শিক্ষার্থীদের রেটিংয়ে ঢাবি শিক্ষিকা মোনামি পেলেন ১.৫৯
সাপ্তাহিক আজকাল
প্রকাশিত : ০৭:৪৯ এএম, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ রোববার
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শিক্ষিকা মোনামির পাঠদান, পেশাদারিত্ব, সময়ানুবর্তিতা, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আচরণ ও মূল্যায়ন পদ্ধতি নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মূল্যায়ন ব্যবস্থায় শিক্ষার্থীদের দেওয়া বেনামি রিভিউতে কেউ তাকে বন্ধুসুলভ ও ভালো শিক্ষক হিসেবে প্রশংসা করেছেন, আবার কেউ তার পাঠদান ও পেশাদারিত্ব নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। সব মিলিয়ে ৫ এর মধ্যে তিনি পেয়েছেন মাত্র ১.৫৯।
শিক্ষার্থীদের দেওয়া রেটিংয়ের একটি স্ক্রিনশটে দেখা যায়, পাঁচের মধ্যে ‘শিক্ষক বিষয়বস্তু স্পষ্ট ও কার্যকরভাবে ব্যাখ্যা করেছেন’- এমন প্রশ্নে গড় স্কোর ১ দশমিক ৩৬। ‘ক্লাসে সমালোচনামূলক ও স্বাধীন চিন্তাকে উৎসাহিত করা হয়েছে’- এক্ষেত্রে স্কোর ১ দশমিক ৬০, আর ‘উদাহরণ ও ব্যাখ্যা পাঠ সহজে বুঝতে সহায়তা করেছে’- এ ক্ষেত্রে স্কোর ১ দশমিক ৫২।
শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সম্পৃক্ততা ও সহায়তার ক্ষেত্রেও রেটিং তুলনামূলক কম। প্রশ্ন করার ও উন্মুক্ত আলোচনায় উৎসাহ দেওয়ার ক্ষেত্রে স্কোর ২ দশমিক ০৪, শিক্ষার্থীদের কাছে সহজে পৌঁছানো ও তাদের প্রতি সাড়া দেওয়ার ক্ষেত্রে ১ দশমিক ৭৬ এবং সব শিক্ষার্থীর সঙ্গে সম্মান ও ন্যায্য আচরণের ক্ষেত্রে ১ দশমিক ৬৮।
মূল্যায়ন ও ফিডব্যাকের ক্ষেত্রেও ‘গ্রেডিংয়ের মানদণ্ড স্পষ্ট, ন্যায্য ও স্বচ্ছ’- এমন প্রশ্নে স্কোর ১ দশমিক ৬৮। অ্যাসাইনমেন্ট ও পরীক্ষার ফিডব্যাক সময়মতো এবং গঠনমূলক ছিল কি না- এ প্রশ্নে স্কোর ১ দশমিক ৫৬।
সবচেয়ে কম স্কোরগুলোর একটি দেখা গেছে পেশাদারিত্বের ক্ষেত্রে। ‘শিক্ষক সময়ানুবর্তী এবং নিয়মিত ক্লাস নিয়েছেন’- এ প্রশ্নে স্কোর ১ দশমিক ২০। ‘শিক্ষক পেশাগত সততা ও আচরণ বজায় রেখেছেন’- এ ক্ষেত্রে স্কোর ১ দশমিক ২৮।
সামগ্রিকভাবেও রেটিং সন্তোষজনক নয়। ‘আমি এই শিক্ষককে অন্য শিক্ষার্থীদের কাছে সুপারিশ করব’- এ প্রশ্নে স্কোর ১ দশমিক ৪৪ এবং ‘সামগ্রিকভাবে আমি এই কোর্সের পাঠদানে সন্তুষ্ট’- এ ক্ষেত্রে স্কোর ১ দশমিক ৫২।
তবে রেটিংয়ের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের লিখিত মন্তব্যে ভিন্ন চিত্রও উঠে এসেছে। একজন শিক্ষার্থী লিখেছেন, প্রচলিত ধারণার বিপরীতে মোনামি আসলে একজন ভালো শিক্ষক। তার ভাষ্য, শিক্ষিকা সবসময় বন্ধুসুলভ ও শিক্ষার্থীদের কাছে সহজে পৌঁছানো যায়। তিনি কিছুটা আবেগপ্রবণ হলেও পাঠদানে ভালো কাজ করেন। একই শিক্ষার্থী বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিক্ষিকার উপস্থিতি তার পাঠদানের সক্ষমতাকে সংজ্ঞায়িত করে না এবং একজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে অপ্রয়োজনীয় ব্যক্তিগত মন্তব্য করা উচিত নয়।
অন্যদিকে কয়েকজন শিক্ষার্থী তার পেশাদারিত্ব ও পাঠদান নিয়ে কঠোর সমালোচনা করেছেন। একজন শিক্ষার্থী লিখেছেন, তার পুরো ছাত্রজীবনে এমন শিক্ষক দেখেননি। ওই শিক্ষার্থীর অভিযোগ, শিক্ষিকার পেশাদারিত্ব ও পাঠদান দক্ষতার ঘাটতি রয়েছে এবং সময় ব্যবস্থাপনাও দুর্বল। এমনকি তিনি পরীক্ষার তারিখও ভুলে যান বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
আরেক শিক্ষার্থী তাকে ‘সবচেয়ে খারাপ শিক্ষকদের একজন’ হিসেবে উল্লেখ করে সময় ব্যবস্থাপনা, পাঠদানের সক্ষমতা ও পক্ষপাতিত্ব নিয়ে অভিযোগ করেন। ওই শিক্ষার্থীর দাবি, শিক্ষিকা যে পরীক্ষাগুলো নেওয়ার কথা ছিল, সেগুলোর তারিখও ভুলে গেছেন, ফলে শিক্ষার্থীদের অপেক্ষা করতে হয়েছে। একই রিভিউতে আরও দাবি করা হয়, যারা তাকে তোষামোদ করেন তারা তার কাছ থেকে বেশি মনোযোগ ও ভালো নম্বর পান। তবে এসব অভিযোগের কোনো স্বাধীন যাচাই ওই রিভিউগুলোতে নেই।
আরেক শিক্ষার্থী আরও তীব্র ভাষায় শিক্ষিকার শ্রেণিকক্ষ পরিচালনা ও পেশাদারিত্বের সমালোচনা করেছেন। ওই শিক্ষার্থীর দাবি, তিনি ক্লাসে এসে মূলত নিজের তৈরি লেকচার পড়েন এবং লেকচারের কিছু অংশ অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের বন্ধুদের কাছ থেকে তৈরি করা। একই সঙ্গে সময়ানুবর্তিতা ও পেশাদারিত্ব নিয়েও কটাক্ষ করা হয়েছে। সাবেক প্রক্টরিয়াল টিমের দায়িত্ব থেকে সরে আসার পর পক্ষপাতিত্ব কমবে বলে আশা করলেও তা হয়নি বলেও ওই শিক্ষার্থী মন্তব্য করেছেন।
ফলে লিখিত রিভিউগুলোতে মোনামির বিষয়ে একদিকে যেমন বন্ধুসুলভ, মানবিক ও ভালো শিক্ষক হিসেবে প্রশংসা রয়েছে, অন্যদিকে পাঠদান, সময়ানুবর্তিতা, পেশাদারিত্ব, মূল্যায়ন ও পক্ষপাতিত্ব নিয়ে গুরুতর অভিযোগও রয়েছে।
