যুক্তরাষ্ট্রের ৭ প্রতিষ্ঠানে চীনের নিষেধাজ্ঞা
সাপ্তাহিক আজকাল
প্রকাশিত : ০২:৩৩ এএম, ৭ আগস্ট ২০২৬ শুক্রবার
শুল্ক আরোপের পাল্টা হিসেবে চীন যুক্তরাষ্ট্রের ৭টি প্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। বুধবার এ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে বলা হয়, চীনের কোনো প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তি এখন থেকে তালিকাভুক্ত এই মার্কিন ফার্মগুলোর সাথে ব্যবসা বা কোনো ধরনের সহযোগিতা করতে পারবে না।
আগামী মাসে চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিং যুক্তরাষ্ট্র সফর করবেন। শি-ট্রাম্প হাই প্রোফাইল বৈঠকের আগে এ বাণিজ্য যুদ্ধ দুই দেশের সম্পর্কে উত্তেজনা বাড়াবে।
চীন জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের নেয়া সাম্প্রতিক কিছু পদক্ষেপের বিরুদ্ধে এক ধরনের প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা হিসেবে এ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ঘোষণা করেছে, তারা একটি বায়োটেক ও একটি রিসোর্স অ্যানালিটিক্স ফার্মসহ একাধিক মার্কিন প্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করছে।
যুক্তরাষ্ট্রে ড্রোন ও এর সাথে সম্পর্কিত যন্ত্রাংশ ও প্রযুক্তির রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ আরো কঠোর করছে। উইঘুর এবং অন্যান্য সংখ্যালঘু গোষ্ঠীর ওপর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে গত সপ্তাহে ৪৩টি চীনা কম্পানির পণ্য আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা দেয় যুক্তরাষ্ট্র, যার পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে ৬টি কম্পানিকে চীনের প্রতিরোধমূলক নিষেধাজ্ঞা তালিকায় যুক্ত করা হয়েছে বলে মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।
সপ্তম আরেকটি কম্পানির তালিকাভুক্তি যুক্ত ছিল মার্কিন ফেডারেল কমিউনিকেশনস কমিশন-এফসিসি কর্তৃক গত মাসে নেওয়া একটি পদক্ষেপের সাথে সম্পৃক্ত। জাতীয় নিরাপত্তার অজুহাত দেখিয়ে মার্কিন এফসিসি গত মাসে চীন থেকে নতুন ধরনের মানবিক রোবট এবং চার পায়ের রোবট আমদানি নিষিদ্ধ করেছে।
আমেরিকার এই নিষেধাজ্ঞার পাল্টা হিসেবে চীনও ড্রোন, ড্রোনের যন্ত্রাংশ ও প্রযুক্তি রপ্তানি করার নিয়ম অনেক কঠিন করে দিয়েছে। এ ছাড়া চীন তাদের দেশে ব্যবহৃত মার্কিন বা বিদেশি সফটওয়্যারযুক্ত অফিসিয়াল যন্ত্রপাতির ওপর নিরাপত্তা তদন্ত শুরু করেছে। কারখানার উৎপাদন বা ট্র্যাকিং নিয়ে আমেরিকার সাথে চলমান কিছু যৌথ পরিদর্শন কাজও স্থগিত করে দিয়েছে চীন।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র বলেছেন, চীনা ফার্মগুলোকে লক্ষ্য করে নেওয়া সাম্প্রতিক মার্কিন পদক্ষেপের জবাবে বেইজিংয়ের সামনে ‘প্রয়োজনীয় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া ছাড়া আর কোনো উপায় ছিল না।’
মুখপাত্র আরো বলেন, ‘চীন যুক্তরাষ্ট্রকে অবিলম্বে সংশ্লিষ্ট পদক্ষেপগুলো প্রত্যাহার করতে, তাদের ভুল কর্মকাণ্ড বন্ধ করতে এবং একটি গঠনমূলক ও স্থিতিশীল চীন-মার্কিন সম্পর্ক বজায় রাখতে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানাচ্ছে।’
তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র যদি চীনের বিরুদ্ধে নতুন কোনো বিধিনিষেধমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে জেদ ধরে, তবে চীন আরো কঠোর পাল্টা ব্যবস্থা নেবে।’
জোরপূর্বক শ্রমের সম্পর্কের অভিযোগে চীনা ফার্মগুলোকে কালো তালিকাভুক্ত করা এবং নতুন রোবট ও পাওয়ার কনভার্টার আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার পাশাপাশি, ট্রাম্প প্রশাসন সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইরানি জ্বালানি বহনের অভিযোগে চীনা শিপিং অপারেটরদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। সেই সাথে দুটি শীর্ষস্থানীয় বেসামরিক বিশ্ববিদ্যালয়সহ নতুন কিছু প্রতিষ্ঠানকে পেন্টাগনের কালো তালিকায় যুক্ত করেছে।
জোরপূর্বক শ্রমের মাধ্যমে তৈরি পণ্য রপ্তানি বন্ধে ব্যর্থতার অভিযোগে গত মাসে ওয়াশিংটন যেসব দেশের ওপর ১০% বা ১২.৫% শুল্ক আরোপ করেছে, তার মধ্যে চীনও ছিল। পাশাপাশি, ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা সম্প্রতি চীনা এআই ফার্মগুলোর ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়ারও হুমকি দিয়েছেন।
চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান শুল্ক ও নিষেধাজ্ঞা মূলত একটি ‘অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত যুদ্ধ’। দুই দেশই একে অপরের ওপর নানা বিধিনিষেধ আরোপ করে নিজেদের আধিপত্য বজায় রাখার চেষ্টা করছে।
