সংবর্ধনা ও মিলাদে ডুবে আছে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি
বিশেষ প্রতিবেদন
সাপ্তাহিক আজকাল
প্রকাশিত : ০১:৪৫ এএম, ১৫ আগস্ট ২০২৬ শনিবার
যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির কমিটি নেই প্রায় ২০ বছর। বেগম খালেদা জিয়া ও সাইফুর রহমানের হাতে সর্বশেষ কমিটি হয়েছিল। যার নেতৃত্বে ছিলেন আব্দুল লতিফ সম্রাট ও জিল্লুর রহমান জিল্লু। সিনিয়র সহসভাপতি ও যুগ্ম সাধারন সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছিলেন গিয়াস আহমেদ ও মিল্টন ভূঁইয়া। আর কোষাধ্যক্ষ ছিলেন জসিম ভূইয়া। ৩ বছরের মাথায় সে কমিটিও ভেঙ্গে দেয়া হয়। গত ১৮টি বছর কমিটিবিহীন এই দলটি শেখ হাসিনার শাসনামলে আন্দোলন সংগ্রাম করেছে প্রবাসে। কিন্তু কমিটি না থাকায় সংগঠনটি বিভক্ত হয়েছে একাধিক উপধারায়। একাংশের নেতৃত্ব দিচ্ছেন সাবেক সাধারন সম্পাদক জিল্লুর রহমান জিল্লুু। অপর অংশে সাবেক সিনিয়র সহসভাপতি গিয়াস আহমেদ। তৃতীয় অংশটির নেতৃত্বে মিল্টন ভূঁইয়া।
১৯ বছর পর দলটি ক্ষমতায় ফিরে এসেছে। আসেনি যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির একক কমিটি। রহস্যজনক কারণে কেন্দ্রও তা নিয়ে মাথা ঘামাতে অনীহা। রাখছে আশ্বাসের মূলা ঝুলিয়ে। কিন্তু ক্ষমতার সুবাতাসে এখন বিভক্ত বিএনপির নেতাকর্মিদের কনস্যুলেট ও স্থায়ী মিশনে টাই স্যুট পড়ে মহড়া দিতে কসরতের কমতি নেই। ১৭ বছর দখলে রাখা আওওামী নেতাদের চেয়ারগুলোতে এখন বিএনপির নেতারা বসে থাকেন । এ যেন এক মিউজিক্যাল চেয়ার। ক্ষমতা যাদের, চেয়ার তাদের। আগে মিশন ও কনস্যুলেটের কর্মকর্তারা আওয়ামী নেতাদের অঙ্গুলি হেলনে চলতেন । এখন চলছেন বিএনপি নেতাদে কথায়।
যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি এখন দলকে দেখভালোর চেয়ে সরকারি অফিসে দাওয়াত গ্রহণ ও সংবর্ধনা দিতে মহাব্যস্ত। গত ৬ মাসে ডজনেরও বেশি মন্ত্রী ও এমপি এসেছেন যুক্তরাষ্ট্রে। বিএনপি নেতারা এসব নেতাদেন পেছনে পেছনে দৌড়াতে দৌড়াতে জুতা ক্ষয় করে ফেলছেন। প্রতিযোগিতায় নেমেছেন নেতাদের সংবর্ধনা দিতে। কে আগে দিবেন সে প্রতিযোগিতা। প্রবাসীমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী যুক্তরাষ্ট্রে এসে ১২টি সংবর্ধনা গ্রহন করেছেন। যে সব মন্ত্রীরা সংবর্ধনা নেননি তাদের হোটেলে গিয়ে নেতারা তোষামোদি করেছেন। করেছেন সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময়। বাংলাদেশ থেকে আগত এসব মন্ত্রী ও এমপিদের তালিকায় রয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, স্থানীয় সরকার মন্ত্রী সালাহউদ্দীন আহমেদ, প্রবাসী কল্যানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, বানিজ্যমন্ত্রী খোন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, যোগাযোগমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এনি,পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ সাকী, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রাশেদ তিতুমীর, শাম্মী আকতার এমপি ও ফকরুল ইসলাম এমপি।
