শনিবার   ১৫ আগস্ট ২০২৬   শ্রাবণ ৩০ ১৪৩৩   ০১ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮

সবিতা ‘লাইফটাইম অ্যাচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ড’ পেলেন

সাপ্তাহিক আজকাল

প্রকাশিত : ০৩:১৪ এএম, ১৫ আগস্ট ২০২৬ শনিবার

 

নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত এক সমাবেশে গত ৯ জুলাই ড. সবিতা রাণী সুতারকে ‘গোল্ডেন ক্রাউন লাইফটাইম অ্যাচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ড’ প্রদান করা হয়েছে। সম্মাননাপত্রে উল্লেখ করা হয়, দক্ষিণ এশীয় সংগীত, নৃত্য ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণে দীর্ঘদিনের নিরলস সাধনা, নারী ও শিশুদের শিক্ষা ও ক্ষমতায়নে অসামান্য ভূমিকা, শিল্প-সংস্কৃতির মাধ্যমে নতুন প্রজন্মকে আদর্শ নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলা এবং অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে মানবিক সহায়তা নিয়ে দাঁড়ানোর অনন্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ড. সবিতা রাণী সুতারকে ‘গোল্ডেন ক্রাউন লাইফটাইম অ্যাচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ড’ প্রদান করা হয়েছে।

সম্মাননাপত্রে আরও বলা হয়, বহ্নিশিখা সঙ্গীত নিকেতন ইনক’র মাধ্যমে সবিতা রাণী দীর্ঘদিন ধরে দক্ষিণ এশীয় সংগীত, নৃত্য ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিচ্ছেন। একই সঙ্গে ‘সবিতা মাদার অ্যান্ড চিলড্রেন ফাউন্ডেশন ইনক’র মাধ্যমে নারী, শিশু, অসহায় পরিবার এবং সমাজের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কল্যাণে শিক্ষা, সামাজিক উন্নয়ন ও মানবিক সহায়তামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন। তাঁর দূরদর্শী নেতৃত্ব, সাংস্কৃতিক চেতনা, মানবিক মূল্যবোধ এবং সমাজসেবামূলক কর্মকান্ড অসংখ্য মানুষের জীবনকে সমৃদ্ধ করেছে এবং বিভিন্ন জাতি-গোষ্ঠীর মধ্যে সম্প্রীতি, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও মানবিক সংযোগকে আরও সুদৃঢ় করেছে।

অনুষ্ঠানে ড. সবিতার অবদানকে চারটি বিশেষ ক্ষেত্রে তুলে ধরা হয়-দক্ষিণ এশীয় সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ, নারী ও যুবসমাজের ক্ষমতায়ন, কমিউনিটি ও মানবিক সেবায় নিবেদিত ভূমিকা এবং আগামী প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণাদায়ী নেতৃত্ব। সম্মাননাপত্রে স্বাক্ষর করেন গাম্বিয়ার অ্যাম্বাসেডর-অ্যাট-লার্জ ড. মুসু ড্রামেহ এবং থাউজান্ড শেডস অব উইমেন ফাউন্ডেশন ইন্টারন্যাশনাল’র প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি অ্যাম্বাসেডর ড. ডিওর ফল। এ দুটি দেশ ও সংস্থা আয়োজিত এ সমাবেশে বিশ্বশান্তি, ন্যায়বিচার, টেকসই উন্নয়ন, মানবকল্যাণ এবং বৈশ্বিক অংশীদারিত্বের জয়গান উচ্চারিত হয়। সম্মেলনে জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্রসমূহের রাষ্ট্রদূত, কূটনীতিক, জাতিসংঘ-সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধি, আন্তর্জাতিক উন্নয়নকর্মী, মানবাধিকারকর্মী, শিক্ষাবিদ, সংস্কৃতিকর্মী, কমিউনিটি নেতা এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানে বিশ্বব্যাপী সমাজ পরিবর্তন, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ এবং মানবিক নেতৃত্বে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা নির্বাচিত ব্যক্তিদের বিশেষভাবে সম্মাননা জানানো হয়।

প্রবাসের বিশিষ্টজনেরা এই অর্জনকে শুধু ড. সবিতা রাণী সুতারের ব্যক্তিগত সম্মান নয়, বরং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের সংস্কৃতি, মানবিক মূল্যবোধ এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের ইতিবাচক ভূমিকার একটি গুরুত্বপূর্ণ স্বীকৃতি হিসেবে অভিহিত করেছেন। তাঁদের মতে, জাতিসংঘে অনুষ্ঠিত এমন একটি আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক সম্মেলনে এই সম্মাননা প্রাপ্তি বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশি সংস্কৃতি ও কমিউনিটি নেতৃত্বের মর্যাদাকে আরও সুদৃঢ় করেছে।

দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে সংগীত, নৃত্য, সংস্কৃতি চর্চা, শিক্ষা, সমাজসেবা এবং মানবকল্যাণে নিরলসভাবে কাজ করা ড. সবিতা রাণী সুতারের এই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি প্রবাসী বাংলাদেশি সমাজের জন্য এক অনন্য গৌরবের মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তাঁর এই অর্জন আগামী প্রজন্মকে সংস্কৃতি, মানবিকতা এবং সামাজিক দায়বদ্ধতার পথে আরও অনুপ্রাণিত করবে বলেও অনুষ্ঠানে উপস্থিত বক্তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।