শনিবার   ২০ জুন ২০২৬   আষাঢ় ৫ ১৪৩৩   ০৪ মুহররম ১৪৪৮

আমার দেখা ওয়ার্ড কাপ

দারা আবু জোবায়ের

সাপ্তাহিক আজকাল

প্রকাশিত : ১২:৩২ এএম, ২০ জুন ২০২৬ শনিবার


    

১৯৯০ সাল থেকে টানা দশ বছর বিশ্বকাপ ম্যাচ মাঠে থেকে দেখেছেন বাংলাদেশের এক সময়য়ের আলোচিত ফুটবলার, কানাডা ও আমেরিকান প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির পরিচিত মুখ দারা আবু জোবায়ের। সেই অভিজ্ঞতা থেকে এবারে ত্রিদেশীয় যুক্তরাষ্ট্র-কানাডা-মেক্সিকো বিশ্বকাপ নিয়ে লিখছেন আজকালে।

আমি ঢাকা প্রথম বিভাগের ফুটবলার ছিলাম, বিআরটিসি ও চট্টগ্রাম আবাহনীতে খেলেছি। অনুর্ধ ১৮ বাংলাদেশ দলেও খেলেছি। কিন্তু পায়ে ব্যাথা পাওয়ায় আর খেলা হয়নি। ১৯৮৬ সালে কানাডা প্রবাসী হই। ৯০’র দশক থেকে কানাডার স্থায়ী বাসিন্দা হই। যেহেতু নিজে খেলোয়াড় ছিলাম এবং পরিবারও খেলার প্রতি অনুরাগী, তাই খেলার প্রেম আর ছাড়তে পারলাম না। বিশ্বকাপের মতো বড়ো আসর তো মিস করা যায় না। সেই ৯০ বিশ্বকাপে প্রথম বিশ্বকাপ দেখা শুরু ইতালিতে, এরপর ৯৪ সালে ইউএস, ৯৮ ফ্রান্স, ২০০২ কোরিয়া জাপান, ২০০৬ জার্মান, ২০১০ দক্ষিণ আফ্রিকা, ২০১৪ ব্রাজিল, ২০১৮ রাশিয়া ও ২০২২ সালে কাতার। এবার তো ২০২৬ বিশ্বকাপ নিজের আঙ্গিনা কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রে। এরই মধ্যে নিউজার্সি ও কানাডায় ম্যাচ দেখেছি। শীতের দেশের বেশ উষ্ণ পরিবেশ সৃষ্টি করেছে বিশ্বকাপ।

ফুটবল রক্তের সাথে মিশে আছে। একারণে বিশ্বকাপ দেখার ইচ্ছা মনে জাগে এবং তা ধীরে ধীরে নেশায় পরিণত হয়। আমার চোখে ১০টি বিশ্বকাপের মধ্যে উল্লেখযোগ্য বিশ্বকাপ ছিল ১৯৯৪ সালের  ইউএস বিশ্বকাপ ও ২০০২ -এর কোরিয়া জাপানের বিশ্বকাপ। ২০১৮ সালের রাশিয়া বিশ্বকাপ  ও ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপ। এগুলো ছিল সেরা।

এবার ২০২৬ সালে কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রের দুটি ভেনুতে দুটি খেলা বেশ আনন্দ দিচ্ছে। ৯৪ সালে যে বিশ্বকাপ ছিল তা ছিল অনেক সাদামাটা- কিন্তু ২০২৬ সালের বিশ্বকাপ অনেক প্রাণবন্ত এবং অর্থবহ। বিশেষ করে মেসির হ্যাট্রিক খেলাকে আরো আকর্ষণীয় করে তুলেছে।
আমি দল হিসেবে আর্জেন্টিনার ভীষণ বড় ফ্যান।  নিজে ফুটবলার হিসেবে বড় খেলোয়াড়দের সম্মান করি। সে দিক থেকে পেলে, ম্যারাডোনা ও মেসির ভক্ত। মেসির সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে দেখা হয়েছে। এবার নতুন ও অভিজ্ঞ মিলে অনেক প্রতিভাবান খেলোয়ার আছে। তার মধ্যে বিশ্বজয় করা লিওনেল মেসি, কিস্ট্রিয়ানোর রোনাল্ডো, মোহাম্মদ সালাহ,  কিলিয়ান এম্বাপে, নেইমার, হেরিক্যান ও লামিলে ইয়ামালের উপর চোখ থাকবে।

এবারই প্রথম ৪৮টি দল খেলছে। তবে নিজেরে জন্মভূমি বাংলাদেশের ফুটবল সে তালিকায় নেই এটা অনেক কষ্টের। র‌্যাকিংয়ে যে অবস্থা তাতে আমার এই জীবনে বিশ্বকাপে খেলার কোন সম্ভাবনাও দেখিনা। তবে আশার আলো হচ্ছে- বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশি বংশোদভূতরা এখন জাতীয় দলে যোগ দিচ্ছে।  সামনের দিকে বাংলাদেশের সম্ভাবনাও রয়েছে।

এবার বিশ্বকাপের স্বাগতিক তিন দেশের মধ্যে দুই দেশই তাদের নিজ নিজ প্রথম খেলায় জয় পেয়েছে। কানাডা ড্র করেছে। এটাও একটা উল্লেখযোগ্য বিষয়।

আসুন, আমরা বিশ্বকাপ মাঠে খেলা দেখতে না পারলেও বিভিন্ন মাঠ, বা ক্লাবে বা পার্কে বা বাসায় সম্মিলিতভাবে  খেলা দেখি ও নিজেরা খেলতে নামি।

খেলার টিকিট ও আনুষাঙ্গিক জিনিসের দাম খেলাপ্রেমিকদের একটু হতাশ করেছে। তবে বিশ্বকাপের এমন মহা-আসরে তেমনটা মেনে নেওয়া ছাড়া উপায়ও নেই।

বড়দের পাশাপাশি এবার অনেকের সম্ভাবনা আছে ভালো করার। আমার মনে হয় দ্বিতীয় রাউন্ডে যারাই উঠবে তারাই যোগ্য দল হিসেবে উঠবে। এশিয়ার দলগুলো ভালো করছে, তাদের খেলার অনেক উন্নতি করছে। তাদের দু-একটি কোয়ার্টার ফাইনালে উঠলেও অবাক হবো না।