৪০তম ফোবানার পর্দা উঠছে আজ
আজকাল রিপোর্ট
সাপ্তাহিক আজকাল
প্রকাশিত : ০২:৩৭ এএম, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ শনিবার
উত্তর আমেরিকার ৪টি শহরে একই দিনে শুক্রবার ৪ সেপ্টেম্বর প্রবাসী বাংলাদেশিদের সংগঠন (ফেডারেশন অব বাংলাদেশী এসোসিয়েশনন্স ইনক নর্থ আমেরিকা) ৪০তম ফোবানা সম্মেলনের পর্দা উঠবে। ৪ সেপ্টেম্বর শুক্রবার থেকে ৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৩ দিনব্যাপী জমকালো আয়োজনে কানাডার টরেন্টো, যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক, ফ্লোরিডার অরল্যান্ডো ও ক্যালিফোরনিয়ার লসএঞ্জেলস শহওে ফোবানা সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে । আনন্দ উৎসব, সেমিনার ও নতুন কমিটির নেতৃত্ব নির্বাচন নিয়ে শহরগুলোতে মেতে উঠবে বাংলাদেশি প্রবাসীরা। প্রতিবছর প্রবাসীরা লেবার ডে উইকেন্ডে এ ধরনের সম্মেলনের জন্য অপেক্ষা করেন। বিভিন্ন শহর থেকে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা এতে অংশ নেবেন। বাংলাদেশ থেকেও আসছেন সাংবাদিক, রাজনীতিবিদ ও সাংস্কৃতিক কর্মিরা। এ সম্মেলনকে কেন্দ্র করে টরেন্টো, নিউইয়র্ক, অরল্যান্ডে ও লসএঞ্জলসে সাজসাজ রব।
টরেন্টোতে অনুষ্ঠিত সম্মেলনের নেতৃত্ব দিচ্ছেন গিয়াস আহমেদ, শাহ নেওয়াজ, ড. আবু যুবায়ের দারা ফিরোজ আলম। টরেন্টোর ডন ভ্যালি হোটেল এন্ড সুুটসে ফোবানার এ অংশের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। আয়োজনে সাংস্কৃতিক পর্বে অংশগ্রহণ করবেন বিশ্বখ্যাত জাদু শিল্পী জুয়েল আইচ ও বরেণ্য অভিনয় শিল্পী ফরিদা আখতার ববিতা। । তাদের এই সম্মেলন থেকে আজীবন সন্মাননা দেয়া হবে। সাাংস্কৃতিক আয়োজনে অংশগ্রহণ করবেন সঙ্গীতশিল্পী রানো নেওয়াজ, সেলিম চৌধুরী, ডলি সায়ন্তনী, জোহরা আলীম, সুকণ্যা ঘোষ, পিন্টু ঘোষ, অনিক রাজ, শাহনাজ বেলি, সজীব, সমি, ফকির সাহাবুদ্দিন, আঁখি আলমগীর,, কলকাতা থেকে প্রিয়ংবদা ব্যানার্জী ও ঝিলিক। কানাডাস্থ বাংলাদেশের হাই কমিশনার নাহিদা সোবহান এ সম্মেলনে যোগ দিবেন বলে জানা গেছে।
নিউইয়র্কের কুইন্সের অ্যাস্টোরিয়ায় ইভানজেল ক্রিশ্চিয়ান সেন্টারে ৪ থেকে ৬ সেপ্টেম্বর ফোবানার আরেকটি সম্মেলন হবে। এটির নেতৃত্ব দিচ্ছেন ড. নুরুন্নবী, জাকারিয়া চৌধুরী, দেওয়ান মনিরুজ্জামান , নুরুল আমিন বাবু ও মনজুর কাদের। এই সম্মেলনটি অতিমাত্রায় রাজনৈতিক নেতাকর্মি নির্ভর। তারা শেখ মুজিবর রহমানের ছবি সম্বলিত সম্মেলননের পোষ্টার করেছে। এতে জড়িত সবাই আওয়ামী ঘরণার লোকজনই । যদিও ফোবানার গঠনতন্ত্রে অরাজনৈতিক সংগঠন হিসেবে ঘোষনা রয়েছে। তাদের এ আয়োজনের মূল স্লোগানে মুক্তিযুদ্ধ ও বাংলাদেশের ইতিহাসকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। উদ্যোক্তারা জানিয়েছেন, তিন দিনের সম্মেলনে থাকবে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক আলোচনা, বিশেষ সেমিনার, সাহিত্য ও কবিতা অনুষ্ঠান, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, ব্যবসা ও নেটওয়ার্কিং, নারীর ক্ষমতায়ন, অভিবাসনবিষয়ক সেমিনার এবং নতুন প্রজন্মের জন্য বিভিন্ন ইন্টারঅ্যাকটিভ আয়োজন। উত্তর আমেরিকায় বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রাখা প্রবাসীদের সম্মাননাও দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
