বৃহস্পতিবার   ২৭ আগস্ট ২০২৬   ভাদ্র ১১ ১৪৩৩   ১৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮

শিশু-কিশোরদের নিরাপত্তায় মেটার ১৮ বিলিয়ন ডলারের সমঝোতা

সাপ্তাহিক আজকাল

প্রকাশিত : ১১:০৩ পিএম, ২৬ আগস্ট ২০২৬ বুধবার

শিশু-কিশোরদের অনলাইন নিরাপত্তা নিয়ে চলা মামলার নিষ্পত্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের ৫২টি অঙ্গরাজ্য, বিভিন্ন অঞ্চল ও ডিস্ট্রিক্ট অব কলাম্বিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেলের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছেছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্রতিষ্ঠান মেটা। এই সমঝোতার আওতায় ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম ব্যবহারকারী কিশোরদের জন্য নতুন করে বেশ কিছু নিরাপত্তাব্যবস্থা চালু করতে হবে প্রতিষ্ঠানটিকে।

আদালতের নথি অনুযায়ী, সমঝোতার অংশ হিসেবে মেটাকে সর্বোচ্চ ১৬ দশমিক ৬৮ বিলিয়ন ডলার দিতে হতে পারে। তবে মেটা তাদের বিবৃতিতে অর্থের পরিমাণ প্রায় ১৮ বিলিয়ন ডলার বলে জানিয়েছে। এই অর্থ ১০ বছর ধরে প্রতিবছর কিস্তিতে পরিশোধ করা হবে। অর্থের একটি অংশ তরুণদের অনলাইন নিরাপত্তা নিশ্চিত করার উদ্যোগসহ বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যভিত্তিক কাজে ব্যয় করা যাবে।

সমঝোতা অনুযায়ী, কিশোর ব্যবহারকারীদের জন্য ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামে দৈনিক ব্যবহারের সময়সীমা নির্ধারণ করতে হবে। রাতের নির্দিষ্ট সময়ে প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞাও দিতে হবে। পাশাপাশি স্কুল চলাকালে শিশুদের প্রবেশাধিকার সীমিত করা, অভিভাবকদের জন্য আরও শক্তিশালী নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা এবং অপ্রাপ্তবয়স্কদের শনাক্ত করতে কার্যকর বয়স যাচাইব্যবস্থা চালু করতে হবে।

মেটার বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, শিশুদের সুরক্ষা ও গোপনীয়তা-সংক্রান্ত একাধিক কেন্দ্রীয় ও অঙ্গরাজ্য আইন প্রতিষ্ঠানটি লঙ্ঘন করেছে। মামলাকারী অঙ্গরাজ্যগুলোর অভিযোগ, ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের মাধ্যমে মেটা শিশু-কিশোরদের আকৃষ্ট করেছে এবং তাদের দীর্ঘ সময় ধরে প্ল্যাটফর্মে যুক্ত রাখার চেষ্টা করেছে। এর ফলে শিশু-কিশোরদের মানসিক ও শারীরিক সুস্থতার ওপর যে ক্ষতিকর প্রভাব পড়ছে, প্রতিষ্ঠানটি তা উপেক্ষা করেছে বলেও অভিযোগ করা হয়।

তবে সমঝোতায় পৌঁছালেও কোনো ধরনের অন্যায় করার অভিযোগ স্বীকার করেনি মেটা।

সমঝোতা ঘোষণার পর ডিস্ট্রিক্ট অব কলাম্বিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেল ব্রায়ান শোয়ালব এটিকে ‘জনস্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে একটি যুগান্তকারী বিজয়’ হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, মেটাকে যে নিরাপত্তাব্যবস্থাগুলো চালু করতে হবে, তা তরুণদের ইনস্টাগ্রাম ও ফেসবুক ব্যবহারের ধরন মৌলিকভাবে এবং তাৎক্ষণিকভাবে পরিবর্তন করবে।

মেটা জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের অঙ্গরাজ্য, বিভিন্ন অঞ্চল ও ডিস্ট্রিক্ট অব কলাম্বিয়ার মোট ৫২ জন অ্যাটর্নি জেনারেলের সঙ্গে এই সমঝোতা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির ভাষ্য, অভিভাবকদের ক্ষমতায়ন এবং কিশোরদের সহায়তা করার দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টার ধারাবাহিকতায় এই চুক্তি করা হয়েছে।

অন্য প্ল্যাটফর্মকেও একই পথে আসার আহ্বান
মেটা মনে করছে, শুধু তাদের প্ল্যাটফর্মে এসব বিধিনিষেধ কার্যকর করলে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যাবে না। তাই টিকটক ও ইউটিউবসহ অন্যান্য প্ল্যাটফর্মকেও একই ধরনের নিরাপত্তাব্যবস্থা চালুর আহ্বান জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

মেটার প্রধান আইন কর্মকর্তা সি জে মাহোনি বলেন, নতুন সময়সীমা, ‘নাইট মোড’ এবং স্কুল চলাকালে ব্যবহারে সীমাবদ্ধতার মতো উদ্যোগ পুরো প্রযুক্তি খাতের জন্য সঠিক পথ দেখাচ্ছে। তবে এই কাঠামো তখনই কার্যকর হবে, যখন অন্য প্ল্যাটফর্মগুলোও এতে যুক্ত হবে।

মেটার ভাষ্য, একটি প্ল্যাটফর্মে কিশোরদের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করা হলেও অন্য প্ল্যাটফর্মে তাদের উপস্থিতি বেড়ে যেতে পারে। প্রতিষ্ঠানটি বলেছে, আমরা জানি, একটি অ্যাপে কিশোরদের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করা হলে তারা সহজেই অন্য অ্যাপে চলে যেতে পারে। তাই কিশোরদের অনলাইন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সব বড় প্ল্যাটফর্মের সমন্বিত পদক্ষেপ প্রয়োজন।

বিবৃতিতে মেটা আরও জানিয়েছে, নতুন এই সমঝোতা কিশোরদের সহায়তা এবং অভিভাবকদের ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রে তাদের দীর্ঘদিনের উদ্যোগের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠছে।

প্রতিষ্ঠানটি আশা করছে, অন্যান্য প্রযুক্তি ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্মও একই ধরনের পদক্ষেপ নেবে। এর ফলে কিশোরদের জন্য অনলাইন পরিবেশ আরও নিরাপদ ও দায়িত্বশীল হয়ে উঠবে।