মার্কিন নির্ভরতা থেকে ‘মুক্ত’ হতে চান নেতানিয়াহু
সাপ্তাহিক আজকাল
প্রকাশিত : ১২:২৮ এএম, ২৪ জুন ২০২৬ বুধবার
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের সঙ্গে বিদ্যমান মতপার্থক্যের জেরে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু মঙ্গলবার (২৩ জুন) বলেছেন, ইসরাইলকে অবশ্যই বিদেশি সহায়তার ওপর নির্ভরতা কমাতে হবে এবং একটি স্বাধীন অস্ত্র ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।
অধিকৃত পশ্চিম তীরের অবৈধ গুশ এতজিওন বসতি ব্লকে একটি কোর্সে অংশ নেওয়া রিজার্ভ কমব্যাট অফিসারদের সঙ্গে বৈঠকে নেতানিয়াহু এই মন্তব্য করেন। তিনি স্পষ্ট করেন যে ইসরাইল ওয়াশিংটনের কাছ থেকে পাওয়া সহায়তার মূল্যায়ন করলেও এখন নিজস্ব সক্ষমতা জোরদার করা অত্যন্ত জরুরি।
ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম ‘ওয়াইনেট’-জানায়, নেতানিয়াহু বৈঠকে বলেন, আমাদের মার্কিন বন্ধুদের কাছ থেকে ইসরাইল যে সমর্থন পেয়েছে, আমি তার গভীর প্রশংসা করি। তবে আমাদের এখন এই নির্ভরতা থেকে মুক্ত হতে হবে এবং নিজেদের স্বাধীন অস্ত্র ব্যবস্থা তৈরি করতে হবে।
তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন, ইসরাইলকে তার সামরিক শক্তি ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ক্রমাগত বাড়িয়ে যেতে হবে। তার মতে, নির্ভরতা থেকে মুক্ত হওয়া, শক্তি বৃদ্ধি করা, নতুন প্রযুক্তির অন্তর্ভুক্তি এবং দক্ষ কমান্ডার তৈরি করার মাধ্যমেই চূড়ান্তভাবে ইসরাইলের ভবিষ্যৎ অবস্থান নির্ধারিত হবে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হওয়া একটি সমঝোতা স্মারক এবং লেবানন ফ্রন্টে যুদ্ধ অবসানের ক্ষেত্রে এর প্রভাব নিয়ে ইসরাইলের রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা মহলে ক্রমবর্ধমান বিরোধের মধ্যেই নেতানিয়াহুর এই মন্তব্য সামনে এলো। এর আগে গত বৃহস্পতিবার মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এই চুক্তির বিরোধিতা করায় নেতানিয়াহু সরকারের মন্ত্রীদের তীব্র সমালোচনা করেছিলেন। ভ্যান্স কড়া ভাষায় বলেছিলেন যে তিনি ইসরাইলি ক্যাবিনেটের সদস্য হলে বিশ্বের একমাত্র শক্তিশালী মিত্রের ওপর এভাবে আক্রমণ করতেন না।
তিনি মনে করিয়ে দেন, গত তিন মাসে ইসরাইলের সুরক্ষায় ব্যবহৃত দুই-তৃতীয়াংশ রক্ষণাত্মক অস্ত্রই আমেরিকার হাত দিয়ে তৈরি এবং মার্কিন করদাতাদের অর্থে পরিশোধিত। তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, ইসরাইলের সমস্যা ডোনাল্ড ট্রাম্প নন, এবং যারা এটি ভাবছেন তাদের বাস্তব পরিস্থিতি অনুধাবন করা উচিত।
উল্লেখ্য, গত ১৪ জুন ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় একটি ১৪ দফার সমঝোতায় পৌঁছানোর ঘোষণা দেয়, যার লক্ষ্য ছিল সংলাপ ও আলোচনার মাধ্যমে যুদ্ধাবসান এবং বকেয়া বিরোধের নিষ্পত্তি করা। ‘ইসলামাবাদ সমঝোতা’ নামে পরিচিত এই স্মারকটি গত ১৮ জুন কার্যকর হয়, যাতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ইলেকট্রনিকভাবে স্বাক্ষর করেন।
এই চুক্তির প্রধান শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে লেবাননসহ বিভিন্ন ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধ করা, হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করা এবং ইরানের ওপর আরোপিত মার্কিন নৌ অবরোধ প্রত্যাহার করা।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি।