আরেকটি ফোবানা সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে ক্যালিফোর্নিয়ার লস অ্যাঞ্জেলেসে। হলিউডের অন্যতম আকর্ষণ ইউনিভার্সাল স্টুডিও’র একেবারে কাছেই হিলটন লস অ্যাঞ্জেলেস/ইউনিভার্সাল সিটিতে বসবে এবারের তিন দিনের এই বর্ণাঢ্য আয়োজন।সম্মেলনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সেমিনার পরিচালনা ও সঞ্চালনা করবেন সাংবাদিক খালেদ মুহিউদ্দীন। সমসাময়িক বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে তাঁর সঞ্চালনায় এই আলোচনা সম্মেলনের সেমিনার পর্বে বিশেষ মাত্রা যোগ করবে বলে আশা করছেন আয়োজকেরা। এই সম্মেলনের নেতৃত্ব খালেদ রৌফ,মোয়াজ্জেম চৌধুরী, জয়নুল আবেদীন ও আবীর আরমগীর।
ফ্লোরিডার অরল্যান্ডো সম্মেলনের মূল আকর্ষণ শিল্পী তালিকা। ঘোষিত তারকাদের মধ্যে রয়েছেন- সানিয়া সুলতানা লিজা, পরীমনি, ইমরান মাহমুদুল, দিনাত জাহান মুন্নি, প্রতীক হাসান, শ্রাবস্তী তিন্নি, দিলশাদ নাহার কনা, আরজিন কামাল, তমা মির্জা, অনন্যা ইয়াসমিন অংকন, সাজু খাদেম এবং রফিক আহমেদ মিল্টন। অর্থাৎ এক মঞ্চে চলচ্চিত্র, সংগীত ও টেলিভিশনের একাধিক পরিচিত মুখকে দেখার সুযোগ পাচ্ছেন দর্শকেরা। এ সম্মেলনের নেতৃত্ব দিচ্ছেন জাহিদ হাসান, নিহাল রহিম, আনোয়ার হোসেন সেন্টু, রাসেল মিয়া, শামীম মৃধা ও একেএম হোসেইন হিটু।
তবে নির্ভরযোগ্য এটি সূত্র জানিয়েছে, শেষদিকে এসে অগোছালো ও এলোমেলো অবস্থায় পড়েছে অরল্যান্ডো ফোবানা। আগাম পেমেন্ট না দিলে জনপ্রিয় বেশ কয়েকজন শিল্পী অনুষ্ঠানে নাও যেতে পারেন। দর্শক ধরে রাখতে আয়োজকরা এক ডজনের বেশী শিল্পীর নাম প্রচার করছেন বলে জানা গেছে।
১৯৮৭ সালে ওয়াশিংটন ডিসিতে প্রথম সম্মেলন আয়োজনের মধ্য দিয়ে ফোবানার যাত্রা শুরু হয়। ফোবানার মূল লক্ষ্য ছিলো কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশিদের মধ্যে ঐক্য ও সংহতি বৃদ্ধি, বাংলাদেশি সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে তুলে ধরা এবং এর প্রচার ও প্রসার, বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক এবং শিক্ষামূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে প্রবাসীদের জীবন-যাত্রার মানউন্নয়ন, যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের মধ্যে নানা ক্ষেত্রে সেতুবন্ধন রচনা করা। কিন্তু গত কয়েক দশকে নেতৃত্বের কোন্দলে সংগঠনটি ৪ ভাগে বিভক্ত হয়েছে। হয়েছে ৪টি কমিটি। প্রত্যেকটি কমিটি প্রতিবছর বিভিন্ন শহরে সম্মেলন করে থাকেন। তা নিয়ে সমালোচনাও রয়েছে। অনেকেই বলেন, প্রবাসীরা কেন একটি ফোবানা সম্মেলন করতে ব্যর্থ হচ্ছেন। তবে ভিন্ন ভিন্ন সম্মেলন হলেও প্রতিটি অনুষ্ঠানে বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশির সমাবেশ ঘটে।
