শনিবার   ২৫ জুলাই ২০২৬   শ্রাবণ ৯ ১৪৩৩   ০৯ সফর ১৪৪৮

মোদি সরকার বেকায়দায়

আজকাল রিপোর্ট

সাপ্তাহিক আজকাল

প্রকাশিত : ০১:৫৪ এএম, ২৫ জুলাই ২০২৬ শনিবার


 
ভারতে কেউ কল্পনাও করেনি শিক্ষার্থীদের হঠাৎ আন্দোলনে পার্লামেন্ট ভবন ঘেরাও হয়ে যাবে। আর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি পেছনের দরজা দিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়। ভারতের কোন রাজনৈতিক দলও এমনটা ঘটাতে পারেনি। লাখ লাখ মানুষ রাজপথে। বিভিন্ন রাজ্যে এই আন্দোলন ছড়িয়ে পড়েছে। পাঞ্জাব থেকে দলে দলে মানুষ দিল্লীতে চলে এসেছে। বর্তমান অবস্থায় সরকার নতজানু। আপস করতে চায়। আন্দোলনের সূত্রপাত হয়  প্রধান বিচারপতি কিছুদিন আগে শিক্ষার্থীদের কটাক্ষ করে বেকার, কোকরোজ বা তেলাপোকা বলেছিল তার এক রায়ে। তাতেই শিক্ষার্থীরা সোশ্যাল মিডিয়ায় জমিয়ে ফেলে। বারবার প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়া নিয়ে শিক্ষার্থীরা শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করতে থাকে। তারপর থেকে দিল্লির যন্তর মন্তরে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের তীব্রতা বৃদ্ধি এবং বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর প্রবল চাপের মুখে মোদি সরকারের অবস্থা এখন কোনঠাসা। আন্দোলনে বহু শিক্ষার্থীকের আহত করা হয়েছে। গুলি চালিয়েছে পুলিশ। এতে পুলিশের হাতে রক্তাক্ত হয়েছে দিল্লী। অসংখ্য গ্রেফতার হয়েছে।
তেলাপোকাদের সঙ্গে যেকোনো সময়ে আলোচনায় বসতে রাজি বলে জানিয়েছে সরকার। সরকারের পক্ষে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং গতকাল জানিয়েছেন, আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে তাদের সুবিধামতো যেকোনো সময়ে সরকার আলোচনায় বসতে প্রস্তুত। কেন্দ্রের প্রতিনিধি হিসেবে সেখানে জিতেন্দ্র ছাড়াও থাকবেন আর এক মন্ত্রী জেপি নাড্ডা। নাড্ডার বাড়ি বা অফিসে আলোচনা হতে পারে বলে তেলাপোকা জনতা পার্টি ও আন্দোলনকারীদের প্রতি আবেদন জানিয়েছেন তিনি। মন্ত্রী বলেছেন, ধীরে ধীরে, আলোচনার মাধ্যমে আমরা একটি সমাধানের দিকে অগ্রসর হবো। শিক্ষার্থীদের কল্যাণে সরকারের গৃহীত ধারাবাহিক পদক্ষেপগুলোর এটি একটি অংশ। আমি বিনীতভাবে আপনাদের সকলকে আলোচনায় অংশ নেয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।
সরকারের আলোচনায় বসতে চাওয়া নিয়ে তেলাপোকা জনতা পার্টি (সিজেপি) সাফ জানিয়েছে, তারা কারও বাড়ি বা অফিসে বৈঠক করতে যাবেন না। তেলাপোকা পার্টির পক্ষে সৌরভ দাস বলেছেন, গণদরবার যন্তর মন্তরেই। মন্ত্রীদের জনগণের মাঝে আসা উচিত। তারা যদি কথা বলতে চান, তবে সেই আলোচনা যন্তর মন্তরে হওয়া উচিত। দাস আরও বলেন, তেলাপোকা পার্টি আলোচনার জন্য প্রস্তুত। নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগ থাকলে আলোচনার জন্য বিক্ষোভ স্থলের কাছাকাছি একটি নিরপেক্ষ স্থান বিবেচনা করতে তারা ইচ্ছুক।
আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, আলোচনায় বসার কথা বললেও সমান্তরাল ভাবে শিক্ষার্থীদের ওপর দমনপীড়ন চালিয়ে যাচ্ছে পুলিশ। তা-ও অবিলম্বে বন্ধ করার দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তবে শিক্ষামন্ত্রী পদত্যাগের প্রশ্নে এখনো অনড় রয়েছে সিজেপি।
