রোববার   ১৬ আগস্ট ২০২৬   ভাদ্র ১ ১৪৩৩   ০২ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮

পাসওয়ার্ডের বিকল্প ‘পাসকি’, কতটা নিরাপদ?

সাপ্তাহিক আজকাল

প্রকাশিত : ০৩:৪৪ পিএম, ১৬ আগস্ট ২০২৬ রোববার

অনলাইনে বিভিন্ন অ্যাকাউন্ট ব্যবহারের ক্ষেত্রে এখনো সবচেয়ে প্রচলিত নিরাপত্তাব্যবস্থা পাসওয়ার্ড। কিন্তু জটিল পাসওয়ার্ড মনে রাখা, বারবার পরিবর্তন করা কিংবা ভুল পাসওয়ার্ডের কারণে অ্যাকাউন্টে ঢুকতে না পারা—এসব ঝামেলা কমাতে প্রযুক্তি দুনিয়ায় বর্তমানে জনপ্রিয় হচ্ছে নতুন একটি পদ্ধতি, যার নাম ‘পাসকি’ (Passkey)।

পাসকি এমন একটি প্রযুক্তি, যার মাধ্যমে পাসওয়ার্ড টাইপ না করেই বিভিন্ন ওয়েবসাইট ও অ্যাপে লগইন করা যায়। ব্যবহারকারীকে শুধু ফোন বা কম্পিউটারের ফিঙ্গারপ্রিন্ট, ফেস আনলক কিংবা স্ক্রিন লক পিন (PIN) দিয়ে নিজের পরিচয় নিশ্চিত করতে হয়।

পাসকি আসলে কী

সহজভাবে বললে, পাসকি হলো অনলাইন অ্যাকাউন্টে প্রবেশের একটি ডিজিটাল চাবি। প্রচলিত পাসওয়ার্ডের মতো এটি মুখস্থ করে রাখতে হয় না। ব্যবহারকারীর ডিভাইসে থাকা নিরাপদ তথ্যের মাধ্যমে ওয়েবসাইট বা অ্যাপ অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করছেন আসল মালিককে যাচাই করে নিতে পারে। পাসকিতে মূলত দুটি ‘ক্রিপ্টোগ্রাফিক কি’ তৈরি হয়—একটি প্রাইভেট কি এবং অন্যটি পাবলিক কি। প্রাইভেট কি ব্যবহারকারীর ডিভাইসে নিরাপদে সংরক্ষিত থাকে, আর পাবলিক কি সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইট বা অ্যাপের কাছে থাকে। ফলে সাধারণ পাসওয়ার্ডের মতো গোপন তথ্য সরাসরি সার্ভারে পাঠানোর প্রয়োজন হয় না।

কীভাবে কাজ করে পাসকি

মনে করুন আপনি কোনো ওয়েবসাইটে পাসকি চালু করেছেন। পরবর্তী সময়ে সেখানে লগইন করতে গেলে পাসওয়ার্ড লেখার প্রয়োজন হবে না। ফোনে থাকা ফিঙ্গারপ্রিন্ট, ফেস আনলক বা পিন দিয়ে পরিচয় নিশ্চিত করলেই লগইন হয়ে যাবে। অর্থাৎ, ব্যবহারকারীকে একটি দীর্ঘ পাসওয়ার্ড মনে রাখার বদলে নিজের ডিভাইসটিকেই একটি ডিজিটাল চাবি হিসেবে ব্যবহার করতে হবে। এক্ষেত্রে ফিঙ্গারপ্রিন্ট বা মুখের বায়োমেট্রিক তথ্য ওয়েবসাইটের কাছে পাঠানো হয় না। সেটি ডিভাইসেই থাকে এবং ডিভাইস ব্যবহারকারীকে শনাক্ত করার কাজে ব্যবহার করে।

পাসকি কেন বেশি নিরাপদ

পাসওয়ার্ডের বড় সমস্যা হলো সেটি চুরি, ফাঁস বা প্রতারণার মাধ্যমে হাতিয়ে নেওয়া সম্ভব। একই পাসওয়ার্ড একাধিক অ্যাকাউন্টে ব্যবহার করলে একটি জায়গার পাসওয়ার্ড ফাঁস হয়ে অন্য অ্যাকাউন্টও ঝুঁকিতে পড়তে পারে। তবে পাসকীর ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি অনেকটাই কম। কারণ পাসকি কোনো সাধারণ শব্দ বা সংখ্যা নয়, আর এটি অন্যকোনো ওয়েবসাইটে কপি করে ব্যবহারও করা যায় না। বিশেষ করে ফিশিংয়ের মতো প্রতারণামূলক আক্রমণের বিরুদ্ধে পাসকি তুলনামূলকভাবে বেশি নিরাপদ।

কীভাবে পাসকি চালু করবেন

আপনার গুগল, ফেসবুক বা ব্যাঙ্ক অ্যাপের সেটিংসে যান। ‘সিকিউরিটি (security)’ বা ‘পাসওয়ার্ড অ্যান্ড সিকিউরিটি (Password and Security)’ অপশনে ‘ক্রিয়েট পাসকি (Create a Passkey)’ ক্লিক করুন। ফিঙ্গারপ্রিন্ট (Fingerprint) বা ফেস লক (Facelock) দিয়ে ভেরিফাই করুন। ব্যাস, আপনার কাজ শেষ। এরপর থেকে পাসওয়ার্ডের বদলে পাসকি দিয়েই লগইন হবে।

ফোন হারিয়ে গেলে কী হবে

পাসকি ব্যবহারের ক্ষেত্রে ডিভাইসের নিরাপত্তা গুরুত্বপূর্ণ। অনেক ক্ষেত্রে পাসকি পাসওয়ার্ড ম্যানেজারের মাধ্যমে একাধিক ডিভাইসে সিঙ্ক করা যায়। ফলে একটি ফোন হারিয়ে গেলেও আগে থেকে সেটআপ করা অন্য ডিভাইস বা সিঙ্ক করা পাসকি দিয়ে অ্যাকাউন্টে প্রবেশের সুযোগ থাকতে পারে। তবে নিরাপত্তার জন্য নিজের ব্যক্তিগত ডিভাইসেই পাসকি তৈরি করা উচিত। শেয়ার করা বা অন্যের ব্যবহৃত ডিভাইসে পাসকি সংরক্ষণ না করাই ভালো।

কোন কোন ডিভাইসে পাসকি ব্যবহার করা যায়

বর্তমানে আধুনিক সব স্মার্টফোন, কম্পিউটার ও বিভিন্ন ব্রাউজারে পাসকি ব্যবহারের সুবিধা রয়েছে। অ্যান্ড্রয়েড, আইফোন, উইন্ডোজ ও ম্যাকসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্ম এটিকে সমর্থন করে। তবে পাসকি ব্যবহারের জন্য ডিভাইস ও সংশ্লিষ্ট সেবা অবশ্যই এই প্রযুক্তি সমর্থিত হতে হবে।

সূত্র: এশিয়ানেটনিউজ