শনিবার   ২০ জুন ২০২৬   আষাঢ় ৫ ১৪৩৩   ০৪ মুহররম ১৪৪৮

পিপিএল’র বিরুদ্ধে লাখো ডলার আত্মসাতের মামলা

মনোয়ারুল ইসলাম

সাপ্তাহিক আজকাল

প্রকাশিত : ১২:৪৭ এএম, ২০ জুন ২০২৬ শনিবার

 

  •     বিচার বিভাগের ‘ন্যাশনাল ফ্রড এনফোর্সমেন্ট ডিভিশন’ তদন্তে
  •     নিউ ইয়র্কের ১০ বিলিয়ন ডলারের হোম-কেয়ার কর্মসূচি প্রশ্নের মুখোমুখি
  •     পিপিএল-নিউইয়র্ক স্টেট এর  সিডিপ্যাপ চুক্তি বাতিলের আশংকা 

 
 

 হোম কেয়ার সেবা (সিডিপ্যাপ) দেবার একক প্রতিষ্ঠান পিপিএল’র এর বিরুদ্ধে লাখ লাখ ডলার জালিয়াতির অভিযোগ এনে মামলা হয়েছে। বুধবার ১৬ জুন জাস্টিস ডিপার্টমেন্টের পাবলিক এফেয়ার্সের এক জরুরী প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়। বিচার বিভাগের ঘোষণায় বলা হয়, নিউ ইয়র্কের ‘কনজিউমার ডিরেক্টেড পার্সোনাল অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রোগ্রাম (সিডিপ্যাপ)-যা ২০২৫ সাল থেকে জর্জিয়ার আলফারেটা-ভিত্তিক কোম্পানি ‘পাবলিক পার্টনারশিপস এলএলসি’ (পিপিএল) পরিচালনা করছে। এতে জালিয়াতির অভিযোগে একটি মামলা দায়ের হয়েছে। মামলাটি নিউ ইয়র্কের ইস্টার্ন ডিস্ট্রিক্টের ইউ.এস. ডিস্ট্রিক্ট কোর্টে দায়ের করা হয় এবং এতে বিবাদী করা হয়েছে নিউ ইয়র্ক স্টেট ডিপার্টমেন্ট অফ হেলথ, নিউ ইয়র্ক স্টেট মেডিকেইড ডিরেক্টর আমির বাসিরি এবং পাবলিক পার্টনারশিপস এলএলসিকে (পিপিএল)।

বিচার বিভাগের ‘ন্যাশনাল ফ্রড এনফোর্সমেন্ট ডিভিশন’-এর অ্যাসিস্ট্যান্ট অ্যাটর্নি জেনারেল কলিন এম. ম্যাকডোনাল্ড বলেন, “পিপিএল-এর সাথে নিউ ইয়র্কের গোপন আঁতাতের ফলে করদাতাদের লক্ষ লক্ষ ডলার গচ্চা গেছে এবং অসংখ্য মেডিকেইড রোগী সেবা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। আজকের এই পদক্ষেপটি আবারও মনে করিয়ে দেয় যে, করদাতাদের অর্থে পরিচালিত কর্মসূচিগুলোকে জালিয়াতি ও দুর্নীতি থেকে রক্ষা করতে বিচার বিভাগ তার হাতে থাকা সমস্ত উপায় কাজে লাগাচ্ছে।”

বিচার বিভাগের ‘সিভিল ডিভিশন’-এর অ্যাসিস্ট্যান্ট অ্যাটর্নি জেনারেল ব্রেট এ. শুমেট বলেন, “সরকারি অর্থভাণ্ডার রক্ষা করা এবং আমেরিকান করদাতাদের অর্থের সাশ্রয় নিশ্চিত করা বিচার বিভাগের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার। একটি পছন্দের ভেন্ডর বা ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান-যারা বেআইনিভাবে মেডিকেইড তহবিলের লক্ষ লক্ষ ডলার আত্মসাৎ করেছে-তাদের ওপর নজরদারি চালাতে নিউ ইয়র্কের ব্যর্থতা অত্যন্ত গুরুতর এবং এটি জনগণের আস্থার সাথে বিশ্বাসঘাতকতার শামিল। ফেডারেল স্বাস্থ্যসেবা কর্মসূচিতে সত্য তথ্য প্রদান ও ন্যায্য আচরণ সংক্রান্ত আইনগুলো যাতে মেনে চলা হয় তা নিশ্চিত করতে এবং পাবলিক পার্টনারশিপস এলএলসি ও নিউ ইয়র্কের কর্মকাণ্ডের ফলে জনগণের আরও ক্ষতি হওয়া রোধ করতে বিচার বিভাগ পদক্ষেপ নিচ্ছে।”

