শনিবার   ২০ জুন ২০২৬   আষাঢ় ৫ ১৪৩৩   ০৪ মুহররম ১৪৪৮

প্রবাসীদের হয়রানি বন্ধের দাবি মজুদারের

আজকাল রিপোর্ট

সাপ্তাহিক আজকাল

প্রকাশিত : ০১:২২ এএম, ২০ জুন ২০২৬ শনিবার

 

  •      প্রবাসী ট্রাইব্যুনাল গঠনের আহবান

 

 
 
বাংলাদেশে প্রতিনিয়ত মিথ্যা তথ্য ও আইনের ভুল প্রয়োগের মাধ্যমে প্রবাসীদের সামাজিক, পারিবারিক, মানসিক ও অর্থিক ভাবে হয়রানি করা হচ্ছে। তাদের সম্পত্তি দখল করে নিচ্ছে। অনেক সময় নিজের অজান্তেই মিথ্যা তথ্যের মামলায় দেশে গিয়েই জেলে যেতে হচ্ছে। এ হয়রানি ও ভোগান্তি থেকে প্রবাসীদের জন্য আলাদা প্রবাসী ট্রাইব্যুনাল গঠনের দাবি করেছে নিউইয়র্ক প্রবাসী আইনজীবি ও সচেতন প্রবাসী বাংলাদেশিরা। একই সঙ্গে প্রবাসীদের নামে কোন ওয়ারেন্ট হলে তা আগে সংশ্লিষ্ট দেশের দূতাবাসের মাধ্যমে অবিহিত করার কথাও বলেন তারা।

গত ১৫ জুন এক ভুক্তভোগীর তথ্য তুলে ধরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তারা এ দাবি করেন।
সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশি আমেরিকান কমিউনিটি কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ এন, মজুমদার, বাংলাদেশ ল' সোসাইটির প্রতিষ্ঠাতা শামসুদ্দিন দোহা, সাধারণ সম্পাদক সাঈদ, বাংলাদেশ হাইকোর্টের আইনজীবী কাউসার পারভীন, আমেরিকান প্রবাসী ভুক্তভোগী আল আমিন রশিদ, বিভিন্ন কমিউনিটি সংগঠনের প্রতিনিধিসহ ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দিতে গিয়ে ভুক্তভোগী বাংলাদেশি-আমেরিকান আল আমিন রশিদ শিপন করেন, তার বিরুদ্ধে মিথ্যা তথ্য উপস্থাপন করে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার একটি আদালতে সম্পত্তি সংক্রান্ত মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং তার নামে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও জারি করা হয়েছে। অথচ, আমি একজন যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী বাংলাদেশি। আমার বিরুদ্ধে যে মামলা করা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। দেশে ফেরার সঙ্গে সঙ্গে গ্রেপ্তারের আশঙ্কা থাকায় আমি আদালতে গিয়ে নিজের পক্ষে লড়াই করার সুযোগও পাচ্ছি না। এ ধরনের পরিস্থিতির কারণে আমিসহ অনেক প্রবাসী নিজেদের বৈধ সম্পত্তি রক্ষা করতে হিমশিম খাচ্ছেন।
মোহাম্মদ এন, মজুমদার বলেন, ভুক্তভোগীর ক্ষেত্রে প্রতারণার মামলা দিয়েছে অথচ সম্পত্তি সংক্রান্ত হওয়ায় এটি দেওয়ানি মামলা হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু আইনজীবিদের যোগসাজোসে বাদি মিথ্য তথ্য দিয়ে মামলা করেছে। যাতে বিবাদিকে দেশে নিয়ে গিয়ে হয়রানি করা যায়। তাছাড়া বিবাদি দেশে আছে উল্লেখ করে আদালতে মিথ্যা তত্য দিয়ে গ্রেফতারি পরোয়ানাও জারি করা হয়েছে। একই সঙ্গে এ বিচারক আদেশ দেওয়ার সময় তা যাচাইও করেন নি। এ মামলা চালাতে হলে বিবাদিকে দেশে গিয়ে হাইকোর্টে ঘুরতে হবে। আর হাইকোর্টের মামলার যে অবস্থা- জামিন পেতে কয়েকমাস সময় লাগতে পারে। যা প্রবাসীর শাররিক ও মানসিক লাঞ্চনায় পড়তে হবে, আর্থিক ক্ষতিও হবে। অথচ, দেওয়ানি মামলা হলে তা পাওয়ার অব এটর্নির মাধ্যমে প্রবাস থেকেই চালানো যেতো।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, একটি স্বচ্ছ, দক্ষ ও জবাবদিহিমূলক বিচারব্যবস্থা দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, বিদেশি ও প্রবাসী বিনিয়োগ এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ভাবমূর্তির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রবাসীরা দেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখলেও অনেক ক্ষেত্রে তারা বিচারপ্রাপ্তির ক্ষেত্রে বৈষম্যের শিকার হন। বছরের পর বছর মামলা চলার কারণে তারা আর্থিক ও মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। তাই প্রবাসীদের সম্পত্তি ও নাগরিক অধিকার সংক্রান্ত মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য পৃথক প্রশাসনিক বা বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন করা প্রয়োজন।

বক্তারা বলেন, প্রবাসীদের সম্পত্তি দখল, জাল কাগজপত্র তৈরি, মিথ্যা মামলা এবং প্রশাসনিক হয়রানির অভিযোগ দীর্ঘদিনের। এসব সমস্যা সমাধানে সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিচার বিভাগ এবং প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

সংবাদ সম্মেলনে আরো বলা হয়, বিদেশে বসবাসকারী বাংলাদেশিদের একটি বড় অংশেরই দেশে জমি-জমা, বাড়িঘর, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং পারিবারিক সম্পৃক্ততা রয়েছে। ফলে দেশের বিচারব্যবস্থা ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে অনিয়ম বা দুর্বলতা সরাসরি তাদের স্বার্থকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। প্রবাসীদের অধিকার বাংলাদেশির সাংবিধানিক অধিকার, সম্পত্তির নিরাপত্তা এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার একটি সচেতনতামূলক প্রচেষ্টা। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া, কানাডাসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বসবাসরত বাংলাদেশিদের মধ্যে এ ধরনের সমস্যা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। তাই বিচারব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রবাসীদের সম্পত্তি ও নাগরিক অধিকার সুরক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য বাংলাদেশ সরকারকে আরো আন্তরিক হতে হবে।