শুক্রবার   ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬   ভাদ্র ২৬ ১৪৩৩   ২৮ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮

বাকস্বাধীনতা যেন বাকশালীনতার সীমা লঙ্ঘন না করে: প্রধানমন্ত্রী

সাপ্তাহিক আজকাল

প্রকাশিত : ০২:২২ এএম, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ শুক্রবার

বাকস্বাধীনতার নামে অশালীনতা ও গালাগালের সংস্কৃতি যেন রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিসরে জায়গা না পায়—এ আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, বাকস্বাধীনতা যেন কোনোভাবেই বাকশালীনতার সীমা লঙ্ঘন না করে। একই সঙ্গে দল-মত নির্বিশেষে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

তারেক রহমান বলেন, ‘ফ্যাসিবাদী শাসনামলে জনগণের সকল গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। কেড়ে নেওয়া হয়েছিল বাকস্বাধীনতা। বর্তমানে দেশে গণতান্ত্রিক একটি পরিবেশ বিরাজ করছে, বাকস্বাধীনতা অবারিত। কিন্তু আমাদের মনে রাখা দরকার, 

তিনি বলেন, ‘আমরা চাই না দেশের জনগণের কাঁধে ফ্যাসিবাদী-স্বৈরাচারী শাসন চেপে বসুক। যে কোনো বিবেকবান মানুষ বা দেশপ্রেমিক রাজনীতিবিদ অবশ্যই চাই না রাজনৈতিক সংস্কৃতি যেন গালাগালে পরিণত হয়।’

সবাইকে দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এজন্যই আমাদের সবাইকে দল-মত নির্বিশেষে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। পারিবারিক পরিবেশে আমরা যে সকল কথা বলতে স্বাচ্ছন্দ বোধ করি না, কেন আমরা জনপরিসরেও সেই শব্দগুলো ব্যবহার করব? কেন আমরা জনপরিসরেও সেই শব্দগুলোকে পরিহার করব না? দেশের সকল বিবেকবান নাগরিকের কাছে প্রশ্ন রেখে যেতে চাই।’

গালাগালের সংস্কৃতির বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘আমরা যদি সত্যিকারভাবে সবাই এ ব্যাপারে একমত হই, আসুন আমরা তাহলে গালাগালি সংস্কৃতির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে ভূমিকা গ্রহণ করি। এই দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনের বিভিন্ন সময় লাখো মানুষ জীবন দিয়েছে। ২০২৪ সালের ফ্যাসিবাদবিরোধী গণঅভ্যুত্থানের সময়ও গুলি করে পাখির মতো মানুষকে হত্যা করা হয়েছিল। ন্যায়পরণতা এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে এই সকল শহীদদের রক্তের ঋণ পরিশোধ করা আমাদের পবিত্র কর্তব্য বলে আমি বিশ্বাস করি দৃঢ়ভাবে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘রক্তের ঋণ পরিশোধ করা যেহেতু আমাদের পবিত্র দায়িত্ব, সেজন্যই গণতান্ত্রিক জনগণ একটি দলকে রাষ্ট্র পরিচালনা এবং একটি দলকে বিরোধীদলের ভূমিকা পালনের দায়িত্ব দিয়েছে। সুতরাং সরকারি দলই বলি বিরোধী দলই বলি, আমরা সবাই মিলে আসুন একটি কল্যাণকর রাষ্ট্র গড়ে তুলি।’