নেতানিয়াহু’র নির্বাচনী কার্ড মামদানি ও খামেনি
আজকাল রিপোর্ট
সাপ্তাহিক আজকাল
প্রকাশিত : ০১:১৫ এএম, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ শনিবার
ক্ষমতার লড়াই ও নির্বাচনী বৈতরণী পার হতে ইজরাইলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু নিউইয়র্ক সিটির প্রথম মুসলিম মেয়র জোহরান মামদানিকেই প্রচারের হাতিয়ার করলেন। ইরান, লেবানন ও গাজা যুদ্ধে নিজ দেশের রাজনীতিতে কোনঠাসা নেতানিয়াহু আগামী নির্বাচনে পরাজয়ের সম্ভাবনায় মেয়র মামদানি ও ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনিকে কার্ড হিসেবে ব্যবহার করছেন। আগামী অক্টোবেরেই ইজরাইলে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। সেখানে যুদ্ধবাজ প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ভাগ্য নির্ধারিত হবে। ইরানের শাসকের সাথে মামদানিকে যুক্ত করে এআই ভিডিও পোস্ট করেছেন তিনি। তিনি নিউ ইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানিকে ইজরায়েলের শত্রুদের সাথে যুক্ত করার চেষ্টা করেছেন। ভিডিওটিতে কাল্পনিক দৃশ্য দেখানো হয়েছে, যেখানে মেয়র জোহরান মামদানি ফোনে কথা বলছেন মোজতবা খামেনির সাথে। নিউ ইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি ইসরায়েলের আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা ও অন্যদের সাথে হাত মিলিয়েছেন। নিউইয়র্ক টাইমস এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ৪ সেপ্টেম্বর।
নেতানিয়াহুর ব্যক্তিগত 'এক্স' প্রোফাইলে পোস্ট করা ভিডিওটিতে দেখা যায়, কম্পিউটার-অ্যানিমেটেড জোহরান মামদানি তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ানের একটি 'অ্যাভাটার' বা ডিজিটাল প্রতিরূপের সাথে ফোনে কথা বলছেন। তিনি জিজ্ঞেস করছেন, "এরদোয়ান ভাই, আপনি কি নেতানিয়াহুর নির্বাচনী পরাজয় উপলক্ষে আয়োজিত পার্টিতে আসছেন?" ভিডিওর ছবিগুলোতে উল্লেখ করা হয়েছে যে এগুলো এআই-এর মাধ্যমে তৈরি।
এরপর ভিডিওটিতে ইরানের নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি এবং ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের অ্যাভাটারদের সেই কাল্পনিক কথোপকথনে যোগ দিতে দেখা যায়। তারা ভোটারদের দ্বারা নেতানিয়াহুকে ক্ষমতাচ্যুত করার সম্ভাবনায় উল্লাস প্রকাশ করছেন। মিঃ মামদানির কার্যালয় এই ভিডিওর বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে রয়টার্সকে।
আমেরিকার বৃহত্তম শহরের প্রথম মুসলিম মেয়র এবং ইজরায়েলের দীর্ঘমেয়াদী প্রধানমন্ত্রীর মধ্যকার বৈরিতা সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে আরও তীব্র হয়েছে। ভিডিওটি একটি সাম্প্রতিক উদাহরণ হিসেবে সামনে এসেছে যে, কীভাবে উভয় নেতাই একে অপরের বিরোধিতা করাকে নিজেদের রাজনৈতিক পরিচয়ের অংশ করে তুলেছেন। যদিও তাঁদের কাজের ক্ষেত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন এবং তাঁদের মধ্যে হাজার হাজার মাইলের দূরত্ব বিদ্যমান। নেতানিয়াহু অক্টোবরে কঠিন পুনর্নির্বাচনের মুখোমুখি এবং ইজরায়েলের জনমত জরিপে পিছিয়ে আছেন। মামদানিকে ইজরায়েলের শত্রুদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে তিনি জাতীয় নিরাপত্তার প্রসঙ্গ টেনে তাঁর সমালোচনা করেছেন।
লিকুদ পার্টির বিলবোর্ডগুলোতে ইরান ও হিজবুল্লাহর নেতাদের পাশাপাশি মামদানির ছবিও প্রদর্শিত হয়েছে। হিজবুল্লাহ হলো লেবাননের সেই সশস্ত্র গোষ্ঠী যার বিরুদ্ধে ইজরায়েল কয়েক দশক ধরে লড়াই করছে। শুক্রবার নেতানিয়াহু যে ভিডিওটি প্রকাশ করেছেন, তার সমাপ্তি ঘটে তাঁকে নির্বাচনে বিজয়ী হিসেবে এবং ইসরায়েলের শত্রুদের পরাজয় মেনে নেওয়ার দৃশ্য দিয়ে।
গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের কট্টর সমালোচক মেয়র মামদানি । গত জুলাই মাসে 'দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস'কে তিনি বলেছিলেন, সেপ্টেম্বর মাসে নেতানিয়াহু যখন জাতিসংঘ সফরে আসবেন, তখন তাঁকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব কি না তা তিনি খতিয়ে দেখছেন। তিনি ইসরায়েলি নেতাকে "যুদ্ধাপরাধী" বলেও অভিহিত করেছেন।
মেয়র পরবর্তীতে স্বীকার করেন যে, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী তাঁকে গ্রেপ্তার করার আইনি এখতিয়ার তাঁর নেই। তবে তিনি ফেডারেল সরকারের প্রতি এমন পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
