শনিবার   ০৮ আগস্ট ২০২৬   শ্রাবণ ২৩ ১৪৩৩   ২৩ সফর ১৪৪৮

ভাঙ্গন ও পাল্টাপাল্টি বহিষ্কারেই জিবিএ’র পরিচিতি

আজকাল রিপোর্ট

সাপ্তাহিক আজকাল

প্রকাশিত : ০২:১৫ এএম, ৮ আগস্ট ২০২৬ শনিবার


 
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বাংলাদেশ বিষয়ক গবেষণাধর্মী প্রতিষ্ঠান দাবি করা গ্লোবাল বাংলাদেশি এলায়েন্স (জিবিএ) প্রতিষ্ঠার এখনো এক বছরও হয়নি। এ সময়ে একমাত্র কর্মসূচী ঢাকার এক থ্রিস্টার হোটেলে একটি সেমিনার আয়োজন। যুক্তরাষ্ট্রে নেই কোন দৃশ্যমান উদ্যোগ, নেই কাযক্রম, নেই কোন ওয়েবসাইটও। অথচ এরই মধ্যে সংগঠনের ভাঙ্গন ধরেছে, চলছে বহিষ্কারের খেলা। এসব ঘিরেই পরিচিতি আর আলোচনায় জেবিএ।
কোন কর্মসূচী ছাড়াই নিউইয়র্কের কমিউনিটির সামনে প্রথমবার সংগঠনটি নিজেদের নাম নিয়ে এসেছে চেয়ারম্যানকে বহিষ্কার ঘোষণার সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে। আর চেয়ারম্যানও বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে তিনজনকে বহিষ্কার করেছে। এর মাধ্যমেই কমিউনিটির অনেকেই প্রথম শুনেছে জিবিএ’র নাম।
জানা গেছে, সংগঠনে ভাঙ্গনের মূল কারণ কৃতিত্ব ক্রেডিট না পাওয়া। সম্প্রতি বাংলাদেশের এক এমপি নিউইয়র্কে সফরে এলে সংগঠননের কাউকে না জানিয়ে তাকে নিয়ে সংবর্ধনার আয়োজন করে চেয়ারম্যান মিজান চৌধুরীর কয়েকজন। এ থেকেই দ্বন্ধের সূত্রপাত এবং ভাঙ্গন।
জানা গেছে ১ আগস্ট নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসের সানাই রেস্টুরেন্টে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের নির্বাহী নেতৃত্ব পুনর্গঠনের ঘোষণা দেয় একটি পক্ষ। চেয়ারম্যানকে না জানিয়ে সংবাদ সম্মেলন আয়োজনের খবর পেয়ে তিন প্রধান আয়োজককে বহিষ্কার করেন চেয়ারম্যান।
চেয়ারম্যানের পক্ষ থেকে সংবাদ বিজ্ঞপ্তি মাধ্যমে জানানো হয়, জিবিএ'র বিদ্যমান নির্বাহী কমিটি ওই উদ্যোগকে (সংবাদ সম্মেলন) অননুমোদিত আখ্যা দিয়ে নতুন কমিটিতে গুরুত্বপূর্ণ পদ পাওয়া তিন ব্যক্তিকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার এবং নতুন বাইলজ কমিটি গঠন করা হয়েছে।
জিবিএ'র বিদ্যমান নির্বাহী কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সম্প্রতি অনুষ্ঠিত এক জরুরি সভায় সংগঠনের গঠনতন্ত্র পর্যালোচনা ও প্রয়োজনীয় সংশোধনের জন্য তিন সদস্যের একটি বাইলজ কমিটি গঠন করা হয়েছে। একই সভায় সংগঠনের নাম, পরিচয় ও সদস্যদের নাম অনুমতি ছাড়া ব্যবহারের অভিযোগে মোহাম্মদ সালেহ আহমেদ, আজম চৌধুরী ও সোহেল আহমেদকে বহিষ্কার করা হয়।
নবগঠিত বাইলজ কমিটির চেয়ারম্যান করা হয়েছে জিবিএ চেয়ারম্যান মিজান চৌধুরীকে। কমিটির অপর দুই দুই সদস্য হলেন কমিউনিটি ব্যক্তিত্ব ডা. সৈয়দ আল আমিন রাসেল এবং মিডিয়া ব্যক্তিত্ব মুহাম্মদ কামরুল ইসলাম সনি। সংগঠনের গঠনতন্ত্রকে আরও কার্যকর, যুগোপযোগী ও সুসংগঠিত করতে বিদ্যমান বাইলজ পর্যালোচনা এবং প্রয়োজনীয় সংশোধনী প্রস্তাব তৈরির দায়িত্ব কমিটিকে দেওয়া হয়েছে। বিদ্যমান নেতৃত্বের অভিযোগ, সংগঠনের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন ছাড়াই একটি কথিত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ ছাড়া সাংগঠনিক ক্ষমতা ও পদমর্যাদা নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার, অননুমোদিত ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম পরিচালনা, সদস্যদের পূর্বানুমতি ছাড়া তাদের নাম ব্যবহার এবং পরিকল্পিতভাবে সংবাদ সম্মেলন আয়োজনের অভিযোগও তোলা হয়েছে।
এসব অভিযোগের ভিত্তিতেই মোহাম্মদ সালেহ আহমেদ, আজম চৌধুরী ও সোহেল হোসাইনকে (আহমেদ সোহেল) বহিষ্কার করা হয়েছে বলে নির্বাহী কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়। একই সঙ্গে বহিষ্কৃত ব্যক্তিদের সঙ্গে জিবিএ-সংক্রান্ত কোনো যোগাযোগ, সাংগঠনিক লেনদেন বা কার্যক্রমে অংশ না নিতে সদস্য, শুভাকাক্সক্ষী ও সংশ্লিষ্টদের অনুরোধ করা হয়েছে।
জিবিএ'র অপর পক্ষ ১ আগস্ট সংবাদ সম্মেলনে জানায়, সংগঠনের পুনর্গঠন, গণতান্ত্রিক পরিচালন ব্যবস্থা, স্বচ্ছতা, অন্তর্ভুক্তিমূলক নেতৃত্ব ও সাংগঠনিক আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে নির্বাহী কমিটির সদস্যদের ভোটের মাধ্যমে নতুন নেতৃত্ব অনুমোদন করা হয়েছে। ঘোষিত নতুন নেতৃত্বে আজম চৌধুরীকে চেয়ার, শামীম আহমেদকে ভাইস চেয়ার (বাংলাদেশ), কাজী আহমেদকে ভাইস চেয়ার (কানাডা), মো. সোহেল হোসাইনকে প্রশাসনিক পরিচালক ও মিডিয়া আউটরিচ পরিচালক, তারিকুল ইসলামকে অর্থ পরিচালক, মুনাফ চৌধুরীকে মিডিয়া পরিচালক (বাংলাদেশ), নূরুল ইসলামকে যোগাযোগ পরিচালক এবং মোরশেদ বিলুকে মিডিয়া প্রযুক্তি পরিচালক করা হয়েছে।
তালিকায় আগের পদ থেকে সরিয়ে মিজান চৌধুরীকে সদস্য এবং ড. আবু সালেহকে প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।