শুক্রবার   ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬   ভাদ্র ১৯ ১৪৩৩   ২১ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮

ঢাকার পাশে অবৈধ ৭৫০ ইটভাটা

সাপ্তাহিক আজকাল

প্রকাশিত : ০২:২৪ এএম, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ শুক্রবার

রাজধানী ঢাকা ঘিরে থাকা কেরানীগঞ্জ, রূপগঞ্জ, সাভার, আশুলিয়া, ধামরাই ও গাজীপুরে গড়ে উঠেছে অন্তত ৭৫০টি অবৈধ ইটভাটা। পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র, জেলা প্রশাসনের লাইসেন্স কিংবা আইনে বেঁধে দেওয়া দূরত্ব-বিধি-ইত্যাদি কোনো কিছুরই তোয়াক্কা না করে বছরের পর বছর চলছে এসব ভাটা। খোদ ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের দেয়াল ঘেঁষেই রয়েছে পাঁচটি অবৈধ ইটভাটা। অথচ বারবার অভিযান, একাধিক আদালতের নির্দেশ আর সরকারি সংস্থার চিঠি চালাচালির পরও এসব ভাটা বন্ধ হচ্ছে না। পরিবেশ অধিদপ্তরের গবেষণা অনুযায়ী, শুষ্ক মৌসুমে রাজধানী ঢাকার প্রায় ৫৮ ভাগ বায়ুদূষণের জন্য ইটভাটা দায়ী।

ঢাকা, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জে সরেজমিন অনুসন্ধানে উঠে এসেছে অভিন্ন চিত্র। স্থানীয় প্রশাসন, রাজনৈতিক নেতা ও পরিবেশ অধিদপ্তরের একাংশকে ‘ম্যানেজ’ করে বছরের পর বছর এ ব্যবসা টিকিয়ে রাখছে প্রভাবশালী মহল। ভাটার মালিকদের দলীয় পরিচয় ভিন্ন হলেও কৌশল প্রায় একই। ক্ষমতায় যে দল থাকে এরা সেই দলের নেতাদের সঙ্গে সখ্য গড়ে তুলে কর্মযজ্ঞ  চালায়।

ঢাকার পাশে অবৈধযেখানে যত ভাটা : নারায়ণগঞ্জে মোট ২৪১টি ইটভাটার মধ্যে বৈধ মাত্র ৯৪টি, বাকি ১৪৭টিই অবৈধ। বুড়িগঙ্গা ও ধলেশ্বরী নদীর দুই তীরে গড়ে উঠেছে শতাধিক ভাটা। রূপগঞ্জে ৭৪টি ইটভাটার মধ্যে ৭০টিই অবৈধ বলে জানিয়েছে পরিবেশ অধিদপ্তর। সাভার-আশুলিয়া-ধামরাইয়ে অনুমোদনহীন ভাটার সংখ্যা ৩৫৪টি। ধামরাইয়ে ১৬৭, সাভারে ১১৭ ও আশুলিয়ায় রয়েছে ৭০টি। এসব ভাটায় বছরে তৈরি হয় প্রায় সোয়া কোটি থেকে দেড় কোটি ইট। কেরানীগঞ্জে অর্ধশতাধিক অবৈধ ভাটা চলছে রাজেন্দ্রপুর, দোলেশ্বর, জাজিরা ও মোল্লাবাজার এলাকায়। শুধু কেন্দ্রীয় কারাগারের চারপাশেই আছে পাঁচটি। গাজীপুরের চিত্র কিছুটা আলাদা। পরিবেশ ছাড়পত্রপ্রাপ্ত ভাটা ১৩০টির মতো। অভিযান চালিয়ে এরই মধ্যে ১৫-১৮টি ভেঙে দেওয়া হয়েছে। গাজীপুর সিটি করপোরেশন এলাকায় বর্তমানে কোনো ইটভাটা নেই।

দেশজুড়ে চালু প্রায় ৭ হাজার ৮৬টি ইটভাটার মধ্যে ৪ হাজার ৫৫০টিরই পরিবেশ ছাড়পত্র নেই বলে জানায় পরিবেশ অধিদপ্তরের হিসাব। যার সিংহভাগই রাজধানীর আশপাশে কেন্দ্রীভূত।

এ বিষয়ে বন, পরিবেশ ও জলবায়ুবিষয়ক মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘এসব ইটভাটা নিয়ে মন্ত্রণালয় কাজ করছে। গতকাল বৃহস্পতিবারও বৈঠক হয়েছে। শিগগির এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।’