নিট প্রশ্নফাঁস নিয়ে সংসদে আলোচনার জন্য রাজি বলে ফের জানিয়েছে নরেন্দ্র মোদির সরকার। তবে বৃহস্পতিবার লোকসভায় সংসদীয় বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু জানিয়েছেন, কবে, কতোক্ষণ ধরে আলোচনা হবে, তা বিরোধীরাই স্থির করুক। তবে আলোচনার জন্য কোনো পূর্বশর্ত রাখা চলবে না।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও বৃহস্পতিবার দেশের তরুণদের পাশে দাঁড়ানোর বার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, “আমাদের তরুণদের ভালো রাখা এবং তাদের সুন্দর ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করাই সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কোনো কিছুই এর চেয়ে বড় নয়।” এর পরেই প্রশ্নফাঁস বিতর্কে ন্যায়বিচারের আশ্বাস দিয়েছেন মোদি। দিল্লির যন্তর মন্তরে ছাত্র-যুবদের ধারাবাহিক বিক্ষোভের মাঝে প্রশ্নফাঁস কাণ্ডের বিচারের জন্য ফাস্ট ট্র্যাক আদালত গঠন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। এক্স পোস্টে মোদি লিখেছেন, “প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়া হবে। তাদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। সেই লক্ষ্যে আমরা ‘ফাস্ট-ট্র্যাক কোর্ট’ গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এবং আধিকারিকদের নির্দেশও দেয়া হয়েছে।” প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ঘোষণার প্রতিক্রিয়ায় তেলাপোকা জনতা পার্টির মুখপাত্র সৌরভ দাস এই পদক্ষেপকে জনগণকে বিভ্রান্ত করার একটি প্রচেষ্টা বলে নাকচ করে দিয়েছেন।
মোদির পোস্টের পর বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী লিখেছেন, ‘‘আপনিই আমাদের দেশের যুবসমাজের ভবিষ্যতের সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করেছেন। আপনি আমাদের শিক্ষাব্যবস্থাকে সম্পূর্ণ ভাবে দখল এবং ধ্বংস হতে দিয়েছেন। এর জন্য দায়ীদের রক্ষা করেছেন এবং প্রশ্রয় দিয়েছেন।’’ মোদির উদ্দেশ্যে তিন দফা দাবি তুলে ধরেছেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। যার মধ্যে অন্যতম শিক্ষার্থীদের প্রতি আচরণের জন্য সরকারের ক্ষমাপ্রার্থনা এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে ধর্মেন্দ্র প্রধানের অপসারণ।
নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে বৃহস্পতিবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল সংসদ চত্বর। সংসদের অভ্যন্তরেও বিরোধীদের বিক্ষোভে উত্তাল হয়েছিল। কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার দাবিতে সকালে সংসদের মকর দ্বারের সামনে বিক্ষোভ দেখিয়েছেন বিরোধী দলের সাংসদেরা। পাল্টা বিক্ষোভ দেখিয়েছেন এনডিএ’র সাংসদেরাও। তাদের অভিযোগ, রাজনৈতিক স্বার্থে দেশের যুবসমাজকে প্ররোচিত করছেন রাহুল গান্ধী। বিরোধী সাংসদদের জমায়েত থেকে স্লোগান দেয়া হয়েছে “জীবন বাঁচাও, নিট বন্ধ করো।” বিরোধী সাংসদদের হাতে ধরা প্ল্যাকার্ডে শিক্ষামন্ত্রীর ইস্তফা দাবি করা হয়। বিরোধী সাংসদদের বিক্ষোভে রাহুল ছাড়াও শামিল হয়েছিলেন সোনিয়া গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী সহ বিরোধী দলের নেতারা।