শনিবার   ০৮ আগস্ট ২০২৬   শ্রাবণ ২৩ ১৪৩৩   ২৩ সফর ১৪৪৮

জুলাই স্মরণ করল এনসিপি ডায়াস্পোরা

আজকাল রিপোর্ট

সাপ্তাহিক আজকাল

প্রকাশিত : ০২:২৬ এএম, ৮ আগস্ট ২০২৬ শনিবার


 
বাংলাদেশের জুলাই বিপ্লবের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তিতে নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে জুলাইয়ের উত্তল দিনগুলোর কথা স্মরণ করে এনসিপি ডায়াসপোরা অ্যালায়েন্স ইউএসএ। গত ১ জুলাই নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসের সানাই পার্টি হলে অনুষ্ঠিত হয়েছে স্মরণসভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, জুলাই ডকুমেন্টরি প্রদর্শনী হয় ‘আমেরিকায় জুলাই জাগরণ’ নামের এ অনুষ্ঠানে। এতে নিউইয়র্কসহ যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য থেকে প্রবাসী বাংলাদেশি, এনসিপির নেতাকর্মী এবং কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তিরা অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ থেকে অনলাইনে প্রধান অতিথি হিসেবে যুক্ত ছিলেন জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তিনি জুলাই বিপ্লবের চেতনা ধারণ করে রাষ্ট্র সংস্কার, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান শক্তিশালীকরণ এবং জুলাই সনদ বাস্তবায়নে দেশ-বিদেশের সকলকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান। বিশেষ অতিথি হিসেবে অনলাইনে বক্তব্য দেন সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা ও এন-সিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। এছাড়া বক্তব্য দেন এনসিপির কেন্দ্রীয় নেত্রী মুনিরা শারমিন, যুগ্ম সদস্য সচিব আলাউদ্দিন মোহাম্মদ, কেন্দ্রীয় সদস্য তাওহিদ তানজিম, যুগ্ম সদস্য সচিব উম্মে তাসবিহ এবং কেন্দ্রীয় সদস্য রাশেল উল আলম।
ভিডিও বার্তার মাধ্যমে অংশ নেন আখতার হোসেন, হাসনাত আব্দুল্লাহ, দিলশাদ পারুল, এহতেশামুল হক এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশের এনসিপি ডায়াস্পোরার নেতৃবৃন্দ।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন এনসিপি ইউএসএ ডায়াসপোরার আহ্বায়ক রিদোয়ান হোসেন তালুকদার অক্ষর, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মুনা হাফসা, সদস্য সচিব মো. আবদুল মোহাইমিন সাইমন, মুখ্য সংগঠক এম. এইচ. সিদ্দিক, যুগ্ম অর্থ সম্পাদক নিজামুল ওয়াহেদ শাহির, নিউইয়র্ক স্থানীয় সংগঠক রাকিব উদ্দিন, নিউ জার্সি স্থানীয় সংগঠক তৌকির চৌধুরী এবং উপদেষ্টা রওশন হক ও সেলিনা ফেরদৌসী উদ্দিন।
কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যে বক্তব্য দেন ডা. ওয়াজেদ এ. খান, কবি কাজী জহিরুল ইসলাম, বিএসএস প্রধান আল আমিন রাসেল, মানবাধিকার কর্মী কাজী ফৌজিয়া এবং লেখক-গবেষক আনোয়ার হোসাইন মঞ্জু। উপস্থিত অতিথিদের মধ্যে ছিলেন জামায়াতে ইসলামী আমেরিকার কেন্দ্রীয় প্রধান অধ্যাপক ড. নকিবুর রহমান, হাওয়ার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক ড. মির্জা গালিব, অবসরপ্রাপ্ত মেজর সুমন, অবসরপ্রাপ্ত মেজর হালিম, যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত অবসরপ্রাপ্ত সামরিক কর্মকর্তা, শিক্ষাবিদ, সাংবাদিক এবং বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা।
বক্তারা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ ও আহতদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে রাষ্ট্র সংস্কার, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান সুদৃঢ়করণ এবং জুলাই সনদ বাস্তবায়নে দেশ-বিদেশের নাগরিকদের সক্রিয় ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। অনেকেই জুলায়ের দিনগুলোতে টাইমস্কয়ার, জাতিসংঘের সামনে, জ্যামাইকা, জ্যাকসন হাইটসসহ যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন স্থানে প্রবাসীদের আবেগঘন আন্দোলন ও জুলাই সম্পৃক্ততার কথা স্বরণ করেন। একই সঙ্গে সম্পৃতির বাংলাদেশ ও জুলায়ের চেতনার বিষয়ে সবাইকে দলমত নির্বিশেষে এক হয়ে কাজ করার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন এম. এইচ. সিদ্দিক। কারিগরি সহায়তায় ছিলেন ক্যানসার বিজ্ঞানী রাহাত আলম। মিডিয়া সমন্বয়ে সহযোগিতা করেন সানজিদা নওশীন প্রমি ও হাসিবুল কবির মাহিন। অনুষ্ঠানের অন্যতম আবেগঘন পর্ব ছিল জুলাই আন্দোলনের শহীদ পরিবারের সদস্যদের অংশগ্রহণ। তাঁদের স্মৃতিচারণে উঠে আসে আত্মত্যাগ, বেদনা, সাহস এবং নতুন বাংলাদেশের স্বপ্নের কথা।
অনুষ্ঠানে জুলাই আন্দোলনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত, বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ এবং যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে জুলাই উপলক্ষে আয়োজিত কর্মসূচির ওপর নির্মিত প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। পরে বাংলাদেশি-আমেরিকান তরুণদের ব্যান্ড ছরংংধ সাংস্কৃতিক পরিবেশনা উপস্থাপন করে।
আলোচনা, স্মৃতিচারণ, প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনী এবং সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মধ্য দিয়ে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন এবং নতুন বাংলাদেশ গঠনের প্রত্যয় পুনর্ব্যক্ত করে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি হয়।