শনিবার   ২৭ জুন ২০২৬   আষাঢ় ১২ ১৪৩৩   ১১ মুহররম ১৪৪৮

বিশেষ একাউন্ট: প্রবাসীরা বিনিয়োগ ফেরত আনতে পারবে

আজকাল রিপোর্ট

সাপ্তাহিক আজকাল

প্রকাশিত : ০১:২০ এএম, ২৭ জুন ২০২৬ শনিবার


 
প্রবাস থেকে বাংলাদেশিদের বিনিয়োগ বাড়ানোর পাশাপাশি বৈধ পথে রেমিট্যান্স আকর্ষণে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য নতুন বিশেষ অ্যাকাউন্ট সুবিধা চালু করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এখন থেকে প্রবাসীরা দেশের ব্যাংকগুলোতে ‘অনিবাসী বিনিময়যোগ্য টাকা হিসাব’ বা অপসোর একাউন্ট খুলতে পারবেন। এসব একাউন্টের জমাকৃত মূল অর্থ এবং তা থেকে অর্জিত সুদ বা মুনাফা সম্পূর্ণরূপে ফেরত নেয়া যাবে।
গত ২৩ জুন বাংলাদেশ ব্যাংক এ সংক্রান্ত একটি নতুন সার্কুলার জারি করেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য হলো- বৈধ পথে রেমিট্যান্স প্রবাহকে আরও কার্যকর করা, প্রবাসীদের বিনিয়োগের সংযোগ জোরদার করা এবং তফসিলি ব্যাংকগুলোর অফশোর ব্যাংকিং ইউনিটের মাধ্যমে অফশোর ব্যাংকিং কার্যক্রমের সম্প্রসারণ ঘটানো।
নতুন এই ব্যবস্থার অধীনে, প্রবাসী বাংলাদেশিরা ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে পাঠানো বৈদেশিক মুদ্রার বিপরীতে অফশোর ব্যাংকিং ইউনিটের মাধ্যমে এই হিসাব খুলতে পারবেন। গ্রাহকরা তাদের সুবিধা অনুযায়ী সেভিংস (সঞ্চয়ী), কারেন্ট (চলতি) কিংবা ফিক্সড ডিপোজিট (স্থায়ী) অ্যাকাউন্ট হিসেবে এটি পরিচালনা করতে পারবেন।
সার্কুলারে বলা হয়েছে- এই একাউন্টে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সের পাশাপাশি অন্যান্য অনিবাসী বিনিময়যোগ্য টাকা হিসাব থেকে স্থানান্তরিত অর্থ, অ্যাকাউন্টের সুদ বা লাভ, অনুমোদিত বিনিয়োগ থেকে অর্জিত আয়, শেয়ার সাবস্ক্রিপশনের ফেরত আসা অর্থ এবং অন্যান্য অনুমোদিত বৈদেশিক মুদ্রা-সংক্রান্ত তহবিল জমা করা যাবে। এই অ্যাকাউন্টে জমাকৃত মূল অর্থ এবং তা থেকে অর্জিত সুদ বা মুনাফা সম্পূর্ণরূপে প্রত্যাবাসনযোগ্য হবে। অর্থাৎ, প্রবাসীরা চাইলে যেকোনো সময় এই অ্যাকাউন্টের টাকা কোনো বাধা ছাড়াই বিদেশে নিয়ে যেতে পারবেন।
প্রবাসীরা চাইলে এই অ্যাকাউন্ট থেকে প্রয়োজনীয় স্থানীয় পেমেন্ট বা খরচ মেটানো, অন্য অনিবাসী টাকা হিসাবে ফান্ড ট্রান্সফার, বিদেশি মুদ্রা অ্যাকাউন্টে রূপান্তর এবং বাংলাদেশে সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ কিংবা পোর্টফোলিও বিনিয়োগের কাজে এই অর্থ ব্যবহার করতে পারবেন।
এছাড়া এসব হিসাবে জমাকৃত তহবিল ব্যবহার করে দেশের বিশেষায়িত অঞ্চলের (যেমন- ইপিজেড, বেজা) ‘টাইপ-এ’ শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোকে স্থানীয় টাকা বা কারেন্সিতে ঋণ দেওয়া যাবে। তবে এই ঋণ সুবিধা শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের অনুমোদিত চলতি ব্যয়, যেমন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন, মজুরি এবং ইউটিলিটি বিল পরিশোধের জন্য ব্যবহার করা যাবে। আর এই ঋণের টাকা অবশ্যই ওই প্রতিষ্ঠানের রপ্তানি আয় থেকে পরিশোধ করতে হবে।
সার্কুলারে আরো বলা হয়েছে,   এই একাউন্টের জামানতের বিপরীতে প্রবাসীরা নিজে কিংবা তাদের মনোনীত ব্যক্তিরা ঋণ সুবিধা নিতে পারবেন। এই ঋণ ব্যক্তিগত বা ব্যবসায়িক প্রয়োজনে ব্যবহার করা যাবে। পাশাপাশি এই ঋণের অর্থ নিজস্ব ব্যবহারের জন্য আবাসিক সম্পত্তি কেনায় ব্যবহার করা যাবে। তবে এই ঋণের টাকা কোনোভাবেই কৃষি, প্ল্যান্টেশন (বাগান) এবং রিয়েল এস্টেট (আবাসন) খাতে বিনিয়োগ করা যাবে না।