এই মামলার লক্ষ্য হলো একটি কথিত জালিয়াতি চক্র বা প্রক্রিয়া বন্ধ করা, যার মাধ্যমে পিপিএল নিউ ইয়র্কের ১০ বিলিয়ন ডলারের সিডিপ্যাপ কর্মসূচির দায়িত্ব গ্রহণের পর ফেডারেল করদাতাদের অর্থে লক্ষ লক্ষ ডলারের অননুমোদিত মুনাফা অর্জন করেছে। মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে যে, নিউ ইয়র্ক ডিপার্টমেন্ট অফ হেলথ একটি নামমাত্র বা ভুয়া দরপত্র প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পিপিএল-কে লাভজনক ঈউচঅচ চুক্তিটি প্রদান করেছিল। এরপর, দরপত্রে দেওয়া প্রতিশ্রুতি থেকে সরে আসা এবং চুক্তির আর্থিক শর্তাবলী লঙ্ঘনের বিষয়ে চচখ-এর অভিপ্রায় সম্পর্কে জানার পরেও, কর্তৃপক্ষ চচখ-কে জবাবদিহিতার আওতায় আনতে এবং সরকারি তহবিলের অপব্যবহার রোধে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি; যার ফলে এমন একটি জালিয়াতি প্রক্রিয়া গড়ে উঠেছে যা আজও অব্যাহত রয়েছে। এই মামলার মাধ্যমে বিবাদীদের সিডিপ্যাপ কর্মসূচি সম্পর্কে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো এবং চুক্তির শর্তবহির্ভূতভাবে আমেরিকান করদাতাদের কাছ থেকে লক্ষ লক্ষ ডলার অর্থ আদায় করা থেকে বিরত রাখার আদেশ চাওয়া হয়েছে।

সিডিপ্যাপ হলো একটি মেডিকেইড কর্মসূচি, যার আওতায় প্রতিবন্ধী বা গুরুতর স্বাস্থ্যগত প্রয়োজনসম্পন্ন মেডিকেইড রোগীদের বাড়িতেই সাধারণ পরিচর্যাকারীদের (লে কেয়ারগিভার) মাধ্যমে সেবা প্রদান করা হয়। ২০২৪ সালের বসন্তকালে নিউ ইয়র্কের আইনসভা একটি আইন পাস করে, যার মাধ্যমে সিডিপ্যাপ-এর ব্যবস্থাপনা কার্যক্রমকে শত শত বিদ্যমান 'ফিসকাল ইন্টারমিডিয়ারি' বা আর্থিক মধ্যস্থতাকারীর হাত থেকে সরিয়ে একটিমাত্র সংস্থার অধীনে নিয়ে আসা হয়; এর ফলে এটি দেশের অন্যতম লাভজনক মেডিকেইড কর্মসূচি পরিচালনার চুক্তিতে পরিণত হয়। মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে যে, যদিও নিউ ইয়র্ক কর্তৃপক্ষ ২০২৪ সালের গ্রীষ্মকালে একক আর্থিক মধ্যস্থতাকারী নির্বাচনের জন্য একটি সুষ্ঠু দরপত্র প্রক্রিয়া পরিচালনার দাবি করেছিল, বাস্তবে তারা একটি সাজানো বা নামমাত্র প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পিপিএল-কে এই বিলিয়ন ডলারের চুক্তির জন্য আগেই নির্বাচিত করে রেখেছিল এবং শেষ পর্যন্ত ২০২৪ সালের শেষের দিকে পিপিএল-কেই এই কাজ দেওয়া হয়।

