শনিবার   ২৯ আগস্ট ২০২৬   ভাদ্র ১৩ ১৪৩৩   ১৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮

ভার্জিনিয়ায় বাইটপোর মেজবান দর্শক মাতালেন নকীব খান ও প্রতীক হাসান

আজকাল রিপোর্ট

সাপ্তাহিক আজকাল

প্রকাশিত : ০২:৪৫ এএম, ২৯ আগস্ট ২০২৬ শনিবার



বাংলাদেশি আমেরিকান আইটি পিপলস অর্গানাইজেশনের (বাইটপো)- উদ্যোগে ভার্জিনিয়ার ফোর্ট হান্ট পার্কে গত ২৩ আগস্ট অনুষ্ঠিত হয়েছে চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী মেজবান ও জমজমাট সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।  আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে গানে গানে দর্শক মাতান কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী নকীব খান ও জনপ্রিয় শিল্পী প্রতীক হাসান
মেজবানি ভোজ, খেলাধুলা, গান, নৃত্য, ফ্যাশন শো ও কনসার্টের সমন্বয়ে দিনব্যাপী এ আয়োজন ডিএমভি এলাকার অন্যতম বৃহৎ বাংলাদেশি কমিউনিটি মিলনমেলায় পরিণত হয়। 
শুধু ওয়াশিংটন ডিসি, মেরিল্যান্ড ও ভার্জিনিয়া (ডিএমভি) এলাকাসহ পেনসিলভানিয়া, নিউ জার্সি, নিউইয়র্ক, টেক্সাসসহ যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য থেকে প্রবাসী বাংলাদেশিরা দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে মেজবানে অংশ নেন। 
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গ্লোবাল ক্লাইমেট অ্যাক্টিভিস্ট ও সিপিএ রায়হানুল ইসলাম চৌধুরী। তিনি চিটাগং ইউনিভার্সিটি অ্যালামনাই ফেডারেশন, ইউএসএ-এর সভাপতি, রুট ফাউন্ডেশনের প্রেসিডেন্ট এবং সিরাজুল আলম খান সেন্টারের চেয়ারম্যান। 
অনুষ্ঠানের সার্বিক দায়িত্বে ছিলেন বাইটপোর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, কবি ও লেখক সামছুদ্দীন মাহমুদ, ভাইস প্রেসিডেন্ট সাইফুল্লাহ খালেদ এবং বাইটপোর ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট পরিচালক স্যাম রিয়া। 
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিনেটর সাদ্দাম আজলান সেলিম; ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির প্রেসিডেন্ট ড. হাসান কারাবার্ক; মনমাউথ ইউনিভার্সিটির স্কুল অব সোশ্যাল ওয়ার্কের ডিন এবং ইন্টারন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অব সোশ্যাল ওয়ার্কসের ভাইস প্রেসিডেন্ট ড. গোলাম এম. মাতব্বর; কাইফ ফাউন্ডেশনের প্রেসিডেন্ট ড. ফাইজুল ইসলাম এবং ই-লার্নিংয়ের পথিকৃৎ, চট্টগ্রামের খান বাড়ির সন্তান অধ্যাপক ড. বদরুল হুদা খান।
দিনব্যাপী আয়োজনের শুরুতে ছিল নানা ধরনের খেলাধুলা ও বিনোদনমূলক প্রতিযোগিতা। এতে ছিল কুকি রেস, মার্বেল / স্পুন রেস, রিং থ্রোসহ দেশিয় বিভিন্ন খেলা। বিশেষ আকর্ষণ ছিল ‘আঙ্কেল স্যাম’ পোস্টারে মোচ লাগানোর মজার প্রতিযোগিতা। শিশু-কিশোরদের পাশাপাশি বড়রাও এসব আয়োজনে অংশ নেন এবং দর্শকরা তা উপভোগ করেন। 
অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে দুপুর ১টায় শুরু হয় বহুল প্রতীক্ষিত ঐতিহ্যবাহী চট্টগ্রামের মেজবানি ভোজ। বিকেল ৩টা পর্যন্ত চলে খাবার পরিবেশন। প্রবাসের মাটিতে চট্টগ্রামের অন্যতম জনপ্রিয় রন্ধনঐতিহ্যের স্বাদ নিতে মেজবানের খাবার ঘিরে অতিথিদের মধ্যে ছিল ব্যাপক আগ্রহ ও উৎসাহ। 
অধ্যাপক ড. বদরুল হুদা খানের রচনায় উদ্বোধনী সংগীত ‘চল মেজ্জানে’ পরিবেশনের মধ্য দিয়ে সাংস্কৃতিক পর্ব শুরু হয়। এতে অংশ নেন বাইটপোর শিল্পীরা।  এরপর একে একে গান পরিবেশন করেন মাহবুব হোসেন অরুণ, আদিল রহমান, শোয়েব রহমান, ডেভিড গোরস্কি ও সীমা খান। 
নৃত্য পরিবেশন করেন নতুন প্রজন্মের শিল্পী সুদীতি সরকার ও অদিতি সরকার। ফ্যাশন শোতে অংশ নেন সারা, দিশা ও স্মিতা দম্পতি। স্থানীয় ও নতুন প্রজন্মের শিল্পীদের এসব পরিবেশনা দর্শকদের মধ্যে বাড়তি উৎসাহ তৈরি করে। 
এরপর মঞ্চে আসেন বাংলাদেশের কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী নকীব খান। রেনেসাঁসহ বাংলাদেশের ব্যান্ডসংগীতের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা এই শিল্পী, সুরকার ও সংগীত পরিচালক তাঁর জনপ্রিয় গান নিয়ে মঞ্চে উপস্থিত হলে দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক উচ্ছ্বাস দেখা দেয়। 
প্রায় এক ঘণ্টার পরিবেশনায় নকীব খান দর্শকদের মাতিয়ে রাখেন। তাঁর পরিচিত ও জনপ্রিয় গানের সঙ্গে কণ্ঠ মেলান উপস্থিত অনেক দর্শক-শ্রোতা। 
নকীব খানের পর মঞ্চে আসেন বর্তমান সময়ের জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী প্রতীক হাসান। তাঁর প্রাণবন্ত পরিবেশনায় উৎসবের আবহ আরও জমে ওঠে। একের পর এক গানে তিনি উপস্থিত দর্শকদের মাতিয়ে রাখেন। 
একদিকে চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী মেজবানি খাবার, অন্যদিকে নকীব খান ও প্রতীক হাসানের সংগীত-এর সঙ্গে নতুন প্রজন্মের নাচ, গান ও ফ্যাশন শোর সমন্বয় পুরো আয়োজনকে একটি পূর্ণাঙ্গ সাংস্কৃতিক উৎসবে রূপ দেয়।