সোমবার   ০৩ আগস্ট ২০২৬   শ্রাবণ ১৮ ১৪৩৩   ১৮ সফর ১৪৪৮

দুবাইয়ে বেনজীরের মুক্তির খবর, কী বলছে ঢাকার পুলিশ

সাপ্তাহিক আজকাল

প্রকাশিত : ০১:১৮ এএম, ৩ আগস্ট ২০২৬ সোমবার

পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ের কারাগার থেকে ছাড়া পেয়েছেন, এমন খবর প্রকাশিত হয়েছে। তবে বাংলাদেশ পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে খবরটি নিশ্চিত করতে পারেনি। যদিও পুলিশ সদর দপ্তরের দায়িত্বশীল দুটি সূত্র সম্ভাবনাটি উড়িয়ে দিচ্ছে না।

আজ রোববার বাংলাদেশের কয়েকটি সংবাদমাধ্যমে বেনজীর আহমেদের জামিনে মুক্তির খবর প্রকাশের পর বিষয়টি যাচাই করতে ঢাকার পুলিশের একাধিক সূত্রের সঙ্গে কথা বলেছে প্রথম আলো। তারা জানিয়েছে, বেনজীরের মুক্তির বিষয়ে দুবাই কর্তৃপক্ষ বা ইন্টারপোলের কাছ থেকে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো তথ্য পায়নি। এ কারণে বিষয়টি নিশ্চিত করে বলার সুযোগ নেই।

তবে বেনজীর আহমেদের ঘনিষ্ঠ দুটি সূত্র প্রথম আলোকে জানিয়েছে, গত বৃহস্পতিবার তিনি দুবাইয়ের কারাগার থেকে বের হয়েছেন। সূত্র দুটি বলেছে, বেনজীর আহমেদের সঙ্গে তাদের কথাও হয়েছে।

পুলিশ সদর দপ্তরের দায়িত্বশীল দুটি সূত্র বলছে, বেনজীর আহমেদকে ছেড়ে দেওয়া হয়ে থাকতে পারে, এমন সম্ভাবনা তারাও উড়িয়ে দিচ্ছে না। তারা আনুষ্ঠানিকভাবে যোগাযোগের চেষ্টা করছে। তবে আজ দুবাইয়ে সরকারি ছুটির দিন হওয়ায় যোগাযোগে কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে পুলিশ সদর দপ্তরের মুখপাত্র ও সহকারী পুলিশ মহাপরিদর্শক শাহাদাত হোসেন আজ বিকেলে প্রথম আলোকে বলেন, বেনজীর আহমেদের মুক্তি বা ছাড়া পাওয়ার বিষয়ে তাঁদের কাছে কোনো তথ্য নেই। এ বিষয়ে দুবাই পুলিশের পক্ষ থেকেও তাঁদের আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।

বেনজীর আহমেদকে কোন আইনি প্রক্রিয়ায় বা কী শর্তে ছাড়া হয়েছে এবং বর্তমানে তিনি কোথায় আছেন, এসব তথ্য স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হতে পারেনি প্রথম আলো। মুক্তির বিষয়ে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য জানতে দুবাই পুলিশের সঙ্গেও প্রথম আলোর পক্ষ থেকে জানতে চাওয়া হয়েছে। তবে বিকেলে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তারা কোনো জবাব দেয়নি। এ ছাড়া বেনজীর আহমেদের ব্যক্তিগত মুঠোফোন নম্বরে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।

এর আগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা একটি মামলার প্রেক্ষাপটে ইন্টারপোলের সহযোগিতায় বেনজীর আহমেদকে দুবাই পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে বলে জানিয়েছিল বাংলাদেশ পুলিশ। দুদকের মামলায় ইন্টারপোলের সহযোগিতায় বেনজীরকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ বিষয়ে ১২ জুন একটি চিঠির মাধ্যমে বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষকে অবহিত করে সংশ্লিষ্ট পক্ষ।

দুবাইয়ে বেনজীর আহমেদের মুক্তি পাওয়ার খবরের বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কাছেও আনুষ্ঠানিক তথ্য বা কাগজপত্র নেই। বিকেলে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় দুদক কার্যালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সংস্থার মহাপরিচালক মীর মো. জয়নুল আবেদীন শিবলী এ তথ্য জানান।

দুদকের মহাপরিচালক জয়নুল আবেদীন বলেন, ‘সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদের মুক্তির বিষয়টি আমরা সংবাদমাধ্যমের মাধ্যমে জেনেছি। তবে এ বিষয়ে দুদকের কাছে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো তথ্য বা কাগজপত্র আসেনি। আইনগতভাবে আমাদের পক্ষ থেকে যা যা করার প্রয়োজন, দুদক তা করবে।’

বেনজীর আহমেদের মামলার বিষয়ে দুদকের কোনো গাফিলতি ছিল কি না, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে মহাপরিচালক দাবি করেন, তদন্ত বা আইনি প্রক্রিয়ায় দুদকের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের ঘাটতি ছিল না।

বেনজীর আহমেদ ২০২০ সালের ১৫ এপ্রিল থেকে ২০২২ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আইজিপি ছিলেন। এর আগে তিনি ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার ও র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‍্যাব) মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে ২০২১ সালের ডিসেম্বরে র‍্যাবের সাবেক ও তৎকালীন সাত কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয় যুক্তরাষ্ট্র। তাঁদের মধ্যে বেনজীর আহমেদও ছিলেন।

২০২৪ সালে গণ–অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার কয়েক মাস আগে বেনজীর ও তাঁর পরিবারের বিপুল সম্পদের তথ্য সামনে আসে। এরপর তাঁর বিরুদ্ধে অনুসন্ধানে নামে দুদক। ওই সময় তিনি দেশ ছাড়েন। পরে তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হয় এবং আদালত গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।

২০২৫ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের মাধ্যমে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকর করার আদেশ দেন আদালত।

এর আগে ৭৪ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন ও সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগে ২০২৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর বেনজীর, তাঁর স্ত্রী জীশান মীর্জা এবং দুই মেয়ের বিরুদ্ধে পৃথক চারটি মামলা করে দুদক। মামলাগুলোতে বেনজীরের বিরুদ্ধে ৯ কোটি ৪৪ লাখ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন এবং ২ কোটি ৬২ লাখ টাকার সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগ আনা হয়। তাঁর স্ত্রী জীশান মীর্জার বিরুদ্ধে ৩১ কোটি ৬৯ লাখ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন এবং ১৬ কোটি ১ লাখ টাকার সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগ রয়েছে।

বেনজীরের বড় মেয়ে ফারহীন রিশতা বিনতে বেনজীরের বিরুদ্ধে ৮ কোটি ৭৫ লাখ টাকা এবং মেজ মেয়ে তাহসীন রাইসা বিনতে বেনজীরের বিরুদ্ধে ৫ কোটি ৫৯ লাখ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ করেছে দুদক। আদালতের আদেশে বেনজীর ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের নামে থাকা বিপুল পরিমাণ জমি, ফ্ল্যাট ও বিভিন্ন কোম্পানির শেয়ার ক্রোক করা হয়েছে। পাশাপাশি তাঁদের সঞ্চয়পত্র, ব্যাংক হিসাব ও শেয়ার ব্যবসার বিও (বেনিফিশিয়ারি ওনার্স অ্যাকাউন্ট) হিসাব অবরুদ্ধ করা হয়।