ট্রাম্প ও তারেকের সাক্ষাৎ শিঘ্রই
মাসুদ করিম, ঢাকা থেকে
সাপ্তাহিক আজকাল
প্রকাশিত : ০২:৫০ এএম, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ শনিবার
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক চিঠিতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। ওই চিঠিতে তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রশংসাও করেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আর দু’ সপ্তাহ পরেই যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে আসছেন। জাতিসংঘের এবারের ৮১তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিয়ে তিনি বিশ্ব নেতৃবৃন্দের সামনে ভাষণ দেবেন। এই সুযোগে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে তারেক রহমানের সাক্ষাৎ হবার সম্ভাবনা বেশি। তবে ট্রাম্পের আগ্রহে তাদের একান্ত একটি বৈঠকের সম্ভাবনাও রয়েছে। ট্রাম্পের বোয়িং কূটনীতির অংশ হিসেবেই এসব হতে যাচ্ছে বলে জানা যায়।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় যাবার পর যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারে আগ্রহী হয়। বিগত শেখ হাসিনার সরকারের আমলে ঢাকা-ওয়াশিংটন সম্পর্ক তলানিতে পৌঁছে ছিলো। তখন বাংলাদেশের এলিট বাহিনী র্যাবের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্র। পোশাক শিল্পসহ অন্যান্য অনেক ক্ষেত্রেই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সহযোগিতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সেই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে তারেক রহমানের সরকারের প্রচেষ্টায় ওয়াশিংটন ইতিবাচক সাড়া দিতে থাকে। বিশেষ করে ট্রাম্প নিজে একজন ব্যবসায়ী হওয়ায় বাণিজ্য সহযোগিতার বিষয়টি সামনে আসে। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান ড. মুহাম্মদ ইউনূসের আমলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের সই হওয়া বাণিজ্য চুক্তি ব্যাপকভাবে বাংলাদেশের স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। তবে ধারাবাহিকতার কারণে বর্তমান সরকারও তা বাতিল করেনি। যুক্তরাষ্ট্রও বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ওপর যে হারে পাল্টা শুল্ক আরোপ করেছে; সেই তুলনায় বাংলাদেশের ওপর শুল্ক আরোপ করেছে সহনীয় মাত্রায়। বাংলাদেশের পণ্যের ওপর মার্কিন শুল্কের পরিমাণ ২০ শতাংশ।
বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে মার্কিন পণ্য কেনার জন্যে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের ওপর চাপ দিতে থাকে। এক পর্যায়ে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্র থেকে ১৪টি বোয়িং এয়ারক্রাফট কেনার জন্যে চুক্তি করে। গত এপ্রিলে সই হওয়া চুক্তি মোতাবেক, ওই ১৪টি এয়ারক্রাফটের দাম তিন দশমিক সাত বিলিয়ন ডলার। মার্কিন কোম্পানী বোয়িং আগামী ২০৩১ সাল থেকে ২০৩৫ সালের মধ্যে এই এয়ারক্রাফটগুলো বাংলাদেশে সরবরাহ করবে। বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বহরে বর্তমানে ১৯টি এয়ারক্রাফট রয়েছে। তার মধ্যে ১৪টি বোয়িং এয়ারক্রাফট। এভিয়েশন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নতুন বোয়িং এয়ারক্রাফট বিমানের বহরে যুক্ত হবার আগেই অনেকগুলো বিদ্যমান এয়ারক্রাফট নষ্ট হয়ে যাবে। ফলে নতুন করে এয়ারক্রাফট কেনার চুক্তি কোনও উচ্চাভিলাসী কিছু নয়।
বিমানের সাবেক পরিচালক এভিয়েশন বিশেষজ্ঞ ওয়াহিদ উল আলম আজকালকে বলেন, এয়ারক্রাফট কেনা দোষের কিছু নয়। বাংলাদেশ বিমানের জন্যে এই এয়ারক্রাফট প্রয়োজন আছে। নতুন এয়ারক্রাফট ক্রয়ের চুক্তি এখনই করা না হলে এগুলি যখন সরবরাহ দেওয়া হবে তখন বিমানে এয়ারক্রাফট স্বল্পতা দেখা দিতে পারে। ডোনাল্ড ট্রাম্প এয়ারক্রাফট বিক্রি করতে পেরে খুশি হয়েছেন।
ট্রাম্প অবশ্য চিঠিতে আরও বেশ কিছু এয়ারকাফট কেনার আভাস দিয়েছেন। জানতে চাইলে ওয়াহিদ উল আলম বলেন, বোয়িংয়ের কাছ থেকে নতুন আরও ১১টি এয়ারক্রাফট ক্রয়ের আলোচনা চলছে। এগুলো ২০৩৫ থেকে ২০৪০ সাল নাগাদ সরবরাহ পাওয়া যাবে। সব মিলিয়ে বোয়িংয়ের কাছ থেকে ২৫টি এয়ারক্রাফট কেনা হবে’।
কবে নাগাদ ট্রাম্পের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দেখা হতে পারে জানতে চাইলে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রদূত এম হুমায়ুন কবির বলেন, ‘জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন চলাকালে ট্রাম্প সাধারণত লাঞ্চ কিংবা ডিনারের সময় সকল রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানকে আমন্ত্রণ জানান। ফলে সেখানে দেখা হবে। সেটাই সৌজন্যতা বশত উল্লেখ করেছেন। তবে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কও জোরদার হবে’।
