শনিবার   ২৭ জুন ২০২৬   আষাঢ় ১২ ১৪৩৩   ১১ মুহররম ১৪৪৮

অভিবাসী বিতারণে সুপ্রিম কোর্টের রায়ে ট্রাম্পের বিজয়

হাসান মাহমুদ

সাপ্তাহিক আজকাল

প্রকাশিত : ০১:২৪ এএম, ২৭ জুন ২০২৬ শনিবার


অবৈধ অভিবাসীদের বিতারণে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টের এক ঐতিহাসিক রায় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হাতকে আরও শক্তিশালি করেছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প অবৈধ অভিবাসিদের বিতারণের ব্যাপারে প্রথম থেকেই কঠোর ভূমিকা পালন করছেন। হাজার হাজার অভিবাসিকে নিজনিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। তৃতীয় দেশের নাগরিকদের ডিপোর্ট করার জন্য এল সালভাদর, জামাইকার মতো দ্বীপ রাষ্ট্রের সাথে সমঝোতা স্মারকও স্বাক্ষর করা হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সুপ্রিম কোর্টের নতুন রায় পেয়ে তার অভিবাসন এজেন্ডার জন্য গুরুত্বপূর্ণ জয় অর্জন করেছেন। একটি মামলায়, আদালত রায় দিয়েছে যে, ট্রাম্প প্রশাসন হাজার হাজার হাইতিয়ান এবং সিরিয়ানদের জন্য অস্থায়ী আইনি সুরক্ষার অবসান ঘটাতে পারেন। সংখ্যাগরিষ্ঠ রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে পৌঁছানোর আগেই সরকার অ্যাসাইলাম প্রার্থীকে তার দেশে ফিরিয়ে দিতে পারবে।
বিশেষজ্ঞরা বলেন, উচ্চ আদালতের এই রায় তাঁর সরকারের জন্য অনেক বড় বিজয়। সুপ্রিম কোর্টের বিচারকগণ গতকাল বৃহস্পতিবার রায় দিয়ে বলেছেন যে, ‘প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিদেশী নাগরিকদের জন্য অস্থায়ী সুরক্ষা স্টেটাস তুলে নিতে পারেন এবং বিতর্কিত আশ্রয় নীতি পুনরায় চালু করতে পারবেন’। এই রায়ের ফলে হাজার হাজার অবৈধ অভিবাসিকে ডিপোর্ট করা সহজ হবে।  সুপ্রিম কোর্ট প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে হাইতি এবং সিরিয়া থেকে আসা হাজার হাজার বিদেশী নাগরিকের জন্য অস্থায়ী নির্বাসন সুরক্ষা বিধি তুলে নিতে অনুমতি দিয়েছেন। এর মাধ্যমে অভিবাসিদের বিতারণ অনেক সহজ হয়ে উঠবে। পৃথিবীর অন্যান্য দেশের অবৈধ অভিবাসিদেরও ডিপোর্ট করা সহজ হবে। এই রায়টি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর অভিবাসন নীতির অংশ। এ খবর দিয়েছে ফক্স নিউজ, নিউইয়র্ক টাইমস, এনবিসি, সিএনএন।
ট্রাম্প প্রশাসন যুদ্ধ, প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা অন্যান্য বিপর্যয় থেকে পালিয়ে আসা অভিবাসীদের জন্য অস্থায়ী সুরক্ষিত স্টেটাস বাতিল করার পক্ষে রায় পেয়েছে। ওয়াশিংটন সুপ্রিম কোর্ট বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রে হাজার হাজার হাইতিয়ান এবং সিরিয়ান অভিবাসীদের কাছ থেকে আইনি সুরক্ষা অপসারণের জন্য ট্রাম্প প্রশাসনের পথ পরিষ্কার করে দিয়েছেন। যার অর্থ তাদেরকে নির্বাসিত করা সহজ হতে পারে। আদালত ৬-৩ ভোটে প্রশাসনের পক্ষে রায় দিয়েছেন। যাতে প্রায় ৩৫০,০০০ হাইতিয়ান এবং ৬,০০০ সিরিয়ান অভিবাসি অস্থায়ী সুরক্ষিত স্টেটাস হারাবে। ‘ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য এটি একটি বড় জয়। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র অ্যাবিগেইল জ্যাকসন এক বিবৃতিতে বলেন, ‘সুপ্রিম কোর্ট নিশ্চিত করেছেন যে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সবসময় যা বজায় রেখেছেন’।
সুরক্ষিত মর্যাদা ব্যতীত, আক্রান্ত ব্যক্তিরা স্বাভাবিক আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্বাসনের শিকার হতে পারেন। কিন্তু তারা যুক্তরাষ্ট্রে থাকার জন্য অন্যান্য উপায় খুঁজতে পারে, উদাহরণস্বরূপ, আশ্রয় দাবি করতে পারে। সুপ্রিম কোর্টের সামনে মামলার প্রধান আইনজীবী জিওফ পিপলি এবং অ্যান্ডি টাউবার একটি যৌথ বিবৃতিতে বলেছেন যে, ‘সহজ কথায় বলতে গেলে, সুপ্রিম কোর্টের রায় সরাসরি হাজার হাজার নির্দোষ মানুষকে সহিংস, অপ্রয়োজনীয় মৃত্যুর মুখে ফেলবে’। তারা বলেছে, ‘এই সিদ্ধান্ত হাইতিয়ান টিপিএস হোল্ডারদের বিপদে ফেলবে, যারা প্রজন্মের পর প্রজন্মের অভিবাসীদের জন্য আকাঙ্খিত। তাদের সমস্ত কিছু ছেড়ে মাতৃভূমি থেকে পালিয়ে এসেছিল। তারা চেয়েছিল নিরাপদে বসবাস করতে।
সিরিয়ার টিপিএস প্রাপক এবং মামলার প্রধান বাদী ডালিয়া ডো বলেছেন, এই রায়টি আমার এবং হাজার হাজার টিপিএস ধারক এবং আমাদের পরিবারের জন্য একটি বিধ্বংসী আঘাত। যারা এই দেশে আমাদের জীবনকে সৎ বিশ্বাসে গড়ে তুলেছে। ‘আমরা প্রকৃত মানুষ, যাদের ভবিষ্যৎ এখন ভারসাম্যের মধ্যে ঝুলে আছে। এটি কেবল একটি আইনি ফলাফল নয়, আমাদের জন্য এটি স্থিতিশীলতা হারানো, আমাদের পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার ভয় এবং এরপরে কী হবে তা নিয়ে মারাত্মক অনিশ্চয়তা’।
বিভিন্ন মানবাধিকার গোষ্ঠী এবং বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, হাইতি এমন একটি দেশ যেখানে এই বছর ২,৩০০ জনেরও বেশি লোক গ্যাং হামলায় নিহত হয়েছে এবং আরও ১.৫ মিলিয়ন বাস্তুচ্যুত হয়েছে। সেখানে নাগরিকদের ফিরে যাওয়া নিরাপদ নয়।