মামলায় আরও অভিযোগ করা হয়েছে যে, পিপিএল-এর কার্যক্রম হস্তান্তরের প্রক্রিয়াটি কবে নাগাদ সম্পন্ন হবে-সে বিষয়ে পিপিএল এবং নিউ ইয়র্ক কর্তৃপক্ষ বারবার জনগণের কাছে জেনেশুনে বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়েছে। তারা ইচ্ছাকৃতভাবে এই বিষয়টি গোপন করেছে যে, চুক্তির শুরু থেকেই উভয় পক্ষই জানত যে ১লা এপ্রিল, ২০২৫-এর (অর্থাৎ চুক্তিতে নির্ধারিত সময়সীমার) মধ্যে এই স্থানান্তর প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার সম্ভাবনা কম এবং এর ফলে রোগীদের সেবায় মারাত্মক ব্যাঘাত ও সারা রাজ্যের রোগীদের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। আরও উদ্বেগের বিষয় হলো, কোনো ব্যাখ্যা ছাড়াই পিপিএল এবং নিউ ইয়র্ক কর্তৃপক্ষ চুক্তির আওতায় পিপিএল-এর প্রাপ্য আয় ও মুনাফার ওপর আরোপিত গুরুত্বপূর্ণ সীমাবদ্ধতাগুলো উপেক্ষা করেছে; অথচ সিডিপ্যাপ স্থানান্তর প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ সাশ্রয়ের মূল লক্ষ্য অর্জনে এই সীমাবদ্ধতাগুলো ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

পিপিএল যাতে চুক্তির শর্ত মেনে চলে তা নিশ্চিত করা এবং আমেরিকান করদাতাদের স্বার্থ রক্ষা করার পরিবর্তে, নিউ ইয়র্ক কর্তৃপক্ষ পিপিএল -কে সিডিপ্যাপ কর্মসূচি থেকে লক্ষ লক্ষ ডলার অতিরিক্ত আয় হাতিয়ে নেওয়ার সুযোগ করে দিয়েছে। তারা এমন সব ঘণ্টাভিত্তিক হারে বিল করার অনুমতি দিয়েছে যা চুক্তি স্বাক্ষরের আগে নিউ ইয়র্ক কর্তৃপক্ষের প্রত্যাশার চেয়ে অনেক বেশি ছিল। পিপিএল -এর নিজেদের স্বার্থসিদ্ধির প্রবণতা এবং চুক্তির শর্তাবলী মেনে চলতে বাধ্য করার ক্ষেত্রে নিউ ইয়র্ক কর্তৃপক্ষের ব্যর্থতার ফলে, সিডিপ্যাপ স্থানান্তর প্রক্রিয়ার মাধ্যমে যে অর্থ সাশ্রয়ের আশা করা হয়েছিল, তা মূলত ভেস্তে গেছে। এখন পর্যন্ত, নিউ ইয়র্ক এবং পিপিএল বারবার এবং ইচ্ছাকৃতভাবে জনসাধারণ ও নিউ ইয়র্ক আইনসভাকে সিডিপ্যাপ রূপান্তর প্রক্রিয়ার গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো সম্পর্কে বিভ্রান্ত করেছে; এর মধ্যে পিপিএল ও নিউ ইয়র্ক কর্তৃক কর্মসূচিটির চরম অব্যবস্থাপনার বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত।

সিভিল ডিভিশনের ‘এনফোর্সমেন্ট অ্যান্ড অ্যাফারমেটিভ লিটিগেশন ব্রাঞ্চ’ এই মামলাটি তদন্ত করেছে। সহকারী পরিচালক প্যাট্রিক রাঙ্কল এবং ট্রায়াল অ্যাটর্নি ফ্রাান্সিসকো উঙ্গার ও শিমেন ঝাং এই মামলাটি পরিচালনা করছেন।
উল্লেখ্য, সিডিপ্যাপ সেবা এককভাবে পিপিএল’র হাতে চলে যাওয়ায় বাংলাদেশি মালিকানাধীন হোম কেয়ার সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান সহ শতশত ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্থ হন। 
হোম কেয়ার বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আদালতে অনিয়ম প্রমাণিত হলে পিপিএল এর  সিডিপ্যাপ লাইসেন্স বাতিল হতে পারে।
পিপিএল ও নিউইয়র্কের স্বাস্থ্য বিভাগ আদালতে আনীত সকল অভিযোগ অসত্য বলে অভিহিত করেছে।