এলাকাবাসী ও বিভিন্ন ইটভাটার মালিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গাজীপুরে কাপাসিয়া, শ্রীপুর, কালিয়াকৈর, কালীগঞ্জ এবং গাজীপুর সদর উপজেলার মির্জাপুর ও পিরুজালীসহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় ইটভাটাগুলো অবস্থিত। জেলার বিভিন্ন জায়গায় উপজেলাগুলোর আবাসিক স্থাপনা, ফসলি জমির পাশে কিংবা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাশে বেশ কিছু ইটভাটা নিয়ম না মেনেই গড়ে উঠেছে। যদিও স্কুল-কলেজ, হাসপাতাল, সরকারি বনভূমির ১ কিলোমিটারের মধ্যে কোনো ভাটা তৈরির নিয়ম নেই। ভাটার আশপাশে স্কুল নেই-এমন ভাটা খুব কমই আছে। সরকারি নিষেধাজ্ঞা তোয়াক্কা না করে গড়ে উঠেছে এসব ইটভাটা। স্থানীয়রা বলেন, ভাটার কম দূরত্বে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থাকার কারণে কিছু ইটভাটা অবৈধ হয়েছে এবং এরই মধ্যে পরিবেশ অধিদপ্তর ও জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে অভিযান চালিয়ে তা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তারা জানান, ইট তৈরিতে কৃষিজমির মাটি কেটে ব্যবহার করা হচ্ছে। গাজীপুরের সব ইটভাটায়ই কয়লা দিয়ে ইট পোড়ানো হয়। শুধু কয়লায় আগুন ধরানোর সময় কাঠ পোড়ানো হয়। তা ছাড়া কাঠ দিয়ে পোড়ালে ইট ভালো হয় না। সেই সঙ্গে পর্যাপ্ত কাঠ পাওয়া যায় না এবং খরচও বেশি পড়ে।

কারা চালান এই ভাটা : অনুসন্ধানে জানা গেছে, কেরানীগঞ্জে শাহজালাল ব্রিকস চালান জহির মিয়া, সোনার তরী ব্রিকস আয়নাল, মদিনা ব্রিকস আবু তালেব, এশিয়ান ট্রেড সিয়াম চৌধুরী, কাকলি ব্রিকস হুমায়ুন এবং কেবিএম ব্রিকস চালান আবদুল জব্বার। স্থানীয়দের ভাষ্য, ইটভাটার মালিকদের পরিচয় নানা রকম হলেও একটা মিল স্পষ্ট। তারা মূলত স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী ব্যবসায়ী, রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে তাদের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ আছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ভাটা-মালিকদের ভাষ্য, বিএনপি, আওয়ামী লীগসহ সব দলেরই লোক এ ব্যবসায় জড়িত, তবে তারা দলীয় পরিচয়ের চেয়ে ব্যবসায়ী পরিচয়েই বেশি সক্রিয়। যখন যে দল ক্ষমতায় থাকে, সেই দলের ছায়াতেই ব্যবসা চালিয়ে যান তারা। সাভার পৌর এলাকায় স্থানীয় এক রাজনৈতিক নেতার নামেই আছে শতাধিক ইটভাটা। কোন্ডা ইউনিয়নেই আছে ২৫টির বেশি ইটভাটা। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, একাধিকবার প্রশাসনিক অভিযানে ভেঙে দেওয়ার পরও প্রভাবশালী মালিকরা ফের ভাটা চালু করেন।

এ বিষয়ে একজন সরকারি কর্মকর্তা জানান, ভাটা-মালিকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে গেলেই বিভিন্ন রাজনৈতিক মহল থেকে তদবির আসে, যার ফলে অভিযান পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়ে।

কীভাবে চলছে এ ব্যবসা : অনুসন্ধানে উঠে এসেছে কয়েকটি নির্দিষ্ট কৌশল, যার মাধ্যমে টিকে থাকছে অবৈধ ইটভাটাগুলো। স্থানীয়দের অভিযোগ, পরিবেশ অধিদপ্তরের উচ্ছেদ অভিযান এলে ভাটা-মালিকরা মোটা অঙ্কের টাকা দিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রতিবারই সামাল দেন। ফলে অভিযান নামমাত্র ‘লোক দেখানো’ হয়। উচ্ছেদের নাটক শেষ হতে না হতেই ভাটা ফের সচল হয়ে যায়। সাভারের এক ইটভাটা-মালিক নিজেই স্বীকার করেছেন, ভাটা ভাড়া দেওয়া থেকে শুরু করে পরিবেশ অধিদপ্তরের নামে বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে লেনদেনের বিষয়টি।

এ ছাড়া মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে চিমনি ভেঙে ভাটা বন্ধ করে দেওয়া হলেও কয়েক দিনের মধ্যেই মালিকরা টিনের অস্থায়ী চিমনি বানিয়ে ফের উৎপাদনে ফিরে যান। সাভার ও আশুলিয়ায় এমন ঘটনা একাধিকবার ঘটেছে।

