শনিবার   ২৫ জুলাই ২০২৬   শ্রাবণ ৯ ১৪৩৩   ০৯ সফর ১৪৪৮

জামায়াতে ইসলামীতে নজীরবিহীন কান্ড!

আজকাল প্রতিবেদক, ঢাকা

সাপ্তাহিক আজকাল

প্রকাশিত : ০১:৫৮ এএম, ২৫ জুলাই ২০২৬ শনিবার



জামায়াতে ইসলামীতে শুধু নয়; গোটা বাংলাদেশে এমন ঘটনা আগে ঘটেনি। নৈতিক স্খলনজনিত কারণে কোনও সংসদ সদস্যের দল থেকে বহিস্কারের কারণে জাতীয় সংসদে সদস্য পদ শূন্য হতে চলেছে। জামায়াতে ইসলামীর সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য এবং দলটির কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে কেন্দ্র করে নারীঘটিত ও নৈতিক স্খলনজনিত বিতর্কটি বর্তমানে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। এই ঘটনায় জামায়াতে ইসলামী বেশ বিব্রতকর অবস্থায় পতিত হয়েছে।
সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে সংসদ সদস্য গাজী নজরুলের সঙ্গে এক তরুণীর কিছু ব্যক্তিগত ও আপত্তিকর মূহুর্তের ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে বেশ আলোচনার জন্ম দেয়। গাজী নজরুল দাবি করেছেন যে, উক্ত নারী তার দ্বিতীয় স্ত্রী এবং তার বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ ষড়যন্ত্রমূলকভাবে ভিডিওটি ধারণ করে চাঁদা দাবি করে এবং তা ছড়িয়ে দিয়েছে। তবে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া সেই তরুণীর জীবন বৃত্তান্ত তার বৈবাহিক অবস্থা “অবিবাহিত” লেখা থাকায় সংসদ সদস্যের দাবি নিয়ে প্রশ্ন ওঠে এবং বিতর্ক ঘনীভূত হয়।
ঘটনাটি কেন্দ্র করে জামায়াতে ইসলামীর আমীর ও জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের এক জরুরী সভা অনুষ্ঠিত হয়। দলীয় তদন্তে নৈতিক স্খলনের সত্যতা প্রমাণিত হওয়ায় জামায়াতে ইসলামী তাদের দলীয় গঠনতন্ত্রের ৬২ ধারা অনুযায়ী গাজী নজরুল ইসলামকে দলের প্রাথমিক সদস্য পদ সহ সবধরনের পদ থেকে বহিস্কার করেছে। এই সিদ্ধান্তের বিষয়টি নির্বাচন কমিশনকে জানিয়ে দিয়েছে। সাংসদের সাবেক গাড়িচালক তার বিরুদ্ধে হামলা ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে থানায় মামলা দায়ের করেছেন।
জামায়াতের এমপি’র বিরুদ্ধে এমন এক সময়ে নারী কেলেংকারির ঘটনা ফাঁস হলো, যখন দলটি প্রথমবারের মতো জাতীয় সংসদে শক্তিশালী প্রধান বিরোধী দল হিসাবে ভূমিকা পালন করছে। নির্বাচনে স্বাধীনতা বিরোধী এই দলটি ৬৮টি আসনে জয়লাভ করে। দলের প্রধান ড. শফিকুর রহমান জাতীয় সংসদে বিরোধী দলীয় নেতা। এক দশকেরও বেশি সময় ধরে গোপনীয়তা ও প্রশাসনিক চাপের মুখে থাকার পর রাজনীতিতে পট পরিবর্তনের পর জামায়াত পূর্ণাঙ্গ প্রকাশ্যে রাজনীতিতে ফিরে আসে। তারা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন করে জনসমর্থন নেবার চেষ্টা করেছিলো। প্রকৃতপক্ষে জামায়াত নারী কেলেংকারিতে পড়ে চাপে পড়েছে। ইসলামিক রাজনৈতিক দলের সর্বোচ্চ মজলিশে শূরার সদস্য হয়েও এমন কান্ড ঘটিয়ে তা সকলকে হতবাক করে দেয়।