ব্যাংকে পুরোনো মালিকদের ফেরার পথ বন্ধ চায় সংসদীয় কমিটি
সাপ্তাহিক আজকাল
প্রকাশিত : ০১:২৫ এএম, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ রোববার
সংকটে পড়া ব্যাংকের পুরোনো শেয়ারধারীদের শর্তসাপেক্ষে আবার সেই ব্যাংকের শেয়ার, সম্পদ ও দায় নেওয়ার সুযোগ রেখে ব্যাংক রেজল্যুশন আইনে যে ধারা রাখা হয়েছিল, তা বাতিল করে ব্যাংক রেজুল্যুশন (সংশোধন) বিল পাশের সুপারিশ করেছে অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে অনুষ্ঠিত কমিটির বৈঠকে এ সুপারিশ করা হয়। বৈঠকে দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা নাজুক বলে দাবি করেন জামায়াতের সংসদ-সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন। তার আশঙ্কা-এর প্রভাব সবার ওপর পড়বে।
অর্থ মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভাপতি মুশফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন কমিটির সদস্য ও অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি, সদস্য মঈনুল ইসলাম খান, শাহাদাত হোসেন, সাইফুল আলম খান মিলন ও সৈয়দ জয়নুল আবেদীন।
বৈঠকে ব্যাংক রেজুল্যুশন (সংশোধন) বিল নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বিলটি যাচাই-বাছাই ও পর্যালোচনা করে সংশোধিত আকারে সংসদে পাশের জন্য সুপারিশ করা হয়।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে ব্যাংক রেজুল্যুশন অধ্যাদেশ জারি করা হয়। এতে একীভূত হওয়া সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের পুরোনো ও বিতর্কিত মালিকদের ফেরার সুযোগ ছিল না। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে অধ্যাদেশটির ওই ধারা বাতিল করে পুরোনো ও বিতর্কিত মালিকদের ফেরার সুযোগ দিয়ে আইনে পরিণত করা হয়। আইনটি পাশের দিন সংসদে ধারাটি যুক্ত করা নিয়ে আপত্তি জানিয়েছিল বিরোধী দল। বিতর্কিত ধারাটি যুক্ত করা নিয়ে সংসদ ও সংসদের বাইরে সমালোচনার মুখে পড়ে সরকার। এমনকি উন্নয়ন সহযোগীরাও এতে আপত্তি জানায়।
সবার আপত্তির মুখে আইনের ১৮(ক) ধারা বাতিল করে সংশোধনী অনুমোদন হয় ১০ আগস্টের মন্ত্রিসভার বৈঠকে। এরপর বৃহস্পতিবার সংশোধনী বিলটি সংসদে উত্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। সেদিন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দুই কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বিলটি অর্থ মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়। এ নিয়ে শনিবার বৈঠকে বসে কমিটি।
বৈঠকের এজেন্ডায় শুধু ব্যাংক রেজুল্যুশন আইনের ১৮(ক) ধারা বাতিলের প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা ছিল বলে জানান কমিটির সদস্য ও জামায়াতের এমপি সাইফুল আলম খান মিলন।
তিনি সাংবাদিকদের বলেন, আইনের ধারাটি নিয়ে পত্র-পত্রিকায় অনেক লেখালেখি হয়েছে। আমাদের জানামতে, আইএমএফ ঋণের শর্ত হিসাবে এটিকে বাদ দেওয়ার কথা বলেছে। এটি আগামীকালের সংসদের বৈঠকে উপস্থাপন করা হলে পাশ হয়ে যাবে। ধারাটি পরিবর্তনের বিষয়ে আমরা একমত।
আর্থিক খাতের অবস্থা অত্যন্ত নাজুক উলেখ করে জামায়াতের এ এমপি বলেন, সরকারের উচিত সাবধানে পা ফেলা। এটি আমি বৈঠকেও বলেছি। আমরা মনে করি, দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা খারাপ হলে সবার ওপর প্রভাব পড়বে। বিরোধী দল হিসেবে সরকারকে কল্যাণের পথে নিয়ে যাওয়া আমাদের কাজ। সেটি আমরা করেছি, সামনেও করব।
সাইফুল আলম বলেন, আমি বলেছি, ব্যাংক রেজুল্যুশন ২০২৬ পুরো আইনটি পর্যালোচনা করা উচিত। আমাদের পাঁচটি ব্যাংককে একীভূত করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড হলো-একীভূত করা হলে আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রতিটি ব্যাংকের সম্পদ ও দায়বদ্ধতা পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।