জানা গেছে, ইট তৈরির প্রধান কাঁচামাল মাটি জোগাড় হয় প্রায়ই রাতের অন্ধকারে ফসলি জমির টপ সয়েল কেটে। স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের ছত্রছায়ায় গড়ে ওঠা সিন্ডিকেট ভেকু দিয়ে জমির মাটি কেটে ট্রাকে করে সরবরাহ করে। প্রতি ট্রাক মাটি বিক্রি হয় ১০ থেকে ১২ হাজার টাকায়। নদীতীরবর্তী জমি থেকে ইঞ্জিনচালিত ট্রলার বা বোটে মাটি আনা হলে প্রতি বোট বিক্রি হয় ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকায়। এ মাটি পরিবহনে থাকে সশস্ত্র পাহারা, যাতে বাধা দেওয়ার সুযোগ না থাকে।

তবে ধামরাই এলাকা থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ইটভাটার আয়ের একটি অংশ স্থানীয় পাতিনেতা থেকে শুরু করে প্রভাবশালী কেন্দ্রীয় নেতা পর্যন্ত চলে যায়। যার ফলে থানা-পুলিশও এসব ভাটার বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেয় না।

প্রাপ্ত্য তথ্যানুযায়ী, নিয়ম অনুযায়ী ইট পোড়াতে কাঠ ব্যবহারের ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকলেও বাস্তবে কাঠ, এমনকি খরচ বাঁচাতে পুরোনো প্লাস্টিকজাতীয় দ্রব্য ও নষ্ট বৈদ্যুতিক তারের প্লাস্টিক পর্যন্ত পোড়ানো হচ্ছে। আইন অনুযায়ী পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ছাড়া জেলা প্রশাসন থেকে ভাটার অনুমোদন মেলার কথা নয়। কিন্তু বাস্তবে অনেক ভাটার ট্রেড লাইসেন্স থাকলেও পরিবেশ ছাড়পত্র নেই, আবার কোনোটির ছাড়পত্র থাকলেও লাইসেন্স নবায়ন নেই- এই দ্বৈত ফাঁক গলিয়েই টিকে থাকছে ভাটাগুলো। বাংলাদেশ ব্রিকস ম্যানুফ্যাকচারিং অ্যাসোসিয়েশনের (বিবিএমওএ) সভাপতি ফিরোজ হায়দার খান বলেন, ‘অবৈধ ইটভাটা ঢাকার চারপাশের তেমন নেই। এগুলোর কিছু লাইসেন্সের মেয়াদ শেষ হয়েছে কিন্তু নবায়ন হয়নি। আর আমিনবাজারের কিছু আছে পুরনো পদ্ধতিতে উৎপাদন কেন্দ্র। তবে ২০১৯ সালের আইন অনুযায়ী স্কুল-কলেজের দূরত্ব বিচারে তাদের অবৈধ বলা হয়, কিন্তু আসলে তা নয়। সারা দেশের ৩ হাজার ইটভাটা পুরোনো পদ্ধতিতে উৎপাদন করে, এগুলো বন্ধের জন্য সরকার কাজ করবে। তবে তড়িঘড়ি করে কিছু করলে দেশের ৬ কোটি চাহিদা থাকা ইটের জোগান দেওয়া কঠিন হবে, ফলে ইটের দাম বেড়ে যাবে।’

আইন যা বলে, বাস্তবতা যা বলছে : ২০১৩ সালের ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইনে স্পষ্ট বলা আছে, আবাসিক এলাকা, সংরক্ষিত এলাকা কিংবা সরকারি স্থাপনার ১ কিলোমিটারের মধ্যে ভাটা স্থাপন করা যাবে না। ২০১৯ সালের সংশোধনীতে লাইসেন্সবিহীন ভাটা পরিচালনার জন্য দুই বছরের জেল ও ২০ লাখ টাকা জরিমানার বিধানও যুক্ত হয়। স্কুল-কলেজ, হাসপাতাল কিংবা সরকারি বনভূমির ১ কিলোমিটারের মধ্যে ভাটা তৈরির নিয়ম না থাকলেও বাস্তবে এমন ভাটার সংখ্যা হাতে গোনা।

২০১৯ সালে হাই কোর্টে করা একটি রিট পিটিশনের (মামলা নম্বর-৩৬৭৬/২০১০) আদেশে বুড়িগঙ্গা নদীদূষণকারী কারখানা ও রাজধানীর আশপাশের সব ইটভাটা বন্ধে পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। বছর গড়ালেও কেরানীগঞ্জের ভাটাগুলো এখনো বহাল তবিয়তে চলছে।

