কে হচ্ছেন বাংলাদেশের পরবর্তি রাষ্ট্রপতি
মাসুদ করিম, ঢাকা থেকে
সাপ্তাহিক আজকাল
প্রকাশিত : ০১:৫৩ এএম, ২৫ জুলাই ২০২৬ শনিবার
বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগ এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র। সম্প্রতি যুক্তরাজ্য প্রবাসী সাংবাদিক জুলকারনাইনশায়ের সামি সোস্যাল মিডিয়ায় দেয়া এক পোষ্টে উল্লেখ করেছেন যে, রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করছেন। তার পরবর্তিতে রাষ্ট্রপতির যে সংক্ষিপ্ত তালিকা করা হয়েছে তার মধ্যে মন্ত্রী পরিষদ সচিব নাসিমুল গণির নামও রয়েছে। এই নাম থাকায় সামি কিছুটা বিস্ময় প্রকাশ করে বলেছেন, তিনি বিএনপি’র কেউ নন। সামির এই পোষ্ট ভাইরাল হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বাংলাদেশের প্রধান প্রধান সংবাদপত্র ও টিভি চ্যানেলে এই বিষয় নিয়ে খোঁজ খবর নেওয়া শুরু হয়। প্রায় সকল মিডিয়াই সামির ডিসক্লোজারের সত্যতা খুঁজে পায়। ফলে মূলধারার প্রধান সংবাদ মাধ্যমগুলোতেও রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ করতে পারেন বলে খবর বের হয়। পাশাপাশি এমন খবরও চাউর হয় যে, বিদেশ সফররত জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ তার সফর সংক্ষিপ্ত করে দেশে ফিরে আসেন। কারণ বাংলাদেশের সংবিধান মোতাবেক, রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করলে স্পিকার অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি হিসাবে দায়িত্ব পালন করবেন।
যমুনা টিভির একটি ব্রেকিং নিউজ আপডেটের সংবাদে বলেছে যে, রাষ্ট্রপতি শুক্রবার পদত্যাগ করতে পারেন। তবে সাংবাদিক হেলাল উদ্দিন ফেসবুকে দেওয়া এক পোষ্টে লিখেছেন, রাষ্ট্রপতি আগামী সপ্তাহের শুরুতে পদত্যাগ করতে পারেন বলে রাষ্ট্রপতি নিজেই তাকে ফোনে জানিয়েছেন। এই থেকে তিনি অনুমান করছেন, রাষ্ট্রপতি রোববার নাগাদ পদত্যাগ করতে পারেন। পদত্যাগের পর বাংলাদেশে নতুন রাষ্ট্রপতি কে হবেন এই নিয়ে গুঞ্জন শুরু হয়ে গেছে। সামি অবশ্য তার সোস্যাল মিডিয়া পোষ্টে বর্তমানে চুক্তিভিত্তিতে নিযুক্ত মস্ত্রী পরিষদের সচিব নাসিমুল গণিকে রাষ্ট্রপতি নিয়োগ করা হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন। রাষ্ট্রপতি নির্বাচন পার্লামেন্টে অনুষ্ঠিত হয়। পদত্যাগের পরবর্তি ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে হবে। বিএনপি’র দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকার কারণে দলটি যাকেই মনোনয়ন দেবে তিনিই রাষ্ট্রপতি পদে অধিষ্ঠিত হবেন। ফলে বিএনপি’র চেয়ারম্যান হিসাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যাকে মনোনীত করবেন তিনি রাষ্ট্রপতি হবেন।
রাষ্ট্রপতি হিসাবে ইতিমধ্যে বেশ কিছু নাম নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। বিএনপি’র জেষ্ঠ্য নেতা ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের নাম সর্বাগ্রে আলোচনা হচ্ছে। বর্তমানে জীবিত নেতাদের মধ্যে তিনিই সবচেয়ে বয়োজেষ্ঠ্য। এবার মন্ত্রিসভায় তাকে রাখা হয়নি। ধারণা করা হচ্ছে, খন্দকার মোশাররফকে রাষ্ট্রপতি করার বিষয়ে সম্ভাবনার কথা দলের ভেতরে বেশ আলোচনা হচ্ছে। দ্বিতীয় যে নামটি সবচেয়ে বেশি আলোচনার মধ্যে আছে; তিনি হলেন ড. আবদুল মঈন খান। তিনি ইতিপূর্বে তিনি বাংলাদেশের পরিকল্পনা মন্ত্রী হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এবার মন্ত্রিসভায় তার ঠাঁই হয়নি। ধারণা করা হচ্ছে, মঈন খান রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হতে পারেন। তৃতীয় সম্ভাবনা হিসাবে নজরুল ইসলাম খানের নাম খুব আলোচিত হচ্ছে। তিনি বর্তমানে বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য। তিনি দলের একজন ত্যাগি নেতা। কিন্তু তিনি কখনও কোনও রাষ্ট্রীয় পদ অলংকিত করেননি। এমনকি তিনি কখনও মন্ত্রী কিংবা এমপি হননি। নিঃস্বার্থভাবে দলের কাজ করে গেছেন। এসব বিবেচনায় নজরুল ইসলাম খান রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলে অবাক হওয়ার কিছু নেই।
কেউ কেউ মনে করেন, জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হতে পারেন। এক্ষেত্রে, জাতীয় সংসদের স্পীকার হতে পারেন আন্দালিব রহমান পার্থ। সরকার বিএনপি’র নেতা ছাড়াও জোটভুক্ত দলগুলোর নেতাদের বিভিন্ন পদে অধিষ্ঠিত করেছে। কিন্তু আন্দালিব কোনও পদ গ্রহণ করেননি।
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন স্বাস্থ্যগত কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করতে পারেন বলে শোনা যাচ্ছে। তিনি ২০২৩ সালের এপ্রিলে বিনা প্রতিদ্বন্ধিতায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন। শেখ হাসিনার পছন্দের মানুষ হওয়ায় তিনি এর আগে দুর্নীতি দমন কমিশনের মেম্বারও ছিলেন। রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবার পর ২০২৪ সালের জুলাই মাসে ছাত্রদের নেতৃত্বে অভ্যূত্থানের কারণে ওই বছরের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা ভারত পালিয়ে যান। ওই সরকারের নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি হিসাবে তাকে পদে রাখা নিয়ে নানা সমালোচনা হয়েছে। কিন্তু বিএনপি রাষ্ট্রপতি পদ থেকে তাকে সরে যাবার কোনও অনুরোধ এতদিন করেনি।
বিএনপি ঠিক কি কারণে এই মূহুর্তে সাহাবুদ্দিনকে রাষ্ট্রপতির পদ থেকে সরে যেতে বলছে তা স্পষ্ট নয়। ইতিমধ্যেই ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি (এনসিপি) রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করার পর তাকে গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন। যদিও বিএনপি সরকার এমন কোনও পদক্ষেপ গ্রহন করবে বলে মনে হচ্ছে না।
