নারীর মরদেহ থেকে স্বর্ণের কানের দুল খুলে নিলেন কর্মচারী
সাপ্তাহিক আজকাল
প্রকাশিত : ০২:৪৪ এএম, ২ জুলাই ২০২৬ বৃহস্পতিবার
রাজশাহীর তানোরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে থানা এক নারীর মরদেহ থেকে স্বর্ণের কানের দুল খুলে নিয়েছেন ওই হাসপাতালের মালি। এই ঘটনায় উপজেলাজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজে এই ঘটনার দৃশ্য ধরা পড়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
বুধবার (১ জুলাই) এই ঘটনায় ওই নারীর ভাই অভিযুক্ত কর্মচারীর বিরুদ্ধে টিএইচও বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে। এর আগে মঙ্গলবার রাতে এই ঘটনা ঘটে।
অভিযোগ, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও নিহতের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৯ টার দিকে তানোর উপজেলার তালন্দ ইউপির সুখদেবপুর গ্রামের মনোয়ার হোসেনের স্ত্রী ৩ সন্তানের জননী লিপি বেগম (৪২) প্রেশারজনিত কারণে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। এসময় আত্মীয়রা অটোভ্যান করে তানোর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসলে চিকিৎসারত অবস্থায় ওই গৃহবধূর মৃত্যু হয়।
এসময় জরুরি বিভাগের বেডে থাকা ওই গৃহবধূর (লাশের) কান থেকে সোনার গহনা রিং খুলে নেয় মালি রায়হান আলী। পরে লাশ নিয়ে বাড়ি যাওয়ার পর ওই গৃহবধূর শাশুড়ি কানের গহনা রিং দেখতে না পেয়ে ওই গৃহবধূর বাবার বাড়ি মেডিকেলের পাশে আমশো গ্রামের আত্নীয়দেরকে বিষয়টি মোবাইল ফোনে জানান। এসময় রাতেই গৃহবধূর আত্মীয়রা তানোর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসককে বিষয়টি জানান এবং তারা হাসপাতালে কর্মচারী রায়হান আলীকে সন্দেহ করেন।
অভিযুক্ত রায়হান আলী তানোর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মালির (বাগান দেখাশোনা করা) দায়িত্বে রয়েছেন।
হাসপাতাল সংশ্লিষ্ট ও অভিযোগ সূত্রে আরও জানা যায়, ঘটনার পর থেকে মেডিকেলের মালি রায়হান আলী হাসপাতালে আর আসেননি। বুধবার সকালে ওই গৃহবধূর মরদেহ দাফনের পর গৃহবধূর আত্মীয়রা তানোর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এসে সিসিটিভি ফুটেজে স্পষ্টভাবে মালি রায়হান আলী গৃহবধূর কান থেকে সোনার গহনা রিং খুলে নেওয়ার বিষয়টি ধরা পড়ে।
এই ঘটনায় গৃহবধূর ভাই মিঠুন বাদি হয়ে তানোর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মালি রায়হান আলীর বিরুদ্ধে তানোর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অফিসার বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডাক্তার জোবাইদা রহমান বলেন, রোগীর অবস্থা খুবই আশঙ্কাজনক ছিলো। আমিসহ মেডিকেল অফিসার ওই রোগীকে চিকিৎসা দিচ্ছিলাম। এই পরিস্থিতিতে রোগী মারা যায়। রোগীর ছাড়পত্র দেওয়া নিয়ে আমরা ব্যস্ত ছিলাম। এর ফাঁকেই রোগীর কান থেকে সোনার গহনা রিং খুলে নেয় মালি রায়হান আলী। যা সিসিটিভি ফুটেজে স্পষ্ট প্রমাণ মিলেছে। ঘটনার দিন মারা যাওয়া ওই গৃহবধূ তার আত্মীয় পরিচয়ে জোর করে জরুরি বিভাগের কক্ষে প্রবেশ করেছিল রায়হান। বারবার বলার পরও তাকে বের করা যায়নি।
এই চিকিৎসক আরও বলেন, পরে রাত ১টার দিকে আমার কাছে খবর আসে মৃত রোগীর কান থেকে সোনার গহনা রিং হারিয়ে গেছে। তিনি বলেন, মৃত ওই রোগীর লাশ নিয়ে যাওয়ার পর থেকেই মালি রায়হানও মেডিকেলে আর আসেনি।
তানোর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মালি রায়হান আলীর সাথে মুঠো ফোনে যোগাযোগ করা হলে প্রথমে অস্বীকার করেন। এসময় সিসিটিভি ফুটেজে প্রমাণ মিলেছে এমন কথার প্রেক্ষিতে তিনি বলেন, মৃত্যুর পর আমি সোনার গহনা কানের রিং কান থেকে খুলে একজন মহিলাকে দিয়েছি। কাকে দিলেন জানতে চাইলে তিনি চিনেন না বলেও জানান।
পরে সিসিটিভি ফুটেজে তো সেটা দেখতে পাওয়ার কথা কিন্তু দেখা যাচ্ছে না কেন- এমন প্রশ্নের কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি তিনি।
তানোর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অফিসার ডাক্তার বারনাবাস হাসদাক ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, মালির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ৩ সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং তাকে সাময়িক ভাবে তার কাজ থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে।
