আল কায়েদা ‘নেটওয়ার্ক’ নিয়ে হুঁশিয়ারি
হাসান মাহমুদ
সাপ্তাহিক আজকাল
প্রকাশিত : ০১:৫৩ এএম, ১৫ আগস্ট ২০২৬ শনিবার
বাংলাদেশের ওপর জাতিসংঘ প্রতিবেদন
বাংলাদেশে বড় ধরনের নাশকতার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্ট মহল। এই আশঙ্কাকে ঘিরে গোপন এক বার্তায় পুলিশ হেড কোয়ার্টার থেকে সব জেলার এসপিদের সতর্ক করা হয়েছে । এদিকে জাতিসংঘ এক প্রতিবেদনে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, বাংলাদেশে সন্ত্রাসি গোষ্ঠি ‘আল কায়েদা’ তাদের নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের করছে। জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ‘অ্যানালিটিক্যাল সাপোর্ট অ্যান্ড স্যাংশনস মনিটরিং টিম’ গত ১০ আগস্ট জাতিসংঘ প্রকাশিত ৩৮তম প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠী ‘আল-কায়েদা’ বাংলাদেশে সক্রিয় সেল গঠনের মাধ্যমে তাদের ‘নেটওয়ার্ক’ সম্প্রসারণের চেষ্টা করছে বিধায় বাংলাদেশকে সতর্ক করা হয়েছে জাতিসংঘের পক্ষ থেকে। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘আল-কায়েদা ইন দ্য ইন্ডিয়ান সাবকন্টিনেন্ট বা একিউআইএস’ একটি বিভক্ত গোষ্ঠী থেকে এখন আঞ্চলিক সন্ত্রাসী সংগঠনে পরিণত হচ্ছে। তারা বড় ইউনিটের পরিবর্তে ছোট ও ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা সেলে কাজ করার পাশাপাশি লজিস্টিক ও আর্থিক নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে। একিউআইএস বাংলাদেশে তাদের সেল প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে দেশটিকে ব্যবহার করার চেষ্টা করছে, এমন উদ্বেগ প্রতিবেদনে প্রকাশ করা হয়েছে। ২০২৫ সালের ১০ নভেম্বর দিল্লির লাল কেল্লার সামনের বোমা বিস্ফোরণের পেছনেও একিউআইএসের হাত ছিল। গত ১২ আগস্ট ঢাকার সাভারে একটি শক্তিশালি বোমার বিস্ফোরণ ঘটিয়ে নিষ্ক্রিয় করে দেয় বোমা বিশেষজ্ঞ দল।
এদিকে ভারতের প্রভাবশালী গোয়েন্দা সংস্থা রিসার্স এন্ড এনালাইসিস উইং ‘র’ এর প্রধান পরাগ জইন বাংলাদেশের শীর্ষ গোয়েন্দা সংস্থা ডিজিএফআই-এর আমন্ত্রণে ঢাকা সফর করেন। তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ডিফেন্স অ্যাফেয়ার্স এডভাইজার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) একেএম শামসুল ইসলামের সঙ্গে ১০ আগস্ট ঢাকায় একটি হোটেলে বৈঠক করেন। ওই বৈঠকে বাংলাদেশের বিভিন্ন নিরাপত্তা ইস্যু উপস্থাপন করেন পরাগ জইন।
জাতিসংঘের পর্যবেক্ষক দল বলেছে যে, আফগানিস্তান থেকে উদ্ভূত সন্ত্রাসী হুমকি মূলত অপরিবর্তিত রয়েছে, অসংখ্য সন্ত্রাসী গোষ্ঠী সেখানে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে এবং প্রতিবেশী দেশ ও মধ্য এশিয়ার জন্য স্থায়ী হুমকি সৃষ্টি করছে। যদিও তালেবান কর্তৃপক্ষ ইসলামিক স্টেট খোরাসান (আইএসআইএল-কে) এবং অন্যান্য জঙ্গি গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছে, তবে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে তারা সন্ত্রাসবাদী হুমকি পুরোপুরি দমন করতে পারেনি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে আল-কায়েদা এবং ইসলামিক স্টেটের সহযোগীরা অর্থ অর্জনের এবং স্থানীয় নিরাপত্তা বাহিনীকে দুর্বল করার উপায় হিসাবে মুক্তিপণের জন্য অপহরণকে অগ্রাধিকার দিয়ে চলেছে।
জাতিসংঘ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আল-কায়দা এবং ইসলামিক স্টেট ইন ইরাক অ্যান্ড দ্য লেভান্ত (আইএসআইএল) সংক্রান্ত নিরাপত্তা পরিষদের এ দলটির সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উভয় সন্ত্রাসী সংগঠনই দীর্ঘ বছর ধরে রাসায়নিক ও জৈব অস্ত্র তৈরির বিষয়ে গভীর আগ্রহ দেখিয়ে আসছে। তবে এখন পর্যন্ত তারা এ সংক্রান্ত কারিগরি চ্যালেঞ্জগুলো অতিক্রম করতে পারেনি। জঙ্গি সংগঠনটির জন্য ‘রাইসিন’ নামে এক ধরনের রাসায়নিক বিষ তৈরির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল তাদের। এছাড়া সিরিয়ায় বাসার আল আসাদ সরকারের রেখে যাওয়া বিভিন্ন রাসায়নিক দ্রব্য দখলের চেষ্টা করেছিল আইএসআইএল। এতে সহায়তার জন্য তারা একজন রসায়ন প্রকৌশলীকে অপহরণও করে। দীর্ঘদিন গৃহযুদ্ধ চলার পর ২০২৪ সালে বিদ্রোহী গোষ্ঠীর কাছে পরাজিত হয়ে দেশ ছাড়েন বাসার আল আসাদ। আইএসআইএল গৃহযুদ্ধের সময় সিরিয়ার বিশাল এলাকায় দখল করে নিয়েছিল।
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় আইএসআইএলের কার্যক্রম সম্পর্কে বলা হয়, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় আইএসআইএল এবং এর সাথে যুক্ত আঞ্চলিক নেটওয়ার্কগুলোর কার্যক্ষমতা হ্রাস পেয়েছে। তবে তারা বিক্ষিপ্ত সেল, উগ্রবাদে আগ্রহী ব্যক্তি, অনলাইন নিয়োগ এবং অনুপ্রাণিত নেটওয়ার্কগুলোর মাধ্যমে ঝুঁকি তৈরি করে চলেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, গত বছর ১৪ ডিসেম্বর অস্ট্রেলিয়ার বন্ডি বিচে ইহুদিদের হানুক্কা উৎসবে গুলি করে ১৬ জনকে হত্যা করা হয়। সেখানেও তদন্তে দেখা গেছে, সন্দেহভাজনরা আইএসআইএলের মতাদর্শ দ্বারা অনুপ্রাণিত ছিল এবং সন্ত্রাসী কার্যকলাপের সঙ্গে যুক্ত অঞ্চলে ভ্রমণ করেছিল।
এতে বলা হয়েছে যে, পাকিস্তানের বিরুদ্ধে তেহরিক-ই তালিবান পাকিস্তান (টিটিপি)-এর আক্রমণের কারণে এই উত্তেজনা কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে, অন্যদিকে তালেবানরা সন্ত্রাসবাদী সংগঠনগুলিকে আশ্রয় দেওয়ার কথা প্রকাশ্যে অস্বীকার করা সত্ত্বেও গোষ্ঠীটিকে সমর্থন অব্যাহত রেখেছে।
