নিউইয়র্কে এনটিভির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন
আজকাল রিপোর্ট
সাপ্তাহিক আজকাল
প্রকাশিত : ০২:৫৪ এএম, ১১ জুলাই ২০২৬ শনিবার
বর্ণিল আয়োজনের মধ্যদিয়ে নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত হয়েছে বাংলাদেশের বেসরকারি স্যাটেলাইট টেলিভিশন চ্যানেল এনটিভি’র ২৪তম বার্ষিকী। গত ৩ জুলাই নিউইয়র্কের কুইন্সের উডসাইডে গুলশান টেরেসে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আয়োজনে ছিল কেক কাটা, গালা ডিনার, কমিউনিটির সম্মাননা প্রদান ও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক।
অনুষ্ঠানে প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, যুক্তরাষ্ট্রের মূলধারার জনপ্রতিনিধি, কূটনীতিক, ব্যবসায়ী, সাংবাদিক, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য ও প্রবাসী বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা উপস্থিত থেকে অনুষ্ঠানকে প্রাণবন্ত করে তোলেন। এনটিভি ও গোল্ডেন এজ হোম কেয়ার যৌথভাবে অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। ২০০৩ সালের মাঝামাঝি যাত্রা শুরু করা এনটিভি দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে দেশ ও প্রবাসের বাংলা ভাষাভাষী মানুষের আস্থা ও ভালোবাসার প্রতীক হয়ে আছে।
অনুষ্ঠানের শুরুতেই অতিথিদের ফুলেল শুভেচ্ছায় বরণ করে নেন এনটিভির নর্থ আমেরিকা ব্যুরো প্রধান ফরিদ আলম এবং গোল্ডেনএজ হোম কেয়ারের প্রেসিডেন্ট ও সিইও শাহ নেওয়াজ। পরে উপস্থিত অতিথিদের করতালির মধ্য দিয়ে কেক কেটে এনটিভির ২৪তম বর্ষে পদার্পণ উদযাপন করা হয়। এর আগে অনুষ্ঠানস্থলের বড় পর্দায় আগত অতিথিরা মিলে বিশ্বকাপের ম্যাচ উপভোগ করেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসওমেন গ্রেস মেং। নিউইয়র্কে বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল মুহাম্মদ মোজাম্মেল হক, ঠিকানা গ্রুপের চেয়ারম্যান ও সাবেক সংসদ সদস্য এম এম শাহীন, বাংলাদেশ সোসাইটির সভাপতি আতাউর রহমান সেলিম, সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলী, সহসভাপতি মহিউদ্দিন দেওয়ান, কমিউনিটি এক্টিভিস্ট ফখরুল ইসলাম, ফাহাদ সোলায়মান, রকি আললিয়ান, নূরুল আজিম, জাসির কবির, লায়ন আহসান হাবীব ও আকবর হায়দার কিরন।
অনুষ্ঠানে কংগ্রেস সদস্য গ্রেস মেং বলেন, বাংলাদেশি-আমেরিকানরা যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি, শিক্ষা, ব্যবসা ও জনজীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছেন। বাংলা ভাষার গণমাধ্যম শুধু সংবাদ পরিবেশনই করে না, বরং নতুন প্রজন্মের কাছে ভাষা, সংস্কৃতি ও শিকড়ের বন্ধন অটুট রাখতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এনটিভির দীর্ঘ পথচলার প্রশংসা করে তিনি এর উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করেন।
অনুষ্ঠানে গোল্ডেন এজ হোম কেয়ারের প্রেসিডেন্ট ও সিইও শাহ নেওয়াজ অতিথিদের স্বাগত জানিয়ে বলেন, সমাজকে আলোকিত করতে গনমাধ্যমের দায়িত্বশীল ভূমিকার বিকল্প নেই। এনটিভি দুই যুগ ধরে ধরে সেই দায়িত্ব নিষ্ঠার সাথে পালন করে আসছে। ভবিষ্যতেও এ ধারা অব্যাহত থাকবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
ঠিকানা গ্রুপের চেয়ারম্যান ও সাবেক সংসদ সদস্য এম এম শাহীন বলেন, অর্থনীতি, সংস্কৃতি এবং জাতীয় ঐক্যকে প্রাধান্য দিয়ে বাংলাদেশকে শক্তিশালী করতে এনটিভি দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। সত্যনিষ্ঠ সংবাদ ও দর্শকপ্রিয় অনুষ্ঠানের মাধ্যমে চ্যানেলটি দেশ-বিদেশের বাংলা ভাষাভাষী মানুষের আস্থা অর্জন করেছে।
এনটিভির উত্তর আমেরিকা ব্যুরো প্রধান ফরিদ আলম বলেন, দেশে যেমন এনটিভির সঙ্গে তাঁর পথচলা শুরু হয়েছিল, প্রবাসেও সেই সম্পর্ক অটুট রয়েছে। এনটিভির সঙ্গে আত্মিক সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। দেশ ও প্রবাসের কোটি দর্শকের কাছে নির্ভরযোগ্য সংবাদ ও মানসম্মত অনুষ্ঠান পৌঁছে দিতে পারাই তাঁর সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, প্রবাসে বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির বিকাশে এনটিভিসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের অবদান অনস্বীকার্য। বিশ্বজুড়ে বাংলা ভাষাভাষী মানুষের কাছে আরও গ্রহণযোগ্য ও নির্ভরযোগ্য গণমাধ্যম হিসেবে এনটিভি এগিয়ে যাবে।
অনুষ্ঠানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পর্ব ছিল সম্মাননা প্রদান। যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে এবং কমিউনিটিতে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে বিভিন্ন বিশিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে সম্মাননা স্মারক তুলে দেওয়া।
সম্মাননা প্রাপ্তরা হলেন, কংগ্রেস সদস্য গ্রেস মেং, নিউইয়র্কে বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল মোজাম্মেল হক, নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের ডেপুটি কমিশনার অ্যালডেন আই, ফস্টার, অ্যাসিস্ট্যান্ট চিফ ব্রায়ান সি. হেনেসি, ইন্সপেক্টর আইলিন টি. ডাউনিং, ক্যাপ্টেন ডেভিড কর্ডানো, বাংলাদেশি আমেরিকান পুলিশ অ্যাসোসিয়েশন (বাপা), নিউইয়র্ক সিটি কাউন্সিল সদস্য শাহানা হানিফ, মেয়রের কার্যালয়ের প্রধান প্রশাসনিক কর্মকর্তা মীর বাশার, জর্জিয়া স্টেট সিনেটর শেখ রহমান, নিউইয়র্ক স্টেট সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি সোমা এস. সাঈদ, কুইন্স বরো প্রেসিডেন্ট ডনোভান রিচার্ডস, শাহ নওয়াজ এবং এম এম শাহীন প্রমুখ।
নিউইয়র্কের স্বনামধন্য সঙ্গীতদল 'ক্যাপ্টেন মিউজিক'-এর পরিবেশনায় মঞ্চ মাতান কমিউনিটির জনপ্রিয় দুই শিল্পী কামরুজ্জামান বকুল ও আফতাব জনি।
