যুক্তরাষ্ট্র-কানাডা থেকে ৮৬ টন স্বর্ণ লন্ডনে নিল নেদারল্যান্ডস
সাপ্তাহিক আজকাল
প্রকাশিত : ০২:২৮ এএম, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ শুক্রবার
ক্রমবর্ধমান ভূরাজনৈতিক অস্থিরতার আশঙ্কায় উত্তর আমেরিকায় সংরক্ষিত বিপুল পরিমাণ স্বর্ণ লন্ডনে সরিয়ে নিয়েছে নেদারল্যান্ডস। যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা থেকে মোট ৮৬ টন স্বর্ণ সরিয়ে ব্যাংক অব ইংল্যান্ডে রাখা হয়েছে বলে বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) জানিয়েছে ডাচ কেন্দ্রীয় ব্যাংক (ডিএনবি)।
ডিএনবি জানিয়েছে, কয়েক মাস ধরে চলা একটি জটিল প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এসব স্বর্ণ যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা থেকে লন্ডনে স্থানান্তর করা হয়েছে। ব্যাংক অব ইংল্যান্ডে রাখা স্বর্ণ যেকোনো সংকটময় পরিস্থিতিতে তুলনামূলকভাবে দ্রুত ও সহজে লেনদেন করা সম্ভব বলে মনে করছে ডাচ কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
ডিএনবির প্রেসিডেন্ট ওলাফ স্লাইপেন বলেন, ‘আমাদের সক্ষমতা ও প্রস্তুতি আরও জোরদার করার লক্ষ্যে এই পদক্ষেপ গ্রহণ করা অপরিহার্য ছিল।’
যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার মধ্যে চলমান বাণিজ্য বিরোধের মধ্যেই নেদারল্যান্ডসের এই সিদ্ধান্তের কথা সামনে এলো। বাণিজ্য আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর সম্প্রতি দুই দেশই পরস্পরের পণ্যের ওপর নতুন করে শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছে।
ডিএনবির তথ্য অনুযায়ী, মার্চ থেকে আগস্ট পর্যন্ত চলা স্থানান্তর প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে নিউইয়র্ক ও অটোয়া থেকে ২৭ টন স্বর্ণের বার নেদারল্যান্ডসের জাইস্ট শহরে নেওয়া হয়। পরে একই পরিমাণ স্বর্ণ সেখান থেকে লন্ডনে পাঠানো হয়। এ ক্ষেত্রে স্বর্ণের বারগুলো গলানোর প্রয়োজন হয়নি।
তবে আটলান্টিক মহাসাগর পাড়ি দিয়ে এত বিপুল পরিমাণ স্বর্ণ কীভাবে পরিবহন করা হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানায়নি ডিএনবি। ব্যাংকটি জানিয়েছে, স্থানান্তরের বাকি অংশ সম্পন্ন করা হয়েছে নিউইয়র্কে স্বর্ণ বিক্রি করে পরে লন্ডন থেকে সমপরিমাণ স্বর্ণ কিনে নেওয়ার মাধ্যমে।
এক বিবৃতিতে ডিএনবি জানায়, ‘কেনাবেচার প্রক্রিয়ার সঙ্গে সরাসরি পরিবহনের সমন্বয় ঘটানোর ফলে এত বিপুল পরিমাণ স্বর্ণ স্থানান্তরের মতো জটিল কাজের ঝুঁকি এড়ানো গেছে।’
তবে ‘ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা’ বলতে ঠিক কোন পরিস্থিতিকে বোঝানো হয়েছে, তা স্পষ্ট করেনি ডাচ কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার মধ্যে বাণিজ্যিক উত্তেজনা বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কনীতির কারণে কানাডার ইস্পাত, অ্যালুমিনিয়াম, কাঠ ও গাড়ি শিল্পে বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে। আগস্টে কানাডার প্রায় ২৮ বিলিয়ন কানাডিয়ান ডলারের পণ্যের ওপর অতিরিক্ত ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণাও দেওয়া হয়।
ডিএনবি জানিয়েছে, ব্যাংক অব ইংল্যান্ডে সংরক্ষিত স্বর্ণকে বিশ্বের সবচেয়ে সহজে লেনদেনযোগ্য স্বর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তাই যুক্তরাষ্ট্র বা কানাডায় মজুত রাখার তুলনায় কোনো সংকটের সময় লন্ডনে থাকা এসব স্বর্ণ দ্রুত কাজে লাগানো সম্ভব হবে।
সূত্র: বিবিসি
