শনিবার   ০১ আগস্ট ২০২৬   শ্রাবণ ১৬ ১৪৩৩   ১৬ সফর ১৪৪৮

বৈপরীত্যে মুখোমুখি ’৩৬ জুলাই’

বিশেষ প্রতিনিধি

সাপ্তাহিক আজকাল

প্রকাশিত : ০১:৫২ এএম, ১ আগস্ট ২০২৬ শনিবার


অভ্যুত্থানের দুই বছর পার হতে না হতেই বাংলাদেশ আজ এক অস্বস্তিকর বৈপরীত্যে চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি ‘৩৬ জুলাই’। যদিও সরকারের পক্ষ থেকে বার বার বলা হয়েছে জুলাই আন্দোলনে শহীদদের আত্মত্যাগের যথাযথ মূল্যায়ন করে গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী রাষ্ট্র পরিচালিত হবে। তবুও মানতে নারাজ সরকার বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো।
‘৩৬ জুলাই’ বা জুলাই অভ্যুত্থানের যে আন্দোলন একসময় কর্তৃত্ববাদের বিরুদ্ধে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হয়েছিলেন। এখন সেই আন্দোলনের কেউ কেউ জুলাইকে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করছেন। বর্তমানে রীতিমতো জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকারকে তারা কার্যত অচল করে দেওয়ার হুমকিও দিচ্ছেন।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের সাম্প্রতিক বক্তব্যগুলো বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। তারা বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নির্বাচিত বিএনপি সরকার যদি তাদের প্রস্তাবিত সংবিধান সংস্কার বাস্তবায়ন না করে, তবে আবার অভ্যুত্থান ঘটানো হবে।
তারা এমন একটি সাংবিধানিক কাঠামোর কথা বলছেন যা জুলাই অভ্যুত্থানের পক্ষের সব রাজনৈতিক দলের ঐকমত্য পেতে ব্যর্থ হয়েছে। উল্লিখিত দল দুটির হুমকি আর কেবল কথার রাজনীতিতে সীমাবদ্ধ নেই।
গণতান্ত্রিক আলোচনার বিকল্প হিসেবে রাজপথের শক্তিকে দাঁড় করানোর এক বিপজ্জনক ইঙ্গিতও ধীরে ধীরে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। এক ধরনের রাজনৈতিক নিপীড়নের জায়গায় অন্য ধরনের নিপীড়ন প্রতিষ্ঠার জন্য জুলাই অভ্যুত্থান হয়নি বলে মত দিয়েছেন অনেকেই। বিশেষ করে, কেউ কেউ নিজেকে ও তার দলকে জুলাইয়ের চেতনার একচ্ছত্র অভিভাবক হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করছেন।
এমনই প্রেক্ষাপটে জুলাই আন্দোলনে শহীদদের আত্মত্যাগের যথাযথ মূল্যায়ন করে গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী রাষ্ট্র গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, শহীদদের আত্মত্যাগ কোনোভাবেই বৃথা যেতে দেওয়া যাবে না। গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর সার্কিট হাউস রোডে ডিএফপি অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক প্রকাশনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, সমাজে বড় ধরনের পরিবর্তন কখনোই হঠাৎ আসে না। নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলন, দীর্ঘ সংগ্রাম এবং প্রয়োজন হলে আত্মত্যাগের মধ্য দিয়েই কাক্সিক্ষত পরিবর্তন অর্জিত হয়। ইতিহাসের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের পেছনেই মানুষের ত্যাগ ও সংগ্রামের ভূমিকা রয়েছে।
সূত্র মতে, চব্বিশের সেই ছাত্র আন্দোলনের মূল ভাবনা থেকে বড় বিচ্যুতি। জুলাই আন্দোলন গতানুগতিক সুবিধাবাদী রাজনীতিকে চ্যালেঞ্জ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। এখন কয়েকটি দলের বার্তা, প্রস্তাবিত সাংবিধানিক এজেন্ডা না মানলে দেশকে আবার নতুন করে অস্থিরতার মুখে পড়তে হবে। এটি গণতান্ত্রিক বোঝাপড়া নয়, বরং স্পষ্ট রাজনৈতিক চাপ। এনসিপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতাদের কথায় মিলও বেশ লক্ষণীয়।
গত ১৮ জুলাই বরিশালের সমাবেশে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, তাঁদের প্রত্যাশা অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার না হলে দেশকে আরেকটি আন্দোলনের প্রস্তুতি নিতে হবে।
ভিন্ন পটভূমির রাজনৈতিক দলগুলো যখন একই আলটিমেটাম দেয়, তখন প্রশ্ন ওঠে-সাংবিধানিক বিষয়গুলো কি আলোচনার মাধ্যমে সমাধান হবে, নাকি রাজপথের শক্তিতে?
