নেপালে লাশ আর লাশ
আজকাল ডেস্ক
সাপ্তাহিক আজকাল
প্রকাশিত : ০১:৫২ এএম, ২৯ আগস্ট ২০২৬ শনিবার
নেপালে লাশ আর লাশ। শতশত নিখোঁজ। বাড়িঘর, অফিস আদালত, লোকালয় পাহাড়ি কাদামাটির নিচে চাপা পড়েছে। গাড়ি, বাড়ি, সহায় সম্পদ কোনো কিছুর অস্তিত্ব নেই। গত বুধবার যারা সেখানে ভ্রমণে গিয়েছিল তাদের কোনো খোঁজ নেই। অভিশপ্ত ভোতেকোশে নদী, লেন্দে নদীর নিষ্ঠুরতায় ভাষাহারা নেপালিরা। তারা চিৎকার করে কান্নার শক্তিও হারিয়ে ফেলেছেন। হলিউডের সিনেমার চেয়েও ভয়াবহ, প্রলয়ঙ্করী হিমবাহ, বন্যা, ভূমিধস চোখের নিমিষে সবকিছু কেড়ে নিয়েছে। বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যে ভয়াবহ এই চিত্র ভেসে উঠেছে।
কিছু বুঝে ওঠার আগেই এই পাহাড় সমান ভয়াবহ এক প্রলয় ভাসিয়ে নিয়েছে দেড় হাজারের বেশি বেশি মানুষকে। অসংখ্য মানুষ কাদামাটি, পানির তোড় ভেসে গেছে। এর নিচে চাপা পড়ে তাদের মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ফলে নিহতের সংখ্যা কোথায় গিয়ে ঠেকবে হয় তা কেউ বলতে পারছেন না। এ ঘটনায় শোক ও সহানুভূতি জানিয়ে পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশ। নিহত, নিখোঁজ ও আহতদের বেশির ভাগই বিদেশি পর্যটক। বুধবারের এই আকস্মিক বন্যার বিষয়ে নেপালে আন্তর্জাতিক রেডক্রস ও রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটিস ফেডারেশনের প্রতিনিধিদলের প্রধান ডেভিড ফিশার বলেছেন, বন্যায় আক্রান্ত অঞ্চলগুলোতে ‘চরম পরিস্থিতি’ বিরাজ করছে। বৃটেন, ভারত, চীনসহ বিভিন্ন দেশ সহায়তা দেয়ার কথা বলেছে। বুধবার স্থানীয় সময় সকালে বরফ ও পাথরের একটি বিশাল ধস থেকে কাদা, পানি ও ধ্বংসাবশেষের প্রবল স্রোত তৈরি হয়ে ত্রিশূলী নদীর তীর উপচে পড়ে। চীন ও নেপালের মধ্যদিয়ে প্রবাহিত এই নদীটি ভোতেকোশি নামেও পরিচিত। ভয়াবহ ওই স্রোতে ঘরবাড়ি, সড়ক, সেতু ও বিদ্যুৎকেন্দ্র ভেসে যায়।
নেপালের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নিখোঁজ রয়েছেন ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, বৃটেন, অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া ও মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশের নাগরিকরা। ভূমিধস, পানির তোড় তেড়ে আসে যে, বহু মানুষ দৌড়ে সরে যেতেও পারেনি। তাদেরকে চাপা দিয়ে চলে যায় ভয়াবহ এই প্রলয়। এমন ভয়াবহতার মধ্যে নেপালের ত্রিভুবন বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর ডিজাস্টার স্টাডিজের পরিচালক বসন্ত রাজ অধিকারী বলেছেন, বৃহস্পতিবার অথবা শুক্রবার বন্যার ‘দ্বিতীয় ও তৃতীয় ঢেউ’ আঘাত হানার ঝুঁকি রয়েছে।