ভুক্তভোগীদের ভাষ্য : কেরানীগঞ্জের বাসিন্দা আবদুল হক বলেন, কোন্ডা ইউনিয়নেই ২৫টির বেশি ইটভাটার কারণে পরিবেশ দূষিত হচ্ছে, কৃষি উৎপাদন কমেছে এবং মানুষ নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। রূপগঞ্জের গোলাকান্দাইল এলাকার বাসিন্দা জাহাঙ্গীর আলম জানান, ভাটার ধোঁয়ায় বাড়ির টিনের চালায় মরিচা ধরে দ্রুত নষ্ট হয়ে যাচ্ছে, আর শ্বাসকষ্টসহ নানা রোগে ভুগছেন এলাকাবাসী। নারায়ণগঞ্জ প্রকৃতি ও পরিবেশ রক্ষা আন্দোলনের সমন্বয়ক সাবেরা সুলতানা বলেন, বিভিন্ন দপ্তরের সঙ্গে কথা বলেও কোনো কার্যকর ভূমিকা দেখতে পাননি তারা।

রূপগঞ্জ উপজেলার কর্ণগোপ এলাকার বাসিন্দা নাজমুল হুদা বলেন, ইটভাটার ধোঁয়ায় পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে। আম, নারিকেলসহ বিভিন্ন ফলের গাছে তেমন ফল হয় না। আমরা আমাদের গাছের দেশি ফল খেতে পারি না বললেই চলে। আর ভাটার ধোঁয়ার কারণে আমাদের বাড়িতে ভাড়াটিয়াও থাকতে চায় না। ফলে আমরা পরিবেশ, স্বাস্থ্য ও অর্থনৈতিকসহ সব দিকে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি।

নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালক এ এইচ এম রাশেদ দাবি করেন, অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে তারা ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট চালাচ্ছেন।

গাজীপুর পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আরেফিন বাদল বলেন, ‘ইটভাটায় দূষণ আছে, আবার আমাদের ইটের প্রয়োজনও আছে। তবে ইটভাটার কারণে বায়ুদূষণের মাধ্যমে মানুষের শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন ক্ষতি হতে পারে এবং আমাদের জলবায়ু পরিবর্তনে এই দূষণ কিছুটা হলেও দায়ী। ইট প্রস্তুতের ক্ষেত্রে আধুনিক পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির ব্যবহার অত্যন্ত জরুরি।’

কেরানীগঞ্জের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উমর ফারুক জানান, ঢাকা জেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের নিয়ে একটি সমন্বিত টিম গঠন করে সব ভাটার তথ্য সংগ্রহের কাজ চলছে। গাজীপুরের জেলা প্রশাসক মো. নূরুল করিম ভূঁইয়া বলেন, ‘প্রচলিত পোড়া ইটের বদলে পরিবেশবান্ধব ব্লক ইট ব্যবহারে উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে।’ তবে বাস্তব চিত্র বলছে, প্রশাসনিক তৎপরতা মূলত কাগজে-কলমে ও সাময়িক অভিযানেই সীমাবদ্ধ থেকে যাচ্ছে; কাঠামোগত সমাধান এখনো অধরা।

বিশেষজ্ঞদের মত : সমস্যার সমাধান কেবল বিচ্ছিন্ন উচ্ছেদ অভিযানে সম্ভব নয়। বাংলাদেশ রিভার ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মো. মনির হোসেনের মতে, টেকসই সমাধানের জন্য দরকার পরিবেশবান্ধব ব্লক ইটের ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা এবং সরকারি-বেসরকারি খাত ও সাধারণ মানুষের সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে রাজধানীর চারপাশে দূষণের এই বলয় দিন দিন আরও বিস্তৃত হতেই থাকবে। ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের (আইইউবি) পরিবেশবিজ্ঞান ও ব্যবস্থাপনা বিভাগের শিক্ষক ড. মো. আবদুল খালেক বলেন, ‘চারপাশের অবৈধ ইটভাটার জন্য পরিবেশের চরম বিপর্যয় ঘটছে। আশপাশের মানুষদের শ্বাসকষ্ট, অ্যাজমা, ফুসফুস ক্যানসারসহ নানাবিধ রোগের বিস্তার ঘটছে। অবৈধ ইটভাটাগুলো পুরোনো পদ্ধতিতে উৎপাদন কার্যক্রম পরিচালনা করে, এতে ডাস্ট চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। কিছুদিন পরপর ঢাকার বাতাস দূষণের শীর্ষে উঠে আসার অন্যতম কারণ এগুলোই। -বিডি প্রতিদিন