সোমবার   ২৭ জুলাই ২০২৬   শ্রাবণ ১১ ১৪৩৩   ১১ সফর ১৪৪৮

বিশ্বের একমাত্র দেশ যেখানে নেই কোনও ট্রাফিক সিগন্যাল

সাপ্তাহিক আজকাল

প্রকাশিত : ০১:০৭ এএম, ২৭ জুলাই ২০২৬ সোমবার

জনসংখ্যার দিক থেকে বিশ্বের অষ্টম বৃহত্তম দেশ বাংলাদেশ। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী জনসংখ্যায় ঢাকা বর্তমানে বিশ্বের দ্বিতীয় জনবহুল শহর। বর্তমানে ঢাকায় ৪ কোটির বেশি মানুষ বসবাস করছে। 

যে কারণে ঢাকার রাস্তায় বেরোলেই আমরা সাধারণত ট্রাফিক সিগন্যাল দেখতে পাই। লাল আলো জ্বললে গাড়ি থামে, সবুজ আলো জ্বললে গাড়ি চলতে শুরু করে। ব্যস্ত শহরের রাস্তায় যান চলাচল নিয়ন্ত্রণে ট্রাফিক লাইটের গুরুত্ব অনেক। 

অথচ বিশ্বের এমন একটি দেশ রয়েছে যেখানে কোনও ট্রাফিক সিগন্যাল নেই। আর তাতেও সেখানে যান চলাচল স্বাভাবিকভাবেই চলছে। এই দেশটি হল ভুটান। হিমালয়ের কোলে অবস্থিত ছোট্ট এই দেশটি তার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, শান্ত পরিবেশ এবং আলাদা জীবনযাত্রার জন্য বিখ্যাত।

ভুটানের রাজধানী থিম্পুতে কোনও ট্রাফিক লাইট নেই। এখানে লাল-হলুদ-সবুজ আলো দিয়ে নয়, বরং ট্রাফিক পুলিশের হাতের ইশারায় নিয়ন্ত্রণ করা হয় গাড়ি চলাচল। থিম্পুর ব্যস্ত রাস্তাগুলিতে নির্দিষ্ট জায়গায় ট্রাফিক পুলিশ দাঁড়িয়ে থাকেন। তারা বিশেষ ভঙ্গিতে হাত নেড়ে চালকদের নির্দেশ দেন। 

কখন গাড়ি থামাতে হবে, কখন রাস্তা ছাড়তে হবে বা কখন এগিয়ে যেতে হবে-সবকিছুই পুলিশকর্মীরা নিয়ন্ত্রণ করেন। স্থানীয় মানুষও এই নিয়ম মেনে চলেন। একসময় ভুটানের রাজধানীতে ট্রাফিক সিগন্যাল বসানোর পরিকল্পনা করা হয়েছিল। কিন্তু সাধারণ মানুষ এই ব্যবস্থাকে খুব একটা পছন্দ করেননি। তাদের মনে হয়েছিল, যন্ত্রের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণের চেয়ে মানুষের উপস্থিতিতে ট্রাফিক পরিচালনা করা বেশি স্বাভাবিক ও সহজ। তাই পরে আবার ট্রাফিক পুলিশ নিয়ন্ত্রিত পুরনো ব্যবস্থাই ফিরিয়ে আনা হয়।

ভুটানে ট্রাফিক সিগন্যাল না থাকার আরও একটি কারণ হল, দেশটির জনসংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম। বড় বড় শহরের মতো এখানে রাস্তায় অতিরিক্ত যানজট দেখা যায় না। পাশাপাশি ভুটানের মানুষ সাধারণত নিয়ম মেনে গাড়ি চালান এবং রাস্তায় ধৈর্য ধরে চলাচল করেন। ফলে ট্রাফিক পুলিশের সাহায্যেই যানবাহন নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়।

পর্যটকদের কাছেও ভুটানের এই বিষয়টি বেশ আকর্ষণীয়। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আসা মানুষ থিম্পুর রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাফিক পুলিশদের দেখে অবাক হন। কারণ আধুনিক প্রযুক্তির যুগে যেখানে প্রায় সব দেশেই স্বয়ংক্রিয় ট্রাফিক সিগন্যাল ব্যবহার করা হয়, সেখানে ভুটান এখনও মানবিক পদ্ধতিকেই গুরুত্ব দিয়েছে।