শত্রুর বিরুদ্ধে মিন্টুর হুংকার
আজকাল রিপোর্ট
সাপ্তাহিক আজকাল
প্রকাশিত : ০১:৪১ এএম, ২৭ জুন ২০২৬ শনিবার
নোয়াখালী সোসাইটির ‘বাংলাদেশ সেমিট্রি’র যাত্রা
লক্ষাধিক কবরের জায়গা নিয়ে যাত্রা শুরু হলো ‘বাংলাদেশ সেমিট্রি’র। গত ২০ জুন বহির্বিশ্বের সবচেয়ে বড় মুসলিম করবস্থান ‘বাংলাদেশ সেমিট্রি’ বৃহত্তর নোয়াখালী সোসাইটির এ প্রকল্পটির আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করে। প্রকল্পটির স্বপ্নদ্রষ্টা ও সংগঠনের সভাপতি জাহেদ মিন্টু বক্তব্যে সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। পাশাপাশি আবেগঘন বক্তৃতায় সমালোচকদের কড়া জবাব দেন। হুংকার দিয়ে বলেন, “নোয়াখালীবাসীর ভদ্রতা দেখেছেন, নম্রতা দেখেছেন, কিন্তু হুংকার দেখেননি।” সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চলমান অপপ্রচারের বিরুদ্ধে এমন কড়া বার্তা দিয়েছেন বৃহত্তর নোয়াখালী সোসাইটির সভাপতি জাহিদ মিন্টু। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন, এই অপপ্রচারকারিদের সমগ্রনোয়াখালীবাসী প্রতিহত করবে।তবে এই হুংকার কাদের প্রতি নিক্ষেপ করলেন তাদের নাম বলেননি মিন্টু।
জাহেদ মিন্টু আরও বলেন, ব্যক্তি জাহেদ মিন্টুর সাথে কারও কোনো ব্যক্তিগত সমস্যা থাকলে সেই সমস্যা যেন বাংলাদেশ সেমিট্রির সাথে মিশ্রিত করা না হয়। তিনি বলেন, “আজকের এই কবরের মাটি আমি বা আপনি যে কারো হতে পারতো।” তিনি আশা প্রকাশ করেন, সবাই এই অপপ্রচার থেকে বিরত থাকবেন। তিনি বলেন, এটি বাংলাদেশিদের আবেগের প্রোজেক্ট। অতীতে যা কিছু হয়েছে, তা আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য তিনি ক্ষমা করে দিলাম। উল্লেখ্য নিউইয়র্ক শহর থেকে দেড় ঘন্টা ড্রাইভ দূরত্বে আপস্টেটের মিডলটাউন/স্কচটাউনে ১২৬ একরের এই সেমিট্রি অবস্থিত। ২০ জুন বৃহত্তর নোয়াখালী সোসাইটির উপদেষ্টা এসএম আমানতের লাশ দাফনের মধ্য দিয়ে প্রকল্পের বাস্তবায়ন শুরু হয়। এসএম আমানত দীর্ঘ এক বছর ধরে মরণব্যাধি ক্যানসারে আক্রান্ত ছিলেন। তিনি গত ১৮ জুন চিকিৎসাধীন অবস্থায় ব্রুকলিনের একটি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্না লিল্লাহি... রাজিউন)।
বৃহত্তর নোয়াখালী সোসাইটির সাবেক সভাপতি নাজমুল হাসান মানিকের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মাঈন উদ্দীন পিন্টুর পরিচালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন-এ প্রকল্পের স্বপ্নদ্রষ্টা ও বৃহত্তর নোয়াখালী সোসাইটির সভাপতি জাহিদ মিন্টু, বৃহত্তর নোয়াখালী সোসাইটির ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান হাজি মফিজুর রহমান, সাবেক সভাপতি আব্দুর রব মিয়া, সাবেক সভাপতি সালামত উল্যাহ, ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য খোকন মোশাররফ, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য মোমিনুল হক, রেজাউল করিম চৌধুরী, সোহেল হেলাল, মাইনুল উদ্দীন মাহবুব, সহ-সভাপতি তাজু মিয়া, সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইউছুপ জসীম, সহ-সাধারণ সম্পাদক সালেহ আহমেদ চৌধুরী রুহেল ও কোম্পানীগঞ্জ ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ডা. মুন্না।
অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন-ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য আবুল কালাম, রফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য শাহ নেওয়াজ স্বপন, শাহ আলম, মোস্তাক হোসেন মোশাররফ, মানিক লাল দাস, সুভাষ চন্দ্র মজুমদার, বাংলাদেশ সোসাইটির সাবেক সভাপতি ও ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান এম আজিজ, বাংলাদেশ সোসাইটির সভাপতি আতাউর রহমান সেলিম, সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলী, সিনিয়র সহ-সভাপতি মহিউদ্দিন দেওয়ান, বাংলাদেশ সোসাইটির ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য কাজী শাখাওয়াত হোসেন আজম, সন্দ্বীপ সোসাইটির সভাপতি ফিরোজ আহমেদ, বংলাদেশ সোসাইটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমিন সিদ্দিকী, সাবেক কোষাধ্যক্ষ নওশেদ হোসেন, সবেক কর্মকর্তা জামান তপন, বাংলাদেশ সোসাইটির ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য নাঈম টুটুল, বাংলাদেশ সোসাইটির প্রধান নির্বাচন কমিশনার আবু নাসের, বৃহত্তর নোয়াখালী সোসাইটির সহ কোষাধ্যক্ষ জামাল উদ্দিন, সাংগঠনকি সম্পাদক নূরুল ইসলাম বাবু, ক্রীড়া সম্পাদক আব্দুর রহিম, ধর্ম সম্পাদক মাও. মঞ্জুরুল ইসলাম, প্রচার সম্পাদক মাহমুদুল হাসান, সদস্য ইকবাল হোসেন, হাসানুজ্জামান বাদল, মাহমুদুল হক প্রমুখ। আরো উপস্থিত ছিলেন লক্ষèীপুর জেলা সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ আলী, মাহমুদুল হাসান, আসালের প্রেসিডেন্ট মাফ মিসবাহ, বাংলাদেশ সোসাইটির কার্যকরি সদস্য আবুল কাশেম চৌধুরী, কোম্পানীগঞ্জ ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মোশাররফ হোসেন সবুজ, চন্দ্রগঞ্জ উপজেলা ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম, সিরাজগঞ্জ সমিতির সভাপতি সাইফুল ইসলাম, সাধারন সম্পাদক মাহমুদুল হাসান মার্ক, আহমেদ জুনায়েদ, মিজানুর রহমান, খোরশেদ আলম, মাকসুদুর রহমান, রুবেল আলী, জ্যামাইকা মুসলিম সেন্টারের ইমাম মাওলানা মির্জা আবু জাফর বেগ, চার্চম্যাকডোনাল্ড বিজনেস অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট রফিকুল ইসলাম পাটোয়ারি, সাবেক সভাপতি আব্দুর রব, প্রতিষ্ঠাতা সদস্য আনোয়ারুল আজিম প্রমুখ।
জাহিদ মিন্টু তার বক্তব্যে বলেন, আমরা ইতিমধ্যে ২০ হাজার কবর বিক্রি করেছি। আগামী আগস্ট থেকে দ্বিতীয় কিস্তির কাজ শুরু হবে। কাজ শুরুর পর এগুলো বিক্রি শুরু হবে। এখানে ৮ হাজার স্কোয়ার ফিটের বিল্ডিং হবে, ১৫০ জন লোক এক সঙ্গে নামাজ আদায় কর যাবে, লাশ রাখার ব্যবস্থা এবং লাশ ধোয়ার ব্যবস্থা রাখা হবে। তিনি হুঁশিয়ার উচ্চারণ করেন আপনারা যারা আপ্রচার করছেন, বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে মিথ্যা লিখছেন, তাদের প্রতিহত করতে নোয়াখালীবাসী প্রস্তুত, আইনীভাবে হোক, আর যেকোনভাবেই হোক। আপনাদের মধ্যে কেউ কম্যুনিটি বোর্ড মেম্বার থাকতে পারেন, কেউ আইনজীবী নেতা থাকতে পারেন, কেউ ডাক্তার থাকতে পারেন, বি কেয়ারফুল। ভাল কাজ দেখলে আপনাদের যাদের গাত্রদাহ হয়, তাদের দূরে থাকা উচিত। আশা করি আগামীতে কাজগুলো আর করবেন না, এনাফ ইজ এনাফ। প্রোজেক্ট ইজ ডান। নোয়াখালীবাসীর ভদ্রতা দেখেছেন, নম্রতা দেখেছেন কিন্তু হুঙ্কার দেখেননি। বিশ্বাস করেন, এটা আমাদের অন্তরের প্রজেক্ট। এখানে আঘাত করার চেষ্টা করবেন না। এ প্রজেক্ট আগামী ২০০ বছরের প্রজেক্ট। মনে রাখবেন, আজ আমানত সাহেবকে তার আত্মীয়স্বজন রেখে যাবেন, আমি মারা গেলে আমাকেও রেখে যাবেন, সবাইকে মরতে হবে। নিজের পয়সা দিয়ে সমাজসেবা করেন, অন্য অর্থে সমাজসেবার ভালো করবেন না- আপনাদের ধিক্কার জানাই। তিনি প্রজেক্টের কাগজপত্র সংগঠনের নেতৃবৃন্দের কাছে হস্তান্তর করেন।
বাংলাদেশ সেমিট্রিতে জোহর এবং আসরের নামাজ আদায় করা হয়। নামাজে ইমামতি করেন জ্যামাইকা মুসলিম সেন্টারের ইমাম মাওলানা মির্জা আবু জাফর বেগ।