হুমকি দিয়ে কখনো সংবিধান রচিত হতে পারে না। সংবিধান গড়ে ওঠে সমঝোতা, সংসদীয় তর্কবিতর্ক এবং জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে। কোনো রাজনৈতিক দল যখন দাবি করে যে নির্বাচিত সরকারের বৈধতা তাদের শর্ত মানার ওপর নির্ভর করছে, তখন গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মূল ভিত্তিটিই দুর্বল হয়ে পড়ে।
সংঘাতের এই সংস্কৃতি কেবল কথার কথায় আটকে নেই। এর বহিঃপ্রকাশ ঘটছে মাঠ পর্যায়ের কর্মসূচিতেও। ঢাকা ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাম্প্রতিক একটি দলের বিরুদ্ধে কর্মসূচির স্লোগান নিয়েও আলোচনা হচ্ছে। গণতন্ত্রে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে মোকাবেলা করা হয় যুক্তি, নির্বাচন ও প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে, শিকার বানানোর মনস্তত্ত্ব দিয়ে নয়।
সংগঠকদের উদ্দেশ্য যা-ই থাকুক না কেন, এ ধরনের কর্মসূচি রাজনৈতিক সক্রিয়তা ও নিজের হাতে আইন তুলে নেওয়ার (ভিজিল্যান্টিজম) মধ্যে সূক্ষ¥ রেখাকে মুছে দেয়। বারবার নতুন অভ্যুত্থানের হুমকির সঙ্গে এ ধরনের তৎপরতা যুক্ত হয়ে এক আশঙ্কাজনক রাজনৈতিক পরিবেশ তৈরি করছে, যেখানে রাজপথের গায়ের জোরই প্রভাব বিস্তারের প্রধান পথ হয়ে উঠছে।
সবচেয়ে বড় প্রহসন হলো, সমস্যার উৎস জড়িয়ে আছে ‘জুলাই সনদ’ তৈরির প্রক্রিয়ার ভেতরের দুর্বলতায়। শুরু থেকেই এই সনদ একটি বড় চ্যালেঞ্জের মুখে ছিল। এটি কতটা সর্বজনীন ঐকমত্য তৈরি করতে পেরেছে তা নিয়েও প্রশ্ন আছে। ড. আলী রীয়াজের নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের কাজের শুরু থেকেই ‘বর্জনমূলক’ ছিল বলে সমালোচিত হয়। দেশে নিবন্ধিত ৫২টি রাজনৈতিক দলের মধ্যে মাত্র ২১টি দলকে আনুষ্ঠানিক সংলাপে ডাকা হয়েছিল, সঙ্গে ছিল ৯টি অনিবন্ধিত সংগঠন। ফলে সাংবিধানিক আলোচনার টেবিল থেকেই বাদ পড়ে যায় দেশের বহু নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল। ‘জাতীয় ঐকমত্য’ সৃষ্টির প্রক্রিয়ায় এই বড় ঘাটতি ছিল স্পষ্ট।
ঐকমত্যের অভাব আরো স্পষ্ট হয় যখন সংলাপে থাকা একাধিক দল শেষ পর্যন্ত ওই সনদে সই করা থেকে বিরত থাকে। ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে ‘জুলাই জাতীয় সনদে’ স্বাক্ষর না করা রাজনৈতিক দলগুলো হলো-বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি), বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ), বাসদ (র্মাক্সবাদী) এবং বাংলাদেশ জাসদ। এনসিপিও শুরুতে এই সনদ স্বাক্ষর করেনি।
যে সনদ নিজের আলোচনা টেবিলেই সবার সমর্থন পায়নি, তা দেশবাসীর ওপর কিভাবে সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত হিসেবে চাপিয়ে দেওয়া যায় তা নিয়েও রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন ওঠে। অভিযোগ ওঠে, এই সনদকে ঘিরে পুরো রাজনৈতিক রূপান্তরকে জিম্মি করার চেষ্টা হচ্ছিল। সমালোচকদের মতে, একটি সনদকে ঘিরে সার্বিক নির্বাচন প্রক্রিয়াকেই কার্যত আটকে রাখার চেষ্টা করা হয়। ক্ষমতাসীন সরকারের নেতাদের বক্তব্যেও এর প্রমাণ মিলেছে। জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশকে অবৈধ উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ গত ৩০ এপ্রিল জাতীয় সংসদে বলেছেন, নির্বাচনের স্বার্থে তাঁরা অনেক কথা সে সময় বলেননি। সংস্কারের ‘বাহানায়’ যদি নির্বাচন হতে না দেয়, সে জন্য তারা আপস করে জুলাই জাতীয় সনদে সই করেছিলেন।
জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের আলোচনায় বিএনপির পক্ষে নেতৃত্ব দেওয়া সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘সংস্কারের জন্য শ্বেতশুভ্র কেশের আমার কিছু বড় ভাই বুদ্ধিজীবী বিদেশ থেকে অবতরণ করেছিলেন। তাঁরা মাথায় টুকরি ভর্তি করে অলৌকিক কিছু সংস্কার নিয়ে দেশে অবতরণ করলে পরে আমরা সংস্কার কমিশনে আলাপ-আলোচনা করতে করতে এই জুলাই জাতীয় সনদটা প্রণয়ন হয়েছে।’
উল্লেখ্য, অন্তর্বর্তী কোনো ব্যবস্থার প্রাথমিক কাজ একটি বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা ফিরিয়ে আনা। আর সংবিধান সংস্কারের মতো সংবেদনশীল বিষয়ের জন্য জনগণের ভোটে নির্বাচিত সংসদের অংশগ্রহণ ও জবাবদিহি অপরিহার্য।
অমীমাংসিত সাংবিধানিক বিষয়ে গণভোটের প্রস্তাব বিতর্ককে আরো জটিল করে। গণভোট একটি গণতান্ত্রিক পদ্ধতি হতে পারে, তবে তা রাজনৈতিক সমঝোতার বিকল্প নয়। নির্বাহী ক্ষমতা, সংসদ, বিচার বিভাগ, মৌলিক অধিকার-এসব জটিল একাধিক বিষয়ে কেবল ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোটের মাধ্যমে ফয়সালা করা জনমতকে সরলীকরণ করার ঝুঁকি তৈরি করে।
আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতা করতে ব্যর্থ হয়ে কৃত্রিমভাবে একতা তৈরির হাতিয়ার হিসেবে গণভোটকে ব্যবহার করাই ছিল বড় ভুল। গণভোট তখন কাজ করে যখন রাজনৈতিক আলোচনায় একটি কাঠামো তৈরি হয়ে যায়। বিভাজিত রাজনীতিতে গণভোট নিজে থেকে ঐক্য আনতে পারে না।
জুলাই-পরবর্তী বড় সংকট কেবল সংস্কার নিয়ে নয়, বরং অভ্যুত্থানের ‘মালিকানা’ দখলের লড়াইকে কেন্দ্র করেও সংকট বাড়ে। ছাত্র আন্দোলন দৃশ্যত কোনো সুনির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের ছিল না বলে আন্দোলনের পরপরই বিভিন্ন গোষ্ঠী নিজেদের জুলাইয়ের একমাত্র দাবিদার হিসেবে জাহির করতে শুরু করে। সাধারণ মানুষের ত্যাগ থেকে উঠে আসা একটি গণ-অভ্যুত্থান এভাবে রাজনৈতিক ভাগাভাগির বিষয়ে পরিণত হয়।
এটি বাংলাদেশের ইতিহাস ও রাজনৈতিক ঐতিহ্যের বিপরীত। ঐতিহাসিক যেকোনো আন্দোলনে ব্যক্তিগত বা দলীয় দাবির চেয়ে দেশের জন্য ত্যাগই বড় হয়ে উঠেছিল। জুলাই অভ্যুত্থান কোনো একক দল, আদর্শ বা নির্দিষ্ট প্রজন্মের একচ্ছত্র সম্পত্তি হতে পারে না।
কোনো কোনো দল এমন আচরণ করছে যেন তাদের প্রস্তাবের সমালোচনা করার অর্থই হলো জুলাই আন্দোলনের বিরোধিতা করা। এটি একটি বিপজ্জনক রাজনৈতিক অবস্থান। গণতান্ত্রিক আন্দোলন তার প্রতিটি নাগরিকের, এটি কোনো একক দলের নিজস্ব স্বত্ব নয়।
জুলাই-পরবর্তী রাজনৈতিক সিদ্ধান্তগুলো নতুন নতুন মেরুকরণ তৈরি করেছে। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন থেকে এনসিপির আত্মপ্রকাশকে অনেকে স্বাগত জানালেও, একটি গণ-আন্দোলনের দৃশ্যমান নেতাদের হঠাৎ একটি সাধারণ রাজনৈতিক দলে পরিণত হওয়াকে অনেকে সমালোচনার চোখে দেখেছেন।
যারা ক্ষমতার রাজনীতি বদলানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তাঁরা নিজেরাই আবার সেই পুরোনা ক্ষমতা ও স্বজনপ্রীতির চক্রে জড়িয়ে পড়ছেন কি না-তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।
জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে এনসিপির দৃশ্যমান ঘনিষ্ঠতা তাদের অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনীতির দাবিকে দুর্বল করেছে। কোনো গোষ্ঠীকে আজীবন রাজনীতি করতে না দেওয়া এবং বিশেষ করে, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস পুনর্ব্যাখ্যার কিছু বয়ান অনেক নেতার মধ্যেই ক্ষোভ ও মতভেদ জন্ম দিয়েছে। একটি নতুন ধারার রাজনীতির দাবিদারদের জন্য তাদের মিত্র এবং মূল্যবোধ নিয়ে ওঠা এসব প্রশ্ন এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই।
একই সঙ্গে, জুলাই-পরবর্তী সময়ে সংখ্যালঘু ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের ওপর হামলা এবং ‘মব জাস্টিস’-এর কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ে। যাঁরা নিজেদের জুলাই অভ্যুত্থানের উত্তরাধিকার দাবি করেন, তাঁদের কাছ থেকে বহুমাত্রিকতা ও নাগরিক অধিকার রক্ষায় আরো দায়িত্বশীল ভূমিকা প্রত্যাশিত ছিল।
আরেকটি দিক হলো, যে আন্দোলন শুরু হয়েছিল বিশেষ সুবিধা ও স্বজনপ্রীতির বিরুদ্ধে, সেই আন্দোলনের কিছু প্রতিনিধির বিরুদ্ধেও নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। পরিচয় বিক্রি করা বা রাজনৈতিক প্রভাব খাটানোর বিভিন্ন অভিযোগ সাধারণ মানুষের আস্থায় ও বিশ্বাসে আঘাত হেনেছে।
সবচেয়ে বড় ভয় হলো, একটি ঐতিহাসিক আন্দোলনের নৈতিক স্থানটি নষ্ট হয়ে যায়, যখন এর ভাষাকে গণতান্ত্রিক সংস্কারের চেয়ে রাজনৈতিক ফায়দা লোটার কাজে বেশি ব্যবহার করা হয়।
এই প্রেক্ষাপটে বারবার নতুন অভ্যুত্থানের হুমকি দেওয়া কোনো রাজপথের আন্দোলন নয়; বরং ভোটে গণম্যান্ডেট না পেয়ে রাজপথকে জিম্মি করে রাজনৈতিক সুবিধা আদায়ের চেষ্টা। বাংলাদেশের সাংবিধানিক ভবিষ্যতের ওপর কোনো একক দলের ‘ভেটো’ দেওয়ার সুযোগ নেই। জনগণের গণতান্ত্রিক আকাক্সক্ষার ওপর কোনো গোষ্ঠীর চিরস্থায়ী মালিকানা নেই।
একটি নির্বাচিত সরকার কোনো এজেন্ডা না মানলে দেশকে অস্থিতিশীল করার হুমকি দেওয়ার কারো নৈতিক অধিকার নেই। তাদের প্রস্তাবিত সংস্কারে যদি সত্যিই জনসমর্থন থাকে, তবে গণতান্ত্রিক পথ খোলা রয়েছে। নির্বাচনে অংশ নিন, সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পান এবং সাংবিধানিক নিয়মে সংস্কার আনুন। গণতন্ত্র এভাবেই চলে।
আলোচনায় ফল নিজেদের পক্ষে না এলেই অভ্যুত্থানের কথা বলা কোনো গণতান্ত্রিক রাজনীতি নয়; এটি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নিজের আস্থাহীনতারই প্রকাশ। জুলাইয়ের চেতনার সঙ্গে সবচেয়ে বড় প্রবঞ্চনা সংস্কারের বিরোধিতা নয়; বরং ব্যালট ও সংসদকে বাদ দিয়ে রাজপথকে ক্ষমতার একমাত্র নিয়ন্ত্রক মনে করা।
বাংলাদেশ একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও নির্বাচিত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সাংবিধানিক সংস্কার চায়; বিপ্লবের নামে রাজনৈতিক ব্ল্যাকমেইল নয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ গত ১৯ জুলাই ঢাকায় জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘রক্তাক্ত জুলাই : প্রেক্ষাপট, রক্তের ঋণ এবং কোন পথে বাংলাদেশ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় বলেছেন, ‘জুলাই চেতনা বিক্রি করে বেশি দিন রাজনীতি করা যাবে না। জুলাই কারো একার সম্পদ নয়। এই আন্দোলনকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার না করে এর মূল আকাক্সক্ষা বাস্তবায়নে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।’