কর্মজীবী মহিলা হোস্টেলে আইন অমান্য: তদারকির দায়িত্বে কারা?
সাপ্তাহিক আজকাল
প্রকাশিত : ০৮:১৯ এএম, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ সোমবার
সুনির্দিষ্ট নীতিমালা ও সরকারি নিয়ম উপেক্ষা করে রাজধানীর নীলক্ষেত কর্মজীবী মহিলা হোস্টেলে বছরের পর বছর ধরে অবৈধভাবে আসন দখল করে রাখার অভিযোগ উঠেছে এক শ্রেণির বাসিন্দার বিরুদ্ধে। নীতিমালা অনুযায়ী একজন কর্মজীবী নারী সর্বোচ্চ চার বছর এখানে থাকার সুযোগ পেলেও, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে অনেকেই ৭ থেকে ১০ বছর বা তারও বেশি সময় ধরে সেখানে অবস্থান করছেন। ফলে প্রকৃত ও যোগ্য কর্মজীবী নারীরা বৈধভাবে আবাসন সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
অনুসন্ধানে জানা যায়, এই অবৈধ বাসিন্দাদের বড় একটি অংশ বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাজনৈতিক তদবির ও বিশেষ প্রভাবে সিট বরাদ্দ পেয়েছিলেন। তাদের সাথে রাজনৈতিক দলের মদদপুষ্ট ব্যক্তিও যুক্ত রয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। হোস্টেলটির সাধারণ বাসিন্দাদের দাবি, নিয়মবহির্ভূতভাবে অবস্থানকারী এই নারীরা হোস্টেল প্রশাসনকে অনৈতিকভাবে প্রভাবিত করে আসন ধরে রেখেছেন। এমনকি বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটেও তারা হোস্টেলে বহাল তবিয়তে রয়েছেন ।
এদিকে, সুস্পষ্ট নীতিমালায় বলা হয়েছে হোস্টেলের সিট ১ বৎসরের জন্য বরাদ্দ দেয়া হবে। বোর্ডারগণের সন্তোষজনক আচরণসহ বসবাস সাপেক্ষে পরবর্তী বছর অতিক্রান্ত হওয়ার পর যথানিয়মে মেয়াদ ১ বছরের জন্য বৃদ্ধি করা হবে যা সর্বোচ্চ মোট ৪ বছর পর্যন্ত, তবে প্রয়োজনের নিরিখে যথাযথ প্রয়োজন যাচাইপূর্বক এবং বোর্ডারদের সন্তোষজনক আচার-আচরণসহ বসবাস সাপেক্ষে কমিটির সুপারিশক্রমে সর্বোচ্চ ১ (এক) বৎসর মেয়াদ বর্ধিত করা যাবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ব্যতীত অন্য কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সুপারিশ এক্ষেত্রে গ্রহণযোগ্য হবে না।
কিন্তু বিধিমালা থাকা সত্ত্বেও দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে অবস্থানকারীদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় হোস্টেল প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সাধারণ নারী বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রশাসনের দায়িত্বশীল একটি অংশের সাথে এই অবৈধ দখলদারদের অভ্যন্তরীণ যোগসাজশ রয়েছে। তাদের নীরব সমর্থনের কারণেই কোনো উচ্ছেদ অভিযান কিংবা সিট বাতিলের মতো প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না।
এ অবস্থায় হোস্টেলটিতে প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ও স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনতে সাধারণ বাসিন্দারা অবিলম্বে একটি নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠনের দাবি জানিয়েছেন। একই সাথে দীর্ঘমেয়াদে অবৈধভাবে বসবাসকারীদের তালিকা জনসমক্ষে প্রকাশ, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত বহিষ্কার এবং দায়িত্ব অবহেলাকারী সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তারা।
