যুবদল নেতার কার্যালয়ে আটকে ৪ যুবককে নির্যাতন, ভিডিও ভাইরাল
সাপ্তাহিক আজকাল
প্রকাশিত : ০২:৩৭ এএম, ২ জুলাই ২০২৬ বৃহস্পতিবার
রাজশাহীতে চুরির অভিযোগে এক যুবদল নেতার কার্যালয়ে চার যুবককে আটকিয়ে মারধর করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। নির্যাতনের এক পর্যায়ে তাদের মাথার চুল কেটে দেওয়া হয়। এরপর আহত অবস্থায় তাদের পুলিশে সোপর্দ করা হয়। মারধর ও চুল কেটে দেওয়ার একটি ভিডিও সামাজিকযোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।
মঙ্গলবার দুপুরে রাজশাহী নগরীর শাহমখদুম থানার আলিফ-লাম-মীম ভাটা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। রাজশাহী মহানগর যুবদলের সদস্য শাকিলুর রহমান রনের কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।
মারধরের শিকার ভুক্তভোগীরা হলেন- হুমায়ুন কবির (মিম), তার চাচাতো ভাই মো. আলিফ, আবদুস সামাদ ও দেব। তাদের বয়স ১৮ থেকে ২০ বছরের মধ্যে। তারা রাজশাহী নগরীর শাহ মখদুম এলাকার বাসিন্দা।
ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ৩৯ সেকেন্ডের ভিডিওতে দেখা যায়, মারধরের সময় চার যুবক যন্ত্রণায় কাঁদছেন এবং প্রাণভিক্ষা চাইছেন। দু’জন ব্যক্তি তাদের বেধড়ক পেটাচ্ছেন। পরে তাদের বসিয়ে ট্রিমার দিয়ে মাথার চুল কেটে দেয়।
তাদের পরিবারের অভিযোগ, মঙ্গলবার দুপুরে নগরীর ১৮ নম্বর ওয়ার্ড এলাকায় কয়েকটি দোকান থেকে সিগারেট চুরি সন্দেহে চারজনকে ধরে স্থানীয় যুবদল নেতা সাকিলুর রহমানের কার্যালয়ে নিয়ে যায়। সেখানে শাটার নামিয়ে তাদের লাথি-ঘুষির পাশাপাশি লাঠি দিয়ে মারধর করা হয়। পরে তাদের চুল কেটে দেওয়া হয়। একপর্যায়ে চারজনকেই চুরির অভিযোগে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
মারধরের শিকার হুমায়ুন কবিরের মা লিপি ইসলাম জানান, স্থানীয় একটি দোকান থেকে অল্প কিছু সিগারেট চুরি হয়েছিল। কিন্তু দোকানের সিসিটিভি ফুটেজে তার ছেলেকে চুরি করতে দেখা যায়নি। শুধু তাকে আর ওর চাচাতো ভাইকে ওই এলাকা দিয়ে হেঁটে যেতে দেখা গেছে। সেটার ভিত্তিতেই ওদের ধরে নিয়ে যাওয়া হয়।
ভুক্তভোগীদের স্বজনেরা অভিযোগ করেন, মারধরের ঘটনায় স্থানীয় কয়েকজনের সম্পৃক্ততা রয়েছে। তাদের মধ্যে যুবদল ও ছাত্রদলের অনুসারী জীবন, হাসান, টুটুল, মেরাজ ও লিটন নামে কয়েকজনের নাম উল্লেখ করেন। তাদের দাবি, জড়িতদের কয়েকজন স্থানীয়ভাবে বিএনপি, যুবদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত।
রাজশাহী মহানগর যুবদলের সদস্য সাকিলুর রহমান বলেন, গত এক সপ্তাহে তার কার্যালয়সহ আশপাশের অনেক বাড়ি ও দোকানে চুরি হয়েছে। সর্বশেষ একটি দোকানে চুরির ঘটনায় সিসিটিভি ফুটেজে কয়েকজনকে শনাক্ত করা হয়। পরে স্থানীয় লোকজন তাদের ধরে তার কার্যালয়ে নিয়ে আসে।
সাকিলুরের দাবি, ঘটনার সময় তিনি কার্যালয়ে ছিলেন না। পরে এসে দেখেন, সেখানে অনেক লোক জড়ো হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমি এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেছি। পুলিশকে ফোন করেছি। পুলিশ আসতে প্রায় এক ঘণ্টা সময় লাগে। পরে তাদের পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।’
দোকান থেকে চুরির অভিযোগে রাসেল আহমেদ নামে এক ব্যক্তির মামলায় মারধর ও নির্যাতনের শিকার চারজনকে বুধবার আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
শাহমখদুম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কবির হোসেন বলেন, চারজনের বিরুদ্ধে একটি দোকানে চুরির অভিযোগে মামলা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, তারা সিগারেটসহ বিভিন্ন ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি চুরি করে। সিসিটিভি ফুটেজে তাদের শনাক্ত করার পর স্থানীয় লোকজন আটক করে মারধর করেছে। পুলিশ জানতে পেরে তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা দেয়।
ওসি আরও জানান, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ভুক্তভোগীদের পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
