাসপাতালের রেজিস্টার, জরুরি বিভাগের চিকিৎসক, নার্স, ফায়ার সার্ভিস ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে ছয়জনের পদদলিত হয়ে মৃত্যুর কোনো তথ্য-প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
তিনি বলেন, মৃত্যুর তালিকায় থাকা একজনকে জীবিত অবস্থায় চিকিৎসা নিতে দেখা গেছে। বাকি চারজনের মধ্যে দুজন স্বাভাবিকভাবে মারা গেছেন বলে তাদের স্বজনরা জানিয়েছেন। অপর দুজনের মৃত্যুর কারণ তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে আগুনের ঘটনায় কেউ পদদলিত হয়ে মারা গেছেন কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
অন্যদিকে, নিহত দুজনের স্বজনরা দাবি করেছেন, আগুনের পর আতঙ্কে সিঁড়ি দিয়ে নামার সময় হুড়োহুড়িতে পড়ে তাদের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের একজন কুলসুম আক্তার (৩৫)। তিনি তারাকান্দার বালিখা এলাকার শহিদুল ইসলামের স্ত্রী। তার ১২ বছর বয়সী ছেলে স্বাধিন মমেকের শিশু ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন ছিল। আগুনের সময় ছেলেকে নিয়ে সিঁড়ি দিয়ে নামার চেষ্টা করেন কুলসুম। পরে তাকে উদ্ধার করে অক্সিজেন দেওয়া হলেও হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয় বলে স্বজনরা জানান।
অপর নিহত শাহজাহান মনির (৪৫) ফুলপুরের রাঙামাটিয়া ইউনিয়নের বিষ্ণুরামপুর এলাকার বাসিন্দা। তিনি যক্ষ্মার চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। তার ছেলে পলাশ মোল্লার দাবি, আগুনের সময় সিঁড়ি দিয়ে নামার পথে পেছন থেকে ধাক্কা খেয়ে তার বাবা পড়ে যান। এ সময় তার মা ও খালাও আহত হন। পরে শাহজাহানকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়।
এদিকে হাসপাতালের তালিকায় জাহানারা আক্তার নামে একজনকে মৃত দেখানো হলেও তিনি জীবিত রয়েছেন বলে জানিয়েছেন ময়মনসিংহ-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সহসভাপতি আবু ওয়াহাব আকন্দ। তিনি জানান, জাহানারা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
স্বজনদের অভিযোগ, হাসপাতালের দুটি সিঁড়ির একটি বন্ধ থাকায় আগুনের সময় রোগী ও স্বজনদের একটি সিঁড়ি দিয়ে নামতে হয়েছে। এতে সেখানে অতিরিক্ত ভিড় তৈরি হয়। বিভাগীয় কমিশনার জানিয়েছেন, নিরাপত্তাজনিত কারণে কিছু সিঁড়ি বন্ধ রাখার কথা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। তবে এতে কোনো অনিয়ম বা অব্যবস্থাপনা ছিল কি না, তা তদন্ত করে দেখা হবে।
ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক পূর্ণ চন্দ্র মুৎসুদ্দী জানান, সন্ধ্যা ৫টা ৫৫ মিনিটে আগুনের খবর পেয়ে প্রায় ১০ মিনিটের মধ্যে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পরে ১০টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করে। প্রাথমিকভাবে লিফটের কন্ট্রোল রুমে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট বা অতিরিক্ত উত্তাপ থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তদন্তের পর আগুন লাগার প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।
