‘শয়তানের ধোঁকায় পড়ে শুরু করেছিলাম, দেখে ফেলায় শেষ করতে পারিনি’
সাপ্তাহিক আজকাল
প্রকাশিত : ০১:২৪ পিএম, ২ আগস্ট ২০২৬ রোববার
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ হল সংসদের সহসাধারণ সম্পাদক (এজিএস) ইব্রাহীম খলিলের কক্ষে দুই বহিরাগত অতিথির বিরুদ্ধে সমকামী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনার একটি ধারণকৃত ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর ক্যাম্পাসে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় হল প্রশাসন ইব্রাহীম খলিলের আবাসিক সিটটি সাময়িকভাবে বাতিল ঘোষণা করেছে এবং পুরো বিষয়টি তদন্ত করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
শনিবার সন্ধ্যায় ফেসবুকে বিতর্কিত সেই ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে দেখা যায়, গত ২৭ জুলাই এজিএস ইব্রাহীম খলিলের কক্ষে উপস্থিত দুই যুবক অনৈতিক ও সমকামী কর্মকাণ্ডের কথা স্বীকার করছেন। ভিডিওচিত্রটি প্রকাশ্যে না আনার অনুরোধ জানিয়ে তাদের ক্ষমা চাইতেও দেখা যায় সেখানে।
ইব্রাহীম খলিলের রুমমেট ও হলের আবাসিক শিক্ষার্থী অনয় চৌধুরী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে দাবি করেন, গত ২৭ জুলাই খলিলের কক্ষে এসে ওঠেন এই দুই অতিথি। পরে তাদের সেখানে আপত্তিকর ও অন্তরঙ্গ অবস্থায় পাওয়া যায়। অনয় আরও উল্লেখ করেন, উপস্থিত শিক্ষার্থীরা তাদের বক্তব্য ও স্বীকারোক্তি ধারণ করলেও ঘটনার স্পর্শকাতরতার কারণে পুরো ভিডিও প্রকাশ করা থেকে বিরত থাকা হয়েছে। পাশাপাশি নিরাপত্তার স্বার্থে প্রত্যক্ষদর্শীদের নাম-পরিচয় গোপনীয় রাখা হয়েছে।
সমালোচনার মুখে ফেসবুকে এক বার্তায় নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেন ইব্রাহীম খলিল। তিনি জানান, ঘটনাটি তার কক্ষে সংঘটিত হলেও এ ব্যাপারে তিনি কিছুই জানতেন না। চিকিৎসার উদ্দেশ্যে ঢাকায় আসা সেই পরিচিতদের মানবিক কারণে কক্ষে থাকার অনুমতি দিয়েছিলেন তিনি। অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটি ঘটার সময়ে তিনি নিজে কক্ষে ছিলেন না এবং পরবর্তীতেও কেউ তাকে অবগত করেনি। বিষয়টির কঠোর নিন্দা জানিয়ে অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপে সার্বিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
উত্থাপিত অভিযোগ সম্পর্কে নিশ্চিত হতে এজিএস ইব্রাহীম খলিলের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি অনুসন্ধানী প্রমাণের অংশ হিসেবে একটি অডিও কল রেকর্ড সরবরাহ করেন। সেই কথোপকথনে অভিযোগের বিষয়ে এক অতিথিকে বলতে শোনা যায়, তারা 'শয়তানের ধোঁকা'য় পড়ে অপরাধে লিপ্ত হতে যাচ্ছিলেন, কিন্তু কাজ শেষ করার পূর্বেই রুমমেট সরাসরি দেখে ফেলায় তা ভেস্তে যায়। অডিওতে ইব্রাহীম খলিলকে এ ব্যাপারে কথা বলতে সেই অতিথির পরিবারের কাছে যাওয়ার অভিপ্রায় ব্যক্ত করতেও শোনা যায়।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচনে ছাত্রশিবির সমর্থিত প্যানেল থেকে শহীদুল্লাহ হলের এজিএস পদে জয়লাভ করেছিলেন ইব্রাহীম খলিল। তিনি সংগঠনটির সক্রিয় কর্মী বলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ইসলামী ছাত্রশিবিরের সভাপতি মুহা. মহিউদ্দিন খান নিশ্চিত করেছেন।
হল প্রশাসনের পদক্ষেপ সম্পর্কে শহীদুল্লাহ হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. আমিনুল ইসলাম ভূইয়া জানান, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ইব্রাহীম খলিলের হলের বরাদ্দকৃত সিটটি সাময়িক বাতিল করা হয়েছে। একটি তদন্ত কমিটি গঠনের মাধ্যমে সত্যতা যাচাই শেষে চুড়ান্ত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
হল সংসদের ভূমিকার বিষয়ে সাধারণ সম্পাদক (জিএস) তৌকির হাসান জানান, এজিএস ইব্রাহীম খলিলের কাছে ইতিমধ্যেই জবাবদিহিতা চাওয়া হয়েছে। এজিএস ও তার রুমমেটের বক্তব্য বিশ্লেষণের পর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ
এদিকে এ ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর শহীদুল্লাহ হলের সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনার প্রতিবাদে শনিবার রাত সোয়া ১০টার দিকে হলের পুকুরপাড়ে জমায়েত হয়ে মিছিল ও বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন একদল শিক্ষার্থী।
